আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন অজি ক্রিকেটার ব্র্যাড! 1

সিডনি, ৩১ অক্টোবর: আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্র্যাড হগ। তাও একবার নয়, চারবার এই ভাবনা তাঁর মনের মধ্যে ঝড় তুলেছিল।‌ স্ত্রী–র সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ২০০৮ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন হগ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটাই তাঁকে ভেতরে ভেতরে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সম্পর্কের বন্ধনটা ক্রমশই হয়ে উঠছিল গলার ফাঁস।‌ সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথাই উঠে এসেছে হগের আত্মজীবনী, ‘‌দ্য রং ওয়ান’‌–এ।

খেলা ছাড়ার পর পারিবারিক অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, অবসাদে ডুবে যাচ্ছিলেন হগ। শুরু করেছিলেন অতিরিক্ত মদ খাওয়া। সেই সময় যে চাকরি নিয়েছিলেন, সেখানেও শুরু হয়েছিল অশান্তি। খারপ দিনগুলির কথা আত্মজীবনীতে এড়িয়ে যাননি। উল্টে জানিয়েছেন, “প্রায়ই ফ্রিমেন্টালের দিকে রওনা হতাম। গাড়ি চালিয়ে। আর যেতে যেতে ভাবতাম, আমার জীবনে এগুলি কী ঘটছে!‌ তারপর পার্ক বিচে গাড়ি রেখে একা একাই হাঁটতাম। কখনও, কখনও সমুদ্রের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম। মনে হত, আমি বাঁধ পর্যন্ত বা পেরিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে এগিয়ে যাই। তারপর যদি ফেরার হয় ফিরব। না হলে, যা হওয়ার হবে। মনে হত, ভাগ্যে যা আছে, তাই হবে।”

হগের জন্য সেই সময়টা বেশ কঠিন ছিল। তিনি বলেন, “চারবার একই ভাবে ফ্রিমেন্টালে গিয়েছিলাম। আর যতবারই ওখানে গিয়েছিলাম, মনে হয়েছিল মারাত্মক কিছু করে ফেলি। ভয়ঙ্কর কিছু করে ফেলি। এভাবে যদি জীবন শেষ করে দিই, তাহলে কী হবে, বারবার ভেবেছি। এমন নেতিবাচক ভাবনা বারবার ঘুরে–ফিরে আসাটাই ছিল, ভয়ঙ্কর।” হগের এই আত্মজীবনী প্রকাশ করেছে ‌ফেয়ারফেক্স মিডিয়া।

হগের প্রাক্তন সতীর্থ মিচেল জনসন বইটি পড়ে সত্যিই মনে মনে ব্যথিত হয়েছেন। বলেছেন, “কাউকে টেলিভিশনে দেখে বোঝাই যায় না, তার মনের ভেতর আসলে কী চলছে।” তাই তো হগ বলেছেন, “ক্রিকেট ছিল আমার কাছে নেশার মতো। তাই ক্রিকেট নিয়েই বুঁদ হয়ে থাকতাম। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য সব সময় ছটফট করতাম। তবে আমি এটাও জানতাম, আমার প্রাক্তন স্ত্রীর স্বভাবটাই ছিল অদ্ভুত। ও একেবারেই পছন্দ করত না, ক্রিকেট নিয়ে আমার আবেগ, আমার পাগলামি।”

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *