সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন 'সেন্ট ভ্যালেন্টাইন' 1

বিশেষ প্রতিবেদন: কয়েক বছর আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রীয়তায় কোনও খামতি নেই, বিশেষ করে কলকাতা তথা বাংলায়।মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁর আক্রমনাত্মক মানসিকতাকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে এখনও আলোচনার বিষয়।মহারাজের তুমুল জনপ্রীয়তার আর একটি উদাহরন তুলে ধরা হল। যেখানে একটি যুগলের কাছে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।

ভ্যালেন্টাইন ডে-তে সকাল ৮টা নাগাদ বীরেন রায় রোডে সৌরভের বাড়ির সামনে এসে হাজির হয় এক তরুণী, যাঁর নাম পথিকা ভট্টাচার্য্য।সৌরভের বাড়ির সামনে সাধারন মানুষ অপেক্ষা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই অন্য লোকেরা ব্যাপারটিকে তেমন আমল দেয়নি।এদিকে অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পরে ‘দাদা’-কে দেখতে না পেয়ে, দুপুর একটা নাগাদ মেয়েটি কাঁদতে শুরু করে।তা দেখতে পেয়ে সৌরভের অফিসের একজন মহিলা ব্যাপারটি দাদার নজরে আনেন। উল্লেখ্য, শরীর খারাপ থাকায় অর্ঘ্য দাদার বাড়িতে আসতে পারেনি।

 

সৌরভকে জানানো হয়, পথিকা এসেছে বিষ্ণুপুর থেকে, যা কলকাতা থেকে প্রায় ১৫৭ কিলোমিটার দূরে।সে বিষ্ণুপুরের সারদাময়ী মহিলা বিদ্যাপিঠে, ইকোনমিক্সের ছাত্রী। পথিকা কিন্তু নিজের জন্য এখানে আসেনি, সে এসেছে তাঁর প্রেমিক অর্ঘ্যদীপ মুখোপাধ্যায়কে সারপ্রাইস দিতে। যে সৌরভের একজন অন্ধ-ভক্ত। ‘দাদা’র ছবি দিয়ে নিজের ঘরকে কার্যত একটা মিউজিয়াম বানিয়ে ফেলেছে অর্ঘ্য।সৌরভের সমস্ত কিছুই তার নখদর্পনে। তাই দাদার সঙ্গে দেখা করে, কথা বলে, ছবি তুলে বয়-ফ্রেন্ডকে চমকে দিতেই এখানে হাজির হয় পথিকা। সেই সঙ্গে করে এনেছিল একটি ব্যাট, অ্যাতলেটিকো দ্য কলকাতার জার্সি, অটোগ্রাফ প্যাড ইত্যাদি।

সব শুনে সৌরভ দেখা করেন পথিকার সঙ্গে। তাকে অটোগ্রাফ দেন, তার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। পাশাপাশি পথিকাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভিডিও মেসেজও দেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। আনন্দে আপ্লুত পথিকা বলেন, ‘আমি খেলাধুলার তেমন ভক্ত নই। তাই অর্ঘ্যর স্পোর্টস-আইডল নিয়ে আমার তেমন কোনও ধারনা ছিল না। কিন্তু ওর সঙ্গে সময় কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, সৌরভ ওর কাছে ভগবানের মত। তাই ওর জন্যই দাদার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এদিনের ঘটনাটা আমার জীবনে সবসময়ই স্মরনীয় ঘটনা হিসাবে মনের মনিকোঠায় থেকে যাবে।’

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন 'সেন্ট ভ্যালেন্টাইন' 2

আর বান্ধবীর এই ‘গিফট’ পেয়ে চুড়ান্ত অবাক হয়ে যাওয়া অর্ঘ্য বলেন, ‘আমার জীবনে সবচেয়ে স্মরনীয় ভ্যালেন্টাইন-ডে হল এদিন।এখনও ঘটনাটা অবিশ্বাস্য লাগছে।পথিকা, তোমাকে অনেক..অনেক.. ধন্যবাদ।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *