শচীনের থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে বিরাটের, বলছেন সেহওয়াগ 1

একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে বিশ্বচ্য়াম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হেলায় হারিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। দলের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও অজিঙ্কা রাহানে সফল। তরুণ অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া সিরিজ সেরা হয়েছেন। ব্য়াট-বল-ফিল্ডিং, এই তিন বিভাগেই তিনি সফল। তবে, ভারতীয় ক্রিকেট দল ৪-১ ব্য়বধানে অজিদের হারিয়ে আইসিসি ব়্য়াঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এলেও, টপ অর্ডারে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির জন্য় খুব একটা ভালো কাটেনি এই সিরিজ। দ্বিতীয় ওয়ান-ডে ম্য়াচের বিরানব্বই রানের ইনিংসটি বাদ দিলে, বাকি চারটি ম্য়াচে পুরোপুরি ফেল ব্য়াটসম্য়ান বিরাট কোহলি। পাঁচ ম্য়াচ মিলিয়ে তাঁর স্কোর ১৮০ রান। ইদানিং শতরানের ইনিংস খেলা অভ্য়াসে পরিণত করে ফেলা বিরাট একবারও তিন অঙ্কের রান ছুঁতে পারলেন না, কানে শুনলেও বিশ্বাস করা যায় না। আবার চোখে দেখার পর অবিশ্বাসও করা য়ায় না। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শতরানের আটধাপ আগেই থেমে যেতে হয়েছে তাঁকে। তাহলে কি অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রবল প্রতিপক্ষের সামনে পড়ে ভেঙে পড়লেন বিরাট? অধিনায়কত্বের বোঝা কি ব্য়াটিংয়ে দেখা দিচ্ছে? কারণ, একদিনের ক্রিকেটে বিরাটকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে সেভাবে কোনও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হয়নি। তবে, ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্রে সেহওয়াগ বলছেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বিরাটের কাঁধে ওঠার পর তাঁর ব্য়াটিং আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু সেহওয়াগ যাই বলুন, এনিয়ে কোনও দ্বিমত নেই, একদিনের ক্রিকেটে ধোনি এখনও মাঠে অলিখিতভাবে দলকে চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতা বিরাট কতটা দক্ষ, একদিনের ক্রিকেটে তার প্রমাণ এখনও দিতে পারেননি তিনি।
একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্য়মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীরু বলেন, ”নিউজিল্য়ান্ড ও শ্রীলঙ্কা বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের দিকে নজর রাখুন। বিরাট ভারতের হয়ে বড় রান করবে প্রত্য়াশা করাই যায়। ও চ্য়াম্পিয়ন ক্রিকেটার। নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। দলের হয়ে খুব তাড়াতাড়ি ও আবার সেঞ্চুরির ইনিংস খেলবে।” সেহওয়াগ এরপর বলেন, ”ব্য়ক্তিগতভাবে আমি মনে করি, অধিনায়ক হওয়ার পর বিরাটের রানের খিদে আরও বেড়ে গিয়েছে। ধারাভাষ্য়কারের কাজ করতে গিয়ে ওর পরিসংখ্য়ান হামেশাই আমাদের চোখে পড়ে। বিরাটের রেকর্ড ওর হয়ে কথা বলছে। ওর ব্য়াটিং আরও ভালো হয়ে গিয়েছে অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে। ওর ব্য়াটিং নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ক্রিকেটে এরকম হতেই পারে। কখনও কখনও এরকম হয়। কয়েকটা ম্য়াচ বাদেই ও আবার রানে ফিরবে।”
বীরু বলছেন, অজিদের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে সিরিজে কোহলি থার্ড ম্য়ানে বেশি শট খেলেছেন। আর সেই কারণেই আউট হতে হয়েছে ভারত অধিনায়ককে। তিনি বলেন, ”আগে বিরাট থার্ড ম্য়ানে শট খেলার দিকে এতটা বেশি ঝুঁকতো না। কারণ, এই শটে ওর তেমন দক্ষতা নেই। এই সিরিজে ও ওটাই বেশি করে খেলেছে। ইডেনে বিরানব্বই রান করেছিল। ওই ইনিংসটাকে শতরানে পরিণত করা উচিত ছিল বিরাটের। ওই সময় আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল ওর।” এরপর ক্রিকেট গড শচীন তেন্ডুলকরের উপদেশের কথা উল্লেখ করে সেহওয়াগ বলেন, ”শচীন আমাকে সবসময় বলতেন, সিঙ্গল নিতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে আসার কোনও মানে হয় না। উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা বা রান আউট হওয়া মানে, আমরা আমাদের দাম বুঝি না। ডট বল খেলা এবং খারাপ বলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তবেই নিজের উইকেটের মূল্য বুঝতে পারব।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *