আইসিসির CEO মনু সাহানি দিলেন ইস্তফা, বিবৃতি জারি আইসিসির 1

আইসিসির দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানা গেছে যে তাদের সিইও মনু সাহানিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। একটি খবরসূত্রে জানা গেছে যে বিশ্ব ক্রিকেটের কার্যকারক সংস্থাটি তাদের সিইওর পদ থেকে সাহানির পদত্যাগ দাবি করে তাকে গতকাল জানিয়ে দেয়। সাহানিকে ও বলা হয় যে তাকে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে।

আইসিসির CEO মনু সাহানি দিলেন ইস্তফা, বিবৃতি জারি আইসিসির 2

আইসিসির এই সিদ্ধান্ত গ্রেগ বার্কলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের মিটিং চলাকালীন নেওয়া হয়। মিটিংটি শেষ হওয়ার পরে আইসিসির তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা সম্পর্কে সবাইকে ওয়াকিবহাল করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “সিইও সাহানিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা ছেড়ে চলে যেতে হবে। ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসাবে আলারডাইস বোর্ডের সাথে সাহানির ছেড়ে যাওয়া পদে আসীন হবেন এবং সমস্তরকম দায়িত্ব পালন করবেন।”

কিছুদিন আগে সাহানি আইসিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক এই সংস্থা তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। তিনি এও বলেন যে আইসিসি অনেক ক্ষেত্রেই ভুল এবং অনুচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের কাজে দূরদর্শিতার অভাব খুব স্পষ্টভাবেই দেখা গেছে। এরপরেই আইসিসি সাহানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যকরী কমিটির বৈঠক ডাকে এবং তাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইসিসির CEO মনু সাহানি দিলেন ইস্তফা, বিবৃতি জারি আইসিসির 3

এর আগেও সাহানির উপরে দুরাচার করার আরোপ লেগেছে এবং তাকে এই ব্যাপারে সতর্কও করা হয়েছে। প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের তরফ থেকে করা একটি বিশেষ সমীক্ষাতে পাওয়া কিছু তথ্যের প্রেক্ষিতে সাহানিকে এই বছর মার্চ মাসে ছুটিতে পাঠানো হয়। এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে যে যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে, সেই মনু সাহানির কাছ থেকে এই ব্যাপারে এখন অব্দি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মনু সাহানি যে সব অভিযোগ এনেছিলেন ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার বিরুদ্ধে, সেই ব্যাপার নিয়েও এখনো মুখ খোলেনি আইসিসি।

যদিও এর আগেও সাহানি আইসিসির বিরুদ্ধে কথা বলার সময় এই কথা স্পষ্ট করে দেন যে তার বিরুদ্ধে আইসিসি চক্রান্ত করছে এবং তারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাকে নিয়ামক সংস্থা থেকে বের করে দেওয়ার। এই প্রসঙ্গে সাহানি এও বলেন যে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সেগুলির কোনোটাই তিনি মানতে নারাজ।

সাহানিকে ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারী আইসিসির সিইও পদে নিযুক্ত করা হয়। তার আগে তিনি সিঙ্গাপুর স্পোর্টস হুবের সিইও এবং ইএসপিএন ষ্টার স্পোর্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে আসীন ছিলেন। তাকে পূর্ববর্তী সিইও ডেভিড রিচার্ডসনের জায়গায় নিযুক্ত করা হয় এবং তার কার্যকাল শুরু হয় আইসিসি বিশ্বকাপের পরে জুলাই মাস থেকে।

আইসিসির CEO মনু সাহানি দিলেন ইস্তফা, বিবৃতি জারি আইসিসির 4

সাহানি ইএসপিএন ষ্টার স্পোর্টসের সাথে দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে যুক্ত ছিলেন। আইসিসি তাকে সিইও নিযুক্ত করার পরবর্তী ভাষণে তিনি বলেন, “আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বিশ্ব ক্রিকেট সম্প্রদায়ের সেবা করা এক বিরাট সুযোগ এবং দায়িত্ব। এই খেলার এক বিলিয়নেরও বেশি অনুরাগী রয়েছেন। পাশাপাশি এই খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু উচ্চাভিলাষী বৃদ্ধির কৌশল রয়েছে, তাই এটি এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ সময়।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *