“ মাই নেম ইজ ওয়ার্নার, অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ…” অজি ওপেনারের বিস্ফোরক বয়ান, বোর্ডের বিরুদ্ধে ফাটালেন বোমা !! 1

একবিংশ শতকের ক্রিকেটে সেরা ওপেনারদের তালিকা বানাতে বসলে যে বাঁ-হাতি’র নাম উল্লেখ করতেই হবে তিনি ডেভিড ওয়ার্নার(David Warner)। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়ার্নার টেস্ট, একদিনের ম্যাচ হোক বা টি-২০, যে কোনো ফর্ম্যাটেই খেলছেন সাফল্যের সাথে। টেস্টে ত্রিশতরান হোক বা টি-২০ তে শতক, সবই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তাঁর ধুন্ধুমার ব্যাটিং-এর জন্য সমর্থকদের কাছের মানুষ ডেভিড(David Warner)। তবে সবসময় গোলাপের পাপড়ি বিছানো ছিলো না তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের যাত্রাপথটি। পানশালায় মারপিট থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নির্বাসন, সবই জুটেছে তাঁর কপালে। তবে ক্রিকেটবিশ্বকে সবচেয়ে  বেশী নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে বলবিকৃতি কান্ডে তাঁর জড়িয়ে থাকার ঘটনাটি। তৎকালীন অস্ট্রেলীয় সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নার তার পরে এক বছর ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ছিলেন। ফিরে এসে আবার রানে ফিরেছেন তিনি, তবে সেই ঘটনার ভার আজও তাড়া করে বেরায় তাঁকে। সম্প্রতি জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন ওয়ার্নার(David Warner)। তাঁর বিস্ফোরক বয়ান আবার জায়গা করে নিয়েছে খবর শিরোনামে।

ক্রিকেটের কলঙ্কজনক অধ্যায়, স্যান্ডপেপার গেট-

Sandpaper Gate | image: Twitter
Cricket Australia banned Warner, Smith and Bancroft after the ‘Sandpaper gate.’

কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে টেস্ট ম্যাচে স্যান্ডপেপার বা শিরীষ কাগজ দিয়ে ঘষে বলের আকার পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে দেখা যায় ক্যামেরন ব্যানক্রফট’কে। চার টেস্টের সিরিজে তৃতীয় টেস্ট ছিলো এটি। মাঠের মধ্যে অনৈতিক উপায় অবলম্বন করার সাজা হিসেবে ৯ মাস ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হন ব্যানক্রফট। একই সাথে সেই ম্যাচে দলের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার’কে(David Warner) ১ বছরের জন্য সবধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড। ওয়ার্নারের সাজা হয় আরও মারাত্মক। কোনরকম ক্রিকেটে কখনও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব করতে পারবেন না তিনি। ঘোষণা হয় তা।  সাংবাদিক বৈঠকে এসে ভেঙে পড়েন স্মিথ এবং ওয়ার্নার। দেশে বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার’রা। কেউ দাঁড়ান নি তাঁদের পাশে।

অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের টালবাহানায় শাস্তি একই রয়েছে ওয়ার্নারের-

David Warner | image: Twitter
David Warner was banned from captaining Australia ever again.

ডেভিড ওয়ার্নার(David Warner) কি আসতে চলেছেন নেতৃত্বের আসনে? কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটমহলে আলোচনা হচ্ছিলো বিষয়টি নিয়ে। অজিদের একদিনের দলের নেতা অ্যারন ফিঞ্চ একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় খালি হয়েছিলো অধিনায়কের পদটি। আগেকার শাস্তি তুলে নিয়ে কি ওয়ার্নার’কে(David Warner) অধিনায়কত্ব দেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া? অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছিলো প্রশ্ন’টি। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড। টেস্ট দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের হাতেই সঁপেছে একদিনের দলের ভার। দায়িত্ব নিয়ে ভালোই করছেন কামিন্স। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ২-০ এগিয়ে তাঁর দল। এর আগে একবার নির্বাসিত হলে বোর্ডের কাছে ক্রিকেটার’রা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচাওনার আর্জি জানাতে পারত না, তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রশাসন এই নিয়ম বদলেছে। ফলে এখন নির্বাসনের সিদ্ধান্ত আরো একবার ভেবে দেখার কথা বোর্ড’কে জানাতে পারেন কোনও ক্রিকেটার। নিজের ব্যবহারের পরিবর্তন বা কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেষ্টা করতে পারেন তাঁরা। একদিনের দলের নেতৃত্বের ব্যাপারে নাম বিবেচিত না হওয়ায় একতু অখুশি ওয়ার্নার(David Warner)। ইএসপিএন ক্রিকইনফো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “ আমি অপরাধী নই। কোনো না কোনো সময় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আমার পাওয়া উচিৎ। আমি বুঝতে পারছি ওরা (বোর্ড) আমায় নির্বাসিত করেছিলো। তবে কাউকে সারা জীবনের মত নির্বাসিত করা একটু বেশীই কঠিন সাজা বলে আমার মনে হয়।”

বোর্ডের আচরণ’কে দুর্ভাগ্যজনক বলছেন ওয়ার্নার-

David Warner | image: Twitter
David Warner called boards stand regarding the no captaincy policy ‘frustrating.’

নিজের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার(David Warner)। নিজের শাস্তি পুনর্বিবেচনার আর্জির শুনানী এখনও না হওয়ায় বেশ হতাশ তিনই। জানিয়েছেন, “ এটা বেশ হতাশাজনক। এতটা পথ আসতে আমাদের এত বেশী সময় লেগেছে। শাস্তি পুনর্বিবেচনার নিয়মটি ঘোষিত হয়েছে মনে হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে। আর এখন সেটি গৃহীত হচ্ছে,প্রায় নয় মাসের ব্যবধান মাঝে।  আমার ও আমার পরিবারের কাছে এটা বেশ দুঃখজনক একটা ব্যাপার। এটা নিয়ে রোজ কথা বলা বা চিন্তা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। যা ঘটেছিলো সেই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আর যেতে চাই না আমি। এই নিয়ম যখন আনা হয়েছিলো, তখনই কার্যকর করা হলে নয় মাস আগে আমরা মুক্ত হতে পারতাম হয়ত। এতাই হতাশার।” সেখানেই থামেন নি ওয়ার্নার। বোর্ডের আচরণ’কে রীতিমত দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন। জানিয়েছেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে ফিঞ্চি (অ্যারন ফিঞ্চ) অবসর নেওয়ার পর এই কাজটা অবশেষে গতি পেলো। যখন ২০১৮ তে নির্বাসনের সাজা দেওয়া হয়েছিলো মাত্র চার দিনে তা কার্যকর করা হয়েছিলো। তা বদলাতে যে নিয়ম আনা হলো তা কার্যকর করতেই বোর্ডের ৯ মাস লাগলো। আপনাদের মনে হতে পারে আমি অধিনায়কত্বের জন্য নিজের নাম ভাসিয়ে দিতে চাইছি, তবে আদপে তা সত্যি নয়।” হতাশা ঝরে পড়েছে ওয়ার্নারের(David Warner) গলায়।

Read More: “হার্দিককে অধিনায়ক করা ভিত্তিহীন”, রোহিত শর্মার সমর্থন করে বেফাঁস মন্তব্য করলেন প্রাক্তন পাকিস্তানি অধিনায়ক !!

Leave a comment

Your email address will not be published.