ছোটো ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সামলে অটোচালকের ছেলে আইপিএল নিলামে রাতারাতি কোটিপতি 1

আইপিএল বেশকিছু খেলোয়াড়ের জীবন বদলে দিয়েছে। এমন বেশকিছু খেলোয়াড় যখন আইপিএলে এসেছেন ত যথেষ্ট গরীব ছিলেন, কিন্তু আইপিএলে খেলতেই তারা টাকা আর নাম দুই রোজগার করেছেন। সেই খেলোয়াড়দের মধ্যেই একজন এই মরশুমে রাজস্থান রয়্যালসের সদস্য হয়েছেন। যার বাবা অটোচালক ছিলেন, অন্যদিকে কিছুদিন আগেই তার ছোট ভাই আত্মহত্যা করেছিলেন।

অটো চালকের ছেলে হলেন কোটি পতি

ছোটো ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সামলে অটোচালকের ছেলে আইপিএল নিলামে রাতারাতি কোটিপতি 2

আইপিএল ২০২১ এর নিলামে রাজস্থান রয়্যালস এমন একজন খেলোয়াড়ের জন্য ১.২০ কোটি টাকা খরচা করেছে, যিনি না শুধু একজন গরীব পরিবারের সন্তান বরং এই মুহূর্তে তিনি শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা কথা বলছি চেতন সকারিয়ার ব্যাপারে যিনি আগামী আইপিএল মরশুমে রাজস্থান রয়্যলসের জার্সি পড়বেন। চেতন সাকারিয়ার বাবা একজন অটোচালক ছিলেন, তবে যখন চেতন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন তো তিনি অটো চালানো ছেড়ে দেন।

চেতন সাকারিয়া আইপিএল নিয়ামে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন তাও তিনি দুঃখের মধ্যে রয়েছেন। আসলে গত মাসেই তিনি নিজের ছোটভাইকে হারিয়েছেন। ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাকারিয়া জানিয়েছেন যে আইপিএল নিলামে ১কোটি ২০ লাখ টাকার অপ্রত্যাশিত বিড তার জীবন বদলে দেবে, কিন্তু তিনি তার ছোটভাইকে হারানোর পর এখনও একাকীত্ব অনুভব করছেন।

ছোটভাই গতমাসে করেছিলেন আত্মহত্যা

ছোটো ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সামলে অটোচালকের ছেলে আইপিএল নিলামে রাতারাতি কোটিপতি 3

আইপিএলে মোটা দামে বিক্রি হওয়ার পর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া ইন্টারভিউতে সাকারিয়া জানিয়েছেন, “আমার ছোটভাই জানুয়ারি মাসে সুইসাইড করেছে, আমি বাড়িতে ছিলাম না, আমি সেই সময় সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি খেলছিলাম। বাড়ি ফেরা পর্যন্ত আমি জানতামই না যে ও আর নেই। তখনও আমার পরিবার আমাকে এক খবর দেয়নি। আমি ওদের কাছে রাহুলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতাম, আর ওরা আমাকে বলত যে ‘ও বাইরে গিয়েছে’, ওর অনুপস্থিতি আমার জন্য ভীষণ একাকীত্বের। যদি ও আজ এখানে থাকত তো আমার চেয়ে বেশি খুশি হত”।

সহজ ছিল না সাকারিয়ার সফর

ছোটো ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সামলে অটোচালকের ছেলে আইপিএল নিলামে রাতারাতি কোটিপতি 4

ক্রিকেট কেহ্লা স্বপ্ন দেখা সাকারিয়ার জন্য এখনও পর্যন্ত তার সফর ততটা সহজ ছিল না। তার মোতাবেক দুই বছর আগে পর্যন্ত তার বাবা কাঞ্জিভাই টেম্পো চালাতেন। তার পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল যে তাদের কাছে ৫ বছর আগে পর্যন্ত টিভিসেটও ছিল না।
তার বক্তব্য যে তাকে ক্রিকেট দেখার জন্য হয় বন্ধুর বাড়িতে যেতে হত বা ইলেকট্রনিকের শো রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখতে হত। কিন্তু যবে থেকে তিনি ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন তবে থেকে তার জীবন বদলে গিয়েছে। গত আইপিএল মরশুম চলাকালীন সাকারিয়া আরসিবির নেটস বোলার ছিলেন, এই ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি আশা করছিলাম যে এইবার আমি ওখানে থাকব, কারন যখন আমি ইউএই-তে আইপিএল চলাকালীন আরসিবির জন্য নেট বোলার হিসেবে গিয়েছিলাম, তো আরসিবির কোচ মাইক হেনস আর সাইমন কাটিচ আমাকে জানিয়েছিলেন যে আমি যে কোনো আইপিএল দলের অংশ হওয়ার জন্য সমস্ত বক্স টিক মেরে ফেলেছি। আরসিবির আমার জন্য চেষ্টা করেনি, কিন্তু যে কোনো দলের জন্য নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য খুশির বিষয়। আমার বাবা কখনও চাননি যে আমি ক্রিকেটার হই, কিন্তু সেই সময় আমার কাকা মাঝে পড়েন আর আমি যখন সৌরাষ্ট্রের নিয়মিত বোলার হয়ে যাই তো তিনি আবার বাবাকে কাজ ছাড়ার অনুরোধ করেন”।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *