"অধিনায়ক আসবে-যাবে, কিন্তু ধোনির মতো কেউ হতে পারবে না", সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যেতেই সুর পাল্টালেন গৌতম গম্ভীর !! 1

অনেক আশা নিয়ে ভারতীয় দল অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলো টি-২০ বিশ্বকাপ(T20 World Cup) খেলতে। রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বে ভারত প্রায় ১৫ বছর পর আবার টি-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে এমনটা আশা করেছিলেন ১৪০ কোটি ভারতবাসী’ও। কিন্তু ফের একবার তীরে এসে তরী ডুবতেই দেখলেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী’রা। ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে এসে কপালে জুটলো হার। তাও হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে সন্মানের হার নয়। ভারত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ চারের মোকাবিলায় হারলো ১০ উইকেটে। আশা জাগিয়ে শুরু করছিলো ‘টিম ইন্ডিয়া।’ গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস এবং জিম্বাবুয়ে’কে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৮ পয়েন্ট নিয়ে কনফার্ম করেছিলো সেমিফাইনালের টিকিট। কিন্তু বিধি বাম। আরও একবার নক-আউট থেকে খালি হাতেই ফিরছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি’রা। গতকাল অ্যাডিলেডে ভারতের হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর নানান মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে কাটাছেঁড়া, চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপের পর অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বিরাট কোহলি’কে। বদলে রোহিত শর্মা’র হাতে তুলে দেওয়া হয় দলের দায়িত্ব। রোহিতের আইপিএল অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান দেখে মনে করা গেছিলো ট্রফি ভাগ্য ফেরাবেন তিনি। বাস্তবে তা হতে আর দেখা গেলো না। ভারত শেষ আইসিসি ট্রফি’র স্বাদ পেয়েছে ২০১৩ সালে। অধিনায়ক তখন মহেন্দ্র সিং ধোনি(MS Dhoni)। আজ টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে হাহুতাশ শোনা যাচ্ছে ক্রিকেটোদুনিয়ার অন্দরে। সকলের বক্তব্য এক, “আজ যদি ‘মাহি’ ক্যাপ্টেন হত, হয়ত এমন দিন দেখতে হত না। ” এই আবহেই ভাইরাল হয়েছে ভারতীয় কিংবদন্তী গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) এক মন্তব্য।

সেমিফাইনালে কার্যত উড়ে গেলো ভারত-

India vs England | image: Gettyimages
India suffered one of the heaviest defeats in their history against England at Adelaide on 10th Nov. 2022

অ্যাডিলেডে যে দল আগে ব্যাট করে তারা বেশী ম্যাচ জেতে, অ্যাডিলেডে যে টস জিতে নেয়, ম্যাচ তারা জেতে না। ইতিহাস বই ঘেঁটে নানান তথ্য খুঁজে বের করেছিলেন ক্রিকেটভক্তেরা ম্যাচ শুরুর আগে। ম্যাচে টস জেতে ইংল্যান্ড, আগে ব্যাট করে ভারত। এতদূর অব্দি ঠিকই ছিলো সব। বল মাঠে পড়তেই বদলে গেলো চিত্রনাট্য। ওপেনিং জুটি নিয়ে ভারতের সমস্যা চলছিলো আগে থেকেই। এদিন তা আবার ভোগালো ‘টিম ইন্ডিয়া’কে। শুরুতেই আউট হলেন কে এল রাহুল। রোহিত শর্মা গোটা টুর্নামেন্টে নড়বড়ে ছিলেন । সেমিফাইনালে সময় নিলেন, কিন্তু তাও পেলেন না বড় রান। ২৮ বলে ২৭ টি-২০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে বলার মত কোনো ইনিংস নয়। চললেন না সূর্যকুমার’ও। মিস্টার ৩৬০’র দিকেই তালিয়ে ছিলেন সকলে। আদিল রশিদ’কে লং অফ গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বসেন সূর্য। ভারত’কে টানলেন সেই কোহলি আর হার্দিক পান্ডিয়া। বিরাট ৪০ বলে করলেন ৫০ রান আর ধুন্ধুমার ব্যাটিং দেখিয়ে ৩৩ বলে ৬৩ করলেন হার্দিক। চলতি বিশ্বকাপে ২৯৬ রান হলো বিরাটের। ২০২৪, ২০১৬সালের মত আরও একবার ব্যর্থ হলো তাঁর লড়াই। “বল হাতে আমরা মাঠে উপস্থিত’ই ছিলাম না” ম্যাচ শেষে বলেছেন রোহিত শর্মা। ভুল কিছু বলেন নি। ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটির সামনেই ভেসে গেলেন ভুবনেশ্বর, শামি, অশ্বিন’রা। এক উইকেট’ও তুলতে পারেন নি ভারতের বোলার’রা। হেলস করেন ৮৭৬*, এবং বাটলার ৮০ রান করে থাকেন অপরাজিত। মাত্র ১৬ ওভারে জয়ের লক্ষ্যমাত্র পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটে হেরেছিলো ভারত। ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা গেলো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান যেখানে প্রায় বিদায়ের মুখে গিয়েও দুর্দান্ত কামব্যাক করে বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেলো, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভারত ‘চোক’ করায়, ক্ষুব্ধ অনেকেই।

ধোনির আমলে সোনালি সময় নিয়ে মন্তব্য গম্ভীরের-

Team India 2007 | image: Twitter
Team India defied all odds and emerged victorious at the 2007 T20 World Cup in South Africa under MS Dhoni’s captaincy.

মহেন্দ্র সিং ধোনি যখন ভারতের নেতা হয়েছিলেন ২০০৭ একদিনের বিশ্বকাপে হতশ্রী পারফর্ম্যান্সের পর ভারতীয় ক্রিকেট তখন অন্ধকারে। নতুন শুরু হতে চলা টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত এক তরুণ দল পাঠায়। তার দায়িত্ব নেন ‘মাহি।’ কেউ ‘ফেভারিট’ ভাবেন নি ভারত’কে। কিন্তু সকল হিসেব উলটে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে। শুরু হয় ‘ধোনি যুগ।’ এরপর ২০১১ একদিনের বিশ্বকাপ। দেশের মাটিতে বিজয়ীর শিরোপা ওঠে ভারতের মাথায়। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রায় হেরে যাওয়া ফাইনাল ঠিক সময়ে ঈশান্ত শর্মা’কে বল করিয়ে জিতে নেন ধোনি(MS Dhoni)। তাঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে ধোনি প্রথম এবং একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে ৩ টি আইসিসি ট্রফি জয়ের রেকর্ড করেন। ‘মাহি’র দীর্ঘ সময়ের সতীর্থ এবং ২০০৭ এবং ২০১১তে দুই বিশ্বকাপ জয়ের কারিগর গৌতম গম্ভীর(Gautam Gambhir) তাঁকে নিয়ে বলতে গিয়ে এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। গৌতি বলেন, “ধোনির ৩ খানা আইসিসি ট্রফি জয়ের রেকর্ড চিরকাল টিকে থাকবে, কেউ ছুঁতে পারবে না।” একের পর এক আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের ব্যর্থতা যেন সেই কথা’ই প্রমাণ করছে। কেনো অর্শদীপ’কে পাওয়ার প্লে’তে দ্বিতীয় ওভার দেওয়া হলো না? কেনো স্পিন সহায়ক, মন্থর পিচ দেখেও ভারত যজুবেন্দ্র চাহালের মত ‘ম্যাচ উইনার’কে দলের বাইরে রাখলো সেসব নিয়ে আক্রমণের মুখে অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ম্যাচ শেষে নিজের ঘাড়ে দায় না নিয়ে রোহিত চাপিয়েছেন বোলার’দের ওপর। তা নেতাসুলভ কিনা, সে নিয়েও প্রশ্ন অনেকের। আজ ধোনি থাকলে কি এই দিন আসত? তিনি কি বাইরে রাখতেন চাহাল’কে? উত্তর নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা’ই বেশী। অধিনায়ক ধোনির আমলে ভারতের সোনালি সময় মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ব্যস্ত ভারতের ক্রিকেটমহল।

Leave a comment

Your email address will not be published.