PAK vs NZ: সিডনি’তে ‘সবুজ বিপ্লব’, কামব্যাকের মহাকাব্য লিখে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তান, আবার স্বপ্নভঙ্গ নিউজিল্যান্ডের !! 1

PAK vs NZ: টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে সিডনি’তে আজ মুখোমুখি হয়েছিলো নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তান। এক দল গত টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, চলতি বিশ্বকাপে শুরুই করেছিলো বিরাট ব্যবধানে জয় দিয়ে, আরেকদল অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের শেষ চারে। যুযুধান দুই দলের যাত্রাপথ সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও ভাগ্যের খেলায় তারা দাঁড়িয়ে একই মেরুতে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যোগ্যতা অর্জন করেছিলো কিউই’রা। আর প্রথম দুই ম্যাচ হেরে প্রায় টুর্নামেন্টের বাইরে বেরিয়ে গিয়েও কিছুটা নিজেদের পারফর্ম্যান্স আর খানিকটা দৈবের সাহায্য নিয়ে শেষ চারের টিকিট জুটেছিলো  পাকিস্তানের ভাগ্যে । তবে ক্রিকেট ‘গ্লোরিয়াস গেম অফ আনসার্টেনটি’, এখানে ফলাফল নির্ধারিত হয় এক নির্দিষ্ট দিনের পারফর্ম্যান্সের ভিত্তি’তে। আরও একবার প্রমাণ হলো তা। নিউজিল্যান্ড’কে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেলো পাকিস্তান। গতবছর ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিলো, কেন অ্যান্ড কোম্পানি চেয়েছিলো কাপ আর ঠোঁটের দূরত্ব ঘোচাতে,এবারও বদলালো না ছবিটা। আর বাবরের লক্ষ্য ছিলো নিজেদের দ্বিতীয় লাইফলাইন কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় টি-২০ বিশ্বকাপ ঘরে তোলা,আজকের ম্যাচ জিতে সেই দিকে আরও এক পা এগিয়ে গেলো টিম পাকিস্তান।

পাক বোলিং বিক্রমে স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড-

PAK vs NZ: সিডনি’তে ‘সবুজ বিপ্লব’, কামব্যাকের মহাকাব্য লিখে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তান, আবার স্বপ্নভঙ্গ নিউজিল্যান্ডের !! 2

সহজ হবে না ম্যাচ, মনে করা হয়েছিলো। প্রথম বলেই ফিন অ্যালেন শাহীন শাহ আফ্রিদি’কে লং অন বাউন্ডারিতে পাঠান। না ঘাবড়ে গুড লেন্থ স্ট্র্যাটেজি’তে ভরসা রেখেছিলেন শাহীন। পেলেন ফল’ও। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ’র সাহায্যে বেঁচে যান অ্যালেন। কিন্তু তৃতীয় বলেই আবার তাঁকে লেগ বিফোর করেন শাহীন(Shaheen Shah Afridi)। কিউইদের প্রধান ভরসা ডেভন কনওয়ে’ও রান চুরি করতে গিয়ে শাদাব খানের দারুণ থ্রো’তে রান আউট হন।  ২০ বলে ২১ এর বেশী এগোতে পারেন নি তিনি। মহম্মদ নওয়াজের বলে যখন ৬ রান করে আউট হন গ্লেন ফিলিপস কিউই ইনিংস তখন বেশ চাপে। চাপমুক্তি কিছুটা করলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ধুন্ধুমার ব্যাটিং না করলেও ৪২ বলে ৪৬ রানের দায়িত্ববান ইনিংস খেললেন অধিনায়ক। রানগতি বাড়ানোর কাজ’টা করলেন ড্যারিল মিচেল। ৩টি চার এবং ১ টি ছক্কার সাহায্যে প্রায় ১৫২ স্ট্রাইক রেটে ৩৫ বলে ৫৩ করলেন তিনি। কেন আউট হওয়ায় শেষের দিকে নেমে ১২ বলে ১৬ করলেন জেমস নীশম’ও। অন্যান্য দিনের মতই পাক বোলিং-এর প্রধান তারকা আজও শাহীন শাহ আফ্রিদি। ২ উইকেট নিলেন তিনি। শুরুতে বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও শেষমেশ ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৫২ তুলতে পেরেছিলো নিউজিল্যান্ড। সিডনি মাঠের গড় প্রথম ইনিংস স্কোর ১৬৫’র আশেপাশে। সেখানে নিউজিল্যান্ডের রান কি যথেষ্ঠ হবে কিনা প্রথম ইনিংসের শেষেই উঠতে শুরু করেছিলো প্রশ্ন। আশঙ্কাই সত্যি হলো। পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির বিক্রমের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো কিউইদের কাপ স্বপ্ন।

ফর্মে ফিরলেন বাবর-রিজওয়ান,কোনো জবাব নেই বোল্ট’দের কাছে-

PAK vs NZ: সিডনি’তে ‘সবুজ বিপ্লব’, কামব্যাকের মহাকাব্য লিখে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তান, আবার স্বপ্নভঙ্গ নিউজিল্যান্ডের !! 3

দিন’টা ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’দের নয় বোঝা গিয়েছিলো পাকিস্তান ইনিংসের শুরুতেই। পাক  অধিনায়ক বাবর আজমের ক্যাচ ছাড়েন ডেভন কনওয়ে। পাকিস্তান দল যেভাবে চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছে, সেভাবেই দ্বিতীয় সুযোগ পেয়ে জ্বলে উঠলেন বাবর। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ফর্ম নিয়ে অনেক কাটাছেঁড়া হয়েছে। সব সমালোচনা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৪২ বলে ৫৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে যখন ফিরছেন পাক অধিনায়ক স্কোরবোর্ডে তখন ১০৫। ম্যাচ জয়ের দোরগোড়ায় এসে বাবর উইকেট হারালেও মহম্মদ হ্যারিসের সাথে জুটি গড়ে ক্রিজে ছিলেন মহম্মদ রিজওয়ান। ৪৩ বলে ৫৭ করে তিনিও বোল্টের শিকার হন। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর থেকে প্রতি ম্যাচে নজর কেড়েছেন মহম্মদ হ্যারিস। আজও অন্যথা হলো না। তাঁর ৩০ রানের ইনিংস’টি পাকিস্তানের কাছে অমূল্য হয়ে থাকবে। ঊনিশতম ওভারের শেষ বলে হ্যারিস আউট হলেও জয় পেতে কোনো সমস্যা হয় নি পাকিস্তানের। আজকের জয় পাক দল’কে পৌঁছে দিলো টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। এক সপ্তাহ আগে যে দল’কে নিয়ে হাসি ঠাট্টায় মেতেছিলো ক্রিকেটদুনিয়া, বলা হচ্ছিলো করাচি বিমানবন্দরের টিকিট পাকা বাবর, রিজওয়ানদের, আজ তারাই ট্রফি থেকে মাত্র এক পা দূরে। মেলবোর্নে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিলো টিম পাকিস্তান। ‘কামব্যাক’-এর এক দুর্দান্ত বীরগাথা লিখে সেই মেলবোর্নেই ফাইনাল খেলবে তারা। প্রথম ম্যাচে হার জুটেছিলো শাহীন’দের কপালে, ফাইনালে কি বদলাবে ছবি’টা? অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, মেলবোর্নের মাঠেই জেতা ১৯৯২ বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করে আশাবাদী হতেই পারেন পাকিস্তানের সমর্থকেরা।

Leave a comment

Your email address will not be published.