ধরমশালার সবুজ পিচে বেকায়দায় বাংলা 1

ধরমশালা, ২৭ অক্টোবর: ঠিকঠাক খেলতে পারলে ধরমশালার পিচে বড় রান তোলা সম্ভব বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে সেখানকার পিচে বেশ কিছুটা ঘাস থাকায় শুরুতেই বেশ চাপের মধ্যে বাংলার ব্যাটসম্যানরা। ধরমশালার বাইশ গজে ফাস্ট বোলাররা যে বাড়তি সাহায্য পাবেন, সেটা ম্যাচে নামার আগেই বলেছিলেন বাংলার কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। আর বৃহস্পতিবার রেলওয়েজের বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচে ঠিক সেই দৃশ্যই ধরা পড়ল। ধরমশালার গ্রিনটপে এ দিন অনুরীত সিং, করন ঠাকুরের মতো জোরে বোলারদের দাপটে নাজেহাল হতে হল বাংলার ব্যাটসম্যানদের। আর সেই ঝড়ের দাপটে প্রথম দিনেই ২০৫ রানের মধ্যে অল আউট হয়ে গেল মনোজ তেওয়ারির দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ধুঁকছে রেলওয়েজ শিবিরও। দিনের শেষে তাদের স্কোর ৪ উইকেটের বিনিময়ে ৩৭ রান।

এখন টেস্ট ম্যাচ নেই। তাই জাতীয় দল থেকে ছুটি পাওয়ায় এ দিন বাংলার জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন দেশের টেস্ট দলের উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা। কিন্তু ধরমশালার ‘আগুনে’ পিচে দলকে বিশেষ ভরসা দিতে পারলেন না বাংলার এই তারকা ক্রিকেটারটি। শূন্য রানে আউট হয়ে এ দিন প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন তিনি। তবে শুধু ঋদ্ধি নন, এ দিন দলের অধিনায়ক মনোজ তেওয়ারিও কোন রান করার আগেই অমিত মিশ্র’র বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে বৃহস্পতিবার এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দলের হয়ে ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়াতে সফল হন সুদীপ চ্যাটার্জি। তাঁর নজরকাড়া ৮৫ রানের দৌলতে শেষ পর্যন্ত একটি ভদ্রস্থ স্কোর করতে সক্ষম হয় বঙ্গ ব্রিগেড।

বাংলার হয়ে ব্যাট হাতে খানিকটা হলেও লড়াই করতে দেখা গিয়েছে অশোক দিন্দা (৩০), সায়নশেখর মন্ডল (২৫) ও অগ্নিভ পানকে (২৭)। অন্যদিকে, রেলওয়েজের হয়ে একাই চারটি উইকেট তুলে নেন অনুরীত সিং। তিনটি উইকেট পান অমিত মিশ্র। প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ভরাডুবির মধ্যে পড়তে হয় রেলওয়েজকেও। অশোক দিন্দার দুরন্ত ঝড় ও অমিত কুইলার ভয়ঙ্কর গতিতে রীতিমতো দিশা হারিয়ে ৩৭ রানের মধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট হারিয়ে ফেলেছে রেল শিবির। শুক্রবার সকালে বাংলা কেমন বল করে, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে এই ম্যাচের ভাগ্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *