সচিন রমেশ তেন্ডুলকর শুধুমাত্র একজন ভারতীয় ক্রিকেটার নন, তিনি হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের রত্ন । ভারতীয়রা সচিন তেন্ডুলকরকে  “ক্রিকেট ঈশ্বর” বলে সম্বোধন করে । তবে সচিনের এই “ক্রিকেট ঈশ্বর” হয়ে ওঠার পথ মোটেও মসৃণ নয় । কঠোর পরিশ্রম এবং হার-না-মানা জেদের দ্বারা তিনি নিজেকে এই যোগ্য করে তুলেছেন ।

১৯৮৯ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করলেও; মূলত ১৯৯৪ সাল থেকে ধারাবাহিক সচিনকে বিশ্ব ক্রিকেটের দরবারে দেখতে পাওয়া শুরু হয় । সময়ের গতির সাথে তাল মিলিয়ে সচিন তেন্ডুলকর ধীরে ধীরে বিশ্ব বোলারদের সামনে ত্রাসকর রূপে সঞ্চার হন ।

এমনকি তৎকালীন বিশ্বসেরা বোলাররাও এই ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির ডানহাতি ব্যাটসম্যানটার কাছ থেকে নিস্তার পায় নি । কি নেই সেখানে ? ১৯৯৮-এ শেন ওয়ার্নের ওপর সচিনের সেই বিখ্যাত “শারজার মরু ঝড়” বা ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ধ্বংস করা । সচিন তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারে কোনো বোলারকে রেয়াত করেননি ।

২০০৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সচিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার চলছিল সুস্থির ভাবে কিন্তু তারপর “টেনিস এলবো” তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারকে এক অন্ধকার জগতে ঠেলে দিল । ২০০৪ সালে সচিনকে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হল এবং তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার ধীরে ধীরে শেষের মুখ দেখতে লাগল ।

এই কঠিন সময়ে সচিনকে শুনতে হল যে সে শুধু নিজের জন্য খেলে, দেশের জন্য নয় । ঘরের ছেলে হয়েও, মুম্বই দর্শকদের কাছে সচিনকে টিটকারি শুনতে হল । প্রাক্তন অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার এবং অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কমেন্টের ইয়ান চ্যাপেল সচিনের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করলেন এবং সচিনকে স্বার্থপর বলে সম্বোধন করলেন ।

২০০৫ সালে সচিন তাঁর চোটগ্রস্ত কনুইয়ের সফলভাবে অস্ত্রোপচার করালেন । তারপর ধীরে ধীরে তিনি আবার ক্রিকেট বিশ্বে পুরনো রূপে ফিরতে লাগলেন । বর্ধিত অভিজ্ঞতার সাথে সচিন আবারও মারাত্মক ব্যাটসম্যান হতে লাগলেন এবং আবার তিনি দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানে রূপান্তরিত হলেন ।

২০০৮-০৯-এর ভিবি সিরিজে অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে সচিন এক দিনের আন্তর্জাতিকে শতরান করলেন এবং ভারতের ভিবি সিরিজ জয়ের মূল্যবান কারিগর হয়ে থাকলেন । তারপর তাঁর ব্যাট থেকে এল বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক দ্বি- শতরান । দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও টেস্ট শতরান করলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ।

অবশেষে বহু প্রতীহ্মার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর বাদে ভারত ২০১১ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হল এবং তাতে সচিনের ব্যাটের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

অবশেষে ২০১৩ সালে সচিন রমেশ তেন্ডুলকর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরকালের মত বিদায় জানালেন । তাঁর ব্যাটের জাদুতে ভারতীয় ক্রিকেট এক অবিস্মরণীয় সুন্দর রঙিন অধ্যায় উপহার পেল । অবশ্য তাঁর বোলিং-ও ছিল যথেষ্ট উচ্চমানের, ছোটো কেরিয়ার হলেও সেটিতেও তিনি যথেষ্ট ছাপ ফেলেছেন । বল হাতে অনেকবার তিনি ভারতকে বাচিয়েছেন ।

এক কথায় দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে সচিন তেন্ডুলকর ভারতীয় ক্রিকেটকে এক সুউচ্চ শৃঙ্গে সুসজ্জিত করেছেন । ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রায় সমস্ত রকমের সাফল্য দিয়ে গিয়েছেন তাঁর অক্লান্ত হাতে । তাইতো তিনি আজ সকল ভারতীয়র কাছে চিরদিনের জন্য “ক্রিকেট ঈশ্বর” ।

নিচে দেখুন ভিডিও-টিঃ

  • SHARE

    আরও পড়ুন

    তৃতীয় টি২০তে এই তারকার খেলা নিয়ে সন্দেহ

    পিটিআইয়ের একটি রিপোর্টের মোতাবিক তৃতীয় এবং ফাইনাল ওয়ান ডেতে জসপ্রীত বুমরাহের অংশ নেওয়া এখনও সন্দেহজন অবস্থায় রয়েছে।...

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান
    ২০১৯ বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দেড় বছর। তার আগে গত ২ বছর ধরেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারতীয়...

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি
    তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ব্যাটিংয়ের জিনিয়াস। তামাম...

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত একদিনের সিরিজে যে যে রেকর্ড গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট

    তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সকলেই। বিশ্বের সর্বকালের সেরা একদিনের ক্রিকেটার হিসেবে তাকে মেনেও নিয়েছেন সকলে।...

    আইপিএলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই দুই অস্ট্রেলীয়

    আর মাত্র দেড় মাস বাকি আইপিএল শুরুর। এই মুহুর্তে স্ট্রাটেজি বানাতে শুরু করে দিয়েছে সমস্ত ফ্রেঞ্চাইজিই। কিন্তু...