ক্যান্সারের পর আরও একটি মারণরোগকে হারালেন যুবি! 1

ক্যান্সারকে হারানোর পরেও পঞ্জাব কা পুত্তর যুবির জাতীয় দলে ফেরার কাজটা সত্যি খুব একটা সহজ ছিল না। মনে জাতীয় দলে ফেরার জেদ নিয়ে নিজেকে রীতিমতো অনুশীলনে ডুবিয়ে রেখেছিলেন তিনি। একটা সময় নিজেকে জাতীয় দলের উপযোগী করে তুলতে জাহির খানের সঙ্গে ফ্রান্সে পাড়ি দিয়েছিলেন ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য। তার পরেও তিনি যেন মাঠে কোনওভাবেই নিজের সেই আগের খেলার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মাঠে দিনের পর দিন এই ঘটনা একটা সময় তাঁকে চিন্তার মহাসাগরে নিক্ষেপ করেছিল। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঝে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নেওয়ার কথা তিনি ভেবেছিলেন।যেভাবে ক্যান্সারকে হারানোর জন্য তিনি দিনের পর দিন মানসিক লড়াই চালিয়েছিলেন, একইভাবে পরিবারের লোকজন এবং কাছের বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ‘লড়াই চালিয়ে যাওয়া’র মোরাল বুস্ট পেয়ে যুবিও জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে ‘মানসিক চাপ’ নামক নতুন রোগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লড়াই চালিয়ে যান।

অফ ফর্মের কারণে জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘদিন থাকার যন্ত্রণা যুবরাজ সিংকে কেমন যেন ভিতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। তিনি কেন জাতীয় দলে ফিরতে পারছেন না, এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভয়ে একটা সময় সবার সঙ্গে মেলামেশা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রুটিনমাফিক পরিবারের বেশকিছু সদস্য এবং কাছের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বাইরে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন কঠিন অনুশীলনে। তার ফলাফলও তিনি ক্রমে হাতেনাতে পেয়ে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে রঞ্জিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে রান পেতে থাকলেন। যেটা জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর এড়িয়ে যায়নি। ফলস্বরূপ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভার ক্রিকেট সিরিজে কোহলির দলে অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর আগমন ঘটল।

তবে শুধু আগমনই ঘটেনি, কটকে ব্রিটিশ বোলারদের রীতিমতো ব্যাট হাতে কচুকাটা করে ১২৭ বলে ১৫০ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলে যুবি এতদিন পর নিজের আসল রূপে ফিরলেন। দিনের শেষে তাঁর ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের কাঁধে ভর করে ভারত প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড়ে চড়ে বসে এবং আশানুরূপ ওই ম্যাচটি জিতে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও জয় নিশ্চিত করে। এতদিন পর এভাবে ব্যাট হাতে রুদ্ধমূর্তি ধারণ করে গোটা দুনিয়ার সামনে ফের নিজের ব্যাটিং জাত চেনানোর পাশাপাশি দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে যুবি মনে করছেন, এতদিনে তাঁর মস্তিকে বাসা বেঁধে থাকা ‘প্রচণ্ড মানসিক চাপ’ নামক রোগটিকেও হয়তো তিনি হারিয়ে দিলেন।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *