“সারা বিশ্ব দেয় সেরার সন্মান, নিজের দেশে শুনতে হয় প্রতারক,” টক-শো’তে ওয়াসিম আক্রম উগড়ে দিলেন জমানো ক্ষোভ !! 1

‘সুলতান অফ স্যুইং’ বলতে সারা দুনিয়া এক ডাকে চেনে ওয়াসিম আক্রম’কে। পাকিস্তানের কিংবদন্তী বাঁ-হাতি বোলার পেস বোলিং’কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। গতি হোক বা স্যুইং-এর কারিকুরি, তাঁর চেয়ে ভালো পেস বোলার আজ অব্দি আসে নি ক্রিকেট মাঠে, একবাক্যে স্বীকার করেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। দেশের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন তিনি। জিতেছেন অনেক ট্রফি। এনে দিয়েছেন অনেক সন্মান। সারা বিশ্ব এই কিংবদন্তী’র বোলিং দক্ষতার সামনে মাথা নোয়ালেও নিজের দেশ পাকিস্তানে নাকি তাঁকে শুনতে নয় নানান খারাপ কথা? আজকের প্রজন্ম নাকি তাঁকে প্রতারক। ম্যাচ গড়াপেটায় যুক্ত বলে ডাকে। নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা এই ক্ষোচ অস্ট্রেলিয়ার একটি টক-শো’তে উগড়ে দিলেন প্রক্তন নাইট রাইডার্স বোলিং কোচ। অনেক জমানো দুঃখ ঝরে পড়েছে খোলামেলা এই আলোচনায়।

চোখ-ধাঁধানো কেরিয়ার আক্রমের-

Wasim Akram | image: twitter
Pakistan pacer Wasim Akram had a brilliant cricket career.

১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের সবুজ জার্সি গায়ে চাপিয়ে প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন আক্রম। প্রথম টেস্ট খেলেন তার পরের বছর। অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে। টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচ দুই ফর্ম্যাটেই তার মত সাফল্য আর কোনো ফাস্ট বোলার পান নি। নিজের প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে ৯০০’র বেশী আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১০৪ টেস্টে ৪১৪ টি উইকেত পেয়েছেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে ৩৫৬ ম্যাচে তুলেছেন ৫০২ টি উইকেট। আক্রমের বোলিং-এর বড় অস্ত্র ছিলো তাঁর রিভার্স স্যুইং। পেস বোলিং এর এই দুর্দান্ত শিল্পকলাটির যে কয়জন রূপকারের কথা বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচিত হয় তার মধ্যে একজন হলেন আক্রম। ১৯৯৬, ১৯৯৯ এবং ২০০৩ একদিনের বিশ্বকাপে তিনি পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজও বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে পেস বোলিং নিয়ে কথা হলে আসে আক্রম এবং তাঁর বোলিং পার্টনার ওয়াকার ইউনিসের নাম। ব্যাট হাতেও বেশ কার্যকরী ছিলেন আক্রম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫৭ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

“দেশে সন্মান পাই না” বলছেন ওয়াসিম আক্রম-

wasim akram | image: twitter
Wasim Akram said that the social media generation of Pakistan call him fixer without knowing the truth.

নিজের ক্রিকেট এবং ব্যক্তিগত জীবনে স্মৃতিচারণা করে একটি বই লিখেছেন আক্রম। বইয়ের নাম ‘সুলতানঃআ মেময়ার’। সেই বইটি নিয়ে আলোচনা করতেই অস্ট্রেলিয়ার একটি টিভি চ্যানেলের টক-শো’তে হাজির হয়েছিলেন পেস কিংবদন্তী। দেশ-বিদেশ, ক্রিকেট জীবন, ব্যক্তিগত জীবন সহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেন সঞ্চালকের সাথে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, সদ্যসমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপ, এমনকি ১৯৯২ একদিনের বিশ্বকাপ, যেখানে ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়ে ট্রফি জিতিয়েছিলেন আক্রম, সবকিছুই উঠে আসে আলোচনায়। তবে তাঁর মূল্যায়ন কেমন হয়েছে পাকিস্তানে? এই নিয়ে আলোচনায় খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারতের মত যত ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ আছে সেখানে সর্বকালের সেরা বোলারদের তালিকা তৈরি হলে আমার নাম আলোচনায় আসে। কিন্তু নিজের দেশে প্রাপ্য সন্মান পাই না।” নতুন প্রজন্মের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। “এই নতুন ইন্টারনেট প্রজন্ম সঠিকটা না জেনেই আমার দিকে আঙুল তোলা, বলে আমি প্রতারক, ম্যাচ গড়াপেটা করেছি। অন্যের কথায় ব্যথা পাই না আর, সেই সময়টা পেরিয়ে এসেছি। তবে শুনতে ভালো লাগে না।”

দেখে নিন আক্রমের সাক্ষাৎকারটি-

গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছিলো আক্রমের বিরুদ্ধে-

Wasim Akram | image: twitter
Akram became a villain in Pakistan after missing the quarterfinal against India in 1996 World Cup.

১৯৯৬ একদিনের বিশ্বকাপ চলাকালীন বড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ওয়াসিম আক্রম।  ভারতের বিপক্ষে চোতের জন্য খেলতে পারেন নি পাকিস্তান অধিনায়জক আক্রম। বিতর্ক ওঠে চোট নয়, চোটের ভান করছেন তিনি। পরে দলের ফিলিও জানিয়েছিলেন কোনো ভনিতা নয়, সত্যিই চোত পেয়েছিলেন তিনি। বোলার আতা-উর রহমান অভিযোগ করেন ৯০ এর দশকে ম্যাচ গড়াপেটা করার জন্য আক্রম নাকি তাঁকে ৩-৪ লক্ষ টাকা করে দিতে চেয়েছেন। এই অভিযোগে দীর্ঘদিন বিদ্ধ হন ওয়াসিম। তবে দীর্ঘ টালবাহানা’র পর বেকসুর খালাস পান তিনি। আতা-উর রহমান যদিও গড়াপেটার অভিযোগে আজীবন নির্বাসিত হন। আজ এতদিন পর পুরনো স্মৃতি ঘাঁটলেন ওয়াসিম। দেশবাসীর থেকে দাবী করলেন সন্মান।

Leave a comment

Your email address will not be published.