বিশ্বকাপে বাঁহাতি বোলার চাই! ভারত পেয়ে গেলো জাহির, নেহরার উত্তরসূরিকে ! 1

অনেক তাবড় তাবড় ডান-হাতি পেস বোলার উপহার দিলেও, বাঁ-হাতি পেস বোলারের বড়ই অভাব ভারতে। বাঘা-বাঘা ব্য়াটসম্য়ান তৈরি করতে গিয়ে বোলিংকে সেভাবে ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্ব দিতে দেখা যায় না। বাঁ-হাতি বোলার হিসেবে জাহির খান ও আশিস নেহরার ভারতীয় ক্রিকেটে জন্ম নেওয়া তাই যেন স্পেশাল। জাভাগাল শ্রীনাথ পরবর্তী যুগে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা পেস বোলার জাহির। আর নেহরা তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারে চোট-আঘাতে ভুগে বেশি সময়টা কাটিয়ে দিলেও বিগ ম্য়াচ বোলার হিসেবে তাঁর অভাবটা এখনও ভোগায় ভারতকে। জাহির ও নেহরার পর ইরফান পাঠান ও রুদ্র প্রতাপ সিং’য়ের মতো দুই বাঁ-হাতি পেস বোলার ভারতীয় ক্রিকেটে এলেও বেশিদিন নিজের কেরিয়ার টানতে পারেননি। একজন ব্য়াটিং অলরাউন্ডার হতে গিয়ে বোলিংটাই শেষ করে ফেলেন। আরেকজন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যান। আরপি শেষ কবে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তাই মনে নেই কারওর।

বিশ্বকাপে বাঁহাতি বোলার চাই! ভারত পেয়ে গেলো জাহির, নেহরার উত্তরসূরিকে ! 2

গত মঙ্গলবার ভারতীয় দলের বোলিং কোচ মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান বোলিং বিভাগ এখনও পর্যন্ত হতাশ না করলেও অধিনায়ক বিরাট কোহলি খুব চিন্তায় আছেন। দলে একটা বাঁ-হাতি বোলারের অভাব রয়েছে। জাহির ও নেহরার পর আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার মতো কোনও সেরা বাঁ-হাতি বোলারকে এখনও পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি ভারত। বাঁ-হাতি বোলার দলে থাকা মানে বোলিংয়ে বৈচিত্র আসা। বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে আলাদা রকম পরিকল্পনা সাজানো যায়। আর সেই কারণেই বিরাট এবং কোচ শাস্ত্রীয় চিন্তাটা যথাযথ।

বিশ্বকাপে বাঁহাতি বোলার চাই! ভারত পেয়ে গেলো জাহির, নেহরার উত্তরসূরিকে ! 3
আশিষ নেহরা

তবে, ভারত অধিনায়কের চিন্তার এই বিষয়টি শীঘ্রই দূর হতে পারে। বর্তমানে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক বাঁ-হাতি পেস বোলার দারুন পারফর্ম করছেন। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে আর কিছুদিন পরেই হয়ত তাঁকে জাতীয় দলে ফের খেলতে দেখা যেতে পারে। আর সেই তরুণ প্রতিভার নাম জয়দেব উনাদকট। আইপিএলের কারণে বেশ পরিচিত নাম ঘরে ঘরে। সৌরাষ্ট্রের এই ক্রিকেটারটি ঘরোয়া ক্রিকেটে এই মুহূর্তে জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন।

বিশ্বকাপে বাঁহাতি বোলার চাই! ভারত পেয়ে গেলো জাহির, নেহরার উত্তরসূরিকে ! 4

দশম আইপিলে পুনে রাইজিং সুপারজায়ান্টসের হয়ে ২১টি উইকেট নিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন উনাদকট। তখন থেকেই নির্বাচকদের নজরে পড়েছেন তিনি। আইপিএলে উইকেট শিকারিদের তালিকায় এই মুহূর্তে জাতীয় দলের অন্য়তম সেরা পেস বোলার ভুবনেশ্বর কুমারের পরেই দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জয়দেব। আইপিএলে একটি ম্য়াচে শেষ ওভারে হ্য়াটট্রিক করার পর মনে করা হয়েছিল, তাঁকে নির্বাচকরা চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিয়ে সুযোগ দিতে পারেন। কিন্তু, হাতে সময় কম থাকায়, চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির মতো হাইপ্রোফাইল টুর্নামেন্টে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে একজন তরুণ বোলারকে খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি নির্বাচকরা। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতেও হয়। কারণ, একজন তরুণ প্রতিভাকে চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির মতো টুর্নামেন্টে ঠেলে দেওয়া মোটেই ভালো কাজ হতো না। ভারতীয় দলের হয়ে তিন ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও, জয়দেব এখনও আনকোরা। কোনও কারণে চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্য়র্থ হলে কেরিয়ার শুরুর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত তাঁর। তবে, ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য় ভারত যখন টিম তৈরি করার কাজ শুরু করে দিয়েছে। আধিনায়ক ও কোচের মাথায় যখন একজন ভালো বাঁ-হাতি পেস বোলারের চিন্তা রয়েছে। ফলে, ইদানিং ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ছন্দে থাকা উনাদকাটকে পরখ করে নেওয়ার এখনই সেরা সময়। শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর ভারত তিনটি হোম সিরিজ খেলবে। জয়দেবকে ভারতীয় দলে ফিরিয়ে আনার ওটাই উপযুক্ত সময় নির্বাচকদের সামনে। বাঁ-হাতি বোলার খেলিয়ে পেস বিভাগে বৈচিত্র আনার পরিকল্পনা ক্লিক করে গেলে ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের সেরা অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন উনাদকাট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *