জোনাথন নিল রোডস। বিশ্ব ক্রিকেট তাঁকে চেনে জন্টি রোডস নামে। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুর্দান্ত সব ক্য়াচ বা শরীর পালকের মতো শূন্য়ে ভাসিয়ে দিয়ে সার্কেলের মধ্য়ে বল আটকানো। আবার এক লহমায় নিশ্চিত বাউন্ডারি আটকে দিয়ে ব্য়াটসম্য়ানকে চকিতে এক থ্রোতে রান-আউট করে দেওয়া। মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য় রেখে গিয়েছেন জন্টি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাঁর ফ্লিডিং অনেক ম্য়াচ জিততে সাহায্য় করেছিল। ব্য়াটিং বা বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়ে ব্য়াপারটাকে সিরিয়াসভাবে নিয়েও যে বিশ্ব ক্রিকেটে লেজেন্ড হওয়া যায়, সেটা জন্টি করে দেখিয়েছেন। ভারতও সেরকম এক ক্রিকেটারকে পেয়েছিল। কিন্তু, সৌরভ জমানায় দলে একঝাঁক মুখ চলে আসায় ফর্মে থেকেও বারবার রিজার্ভ বেঞ্চে বসে কেরিয়ার শেষ হয়ে যায় মহম্মদ কাঈফের।

অবসর নেওয়ার পর ক্রিকেটকে ছাড়েননি জন্টি। কোচিং নিয়ে ব্য়স্ত। ভারতেই সময়টা বেশি কাটে। আইপিএলে আবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ফিল্ডিং কোচ। ভারতীয় ফিল্ডারদের খুব কাছ থেকে লক্ষ্য় করেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান লেজেন্ড। তাঁর থেকে হয়ত বা কেউ ভালো করে বোঝেন। আর সেই কিংবদন্তি জন্টি রোডসের মতে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি নন, সুরেশ রায়না বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা ফিল্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩০০টি একদিনের ম্য়াচ খেলেছেন জন্টি। গড় ৩৫-এর একটু ওপরে। টেস্টের আসরেও তাই। ম্য়াচের সংখ্য়া ৫২। আটচল্লিশ বছরের জন্টির মতে বিরাট ভালো ফিল্ডার, কিন্তু, সেরা ফিল্ডার বলার মতো রসদ বিরাটের মধ্য়ে নেই। সেই রসদটা রায়নার মধ্য়ে মজুদ রয়েছে। এমনকী, উত্তরপ্রদেশের এই বাঁ-হাতি ক্রিকেটারটিকে দেখে নিজের অল্প বয়সের কথা মনে পড়ে জন্টির। যুবরাজ সিং আর মহম্মদ কাঈফ ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে, সেরা ফিল্ডার। ফিল্ডার হিসেবে বিরাট কোহলিকে ঠিকঠাক বলা যেতে পারে। তবে, আমি বলব, সুরেশ রায়না ভারতের সেরা ফিল্ডার (এই মুহূর্তে)। বলটা আটকাতে পারবে কি, পারবে না – তা জানে রায়না, তবুও বল আটকানোর চেষ্টা করে। ওকে দেখে আমার অল্প বয়সের জন্টি রোডসকে মনে পড়ে।

এই মুহূর্তে রায়না ভারতীয় দলের বাইরে। শেষবার ভারতের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন টি-২০ ম্য়াচে । বছরের গোড়ায় – জানুয়ারিতে। আইপিএলে ভালো পারফর্ম করেও চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি রায়নার। জন্টি রোসডের মতে টি-২০ ক্রিকেটের বাড়বাড়ন্ত ওয়ান-ডে ক্রিকেটের ঐতিহ্য়কে চ্য়ালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। টেস্ট নয়। আমার মতে ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে। টি-২০ কারণে ক্রিকেট খেলার ধরনটাই বদলে গিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট চমকপ্রদ হয়ে উঠেছে। পাঁচদিনের ক্রিকেটে এখন আর কেউ হাত গুটিয়ে খেলে না আউট হওয়ার ভয়ে। জন্টি এরপর বলেন, গত শতাব্দীর কথা বলছি। আমি যখন ক্রিকেট খেলতাম। তখন ব্য়াটসম্য়ান নব্বই রান করে ফেললে কেমন যেন জড়সড় হয়ে যেত। সামলে খেলার চেষ্টা করত। নার্ভাস নাইন্টি কথাটা তখন হামেশাই বলা হতো। আর এখন ব্য়াটসম্য়ান চুরানব্বই রানে করে ফেলার পর ছয় মেরে সেঞ্চুরি করেছে। ভয়টাই চলে গিয়েছ। সেই জন্য়ই আমার মনে হয়, টেস্ট নয়, একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্য়ত বিপন্ন হয়ে আসছে।

SHARE

আরও পড়ুন

আইপিএল ২০১৯: যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে ভেড়াতে পারে গৌতম গম্ভীরকে

দুই বিশ্বকাপ আসরের ফাইনালে দলের পক্ষে সেরা ইনিংস খেলে দলকে জয়ী করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা গৌতম গম্ভীরকে...

TOP5: যে ৫ বাংলাদেশী ক্রিকেটারের দিকে নজর দিতে পারে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি

আগামী বিশ্বকাপের আগে বসতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের বারোতম আসর। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই টুর্নামেন্টে বসে...

আইপিএল ২০১৯: মুস্তাফিজকে দলে ভেড়াতে চাইবে যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজকীয় অভিষেক হবার পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।...

TOP5: ওয়ানডেতে সর্বকালের সেরা ৫ উইকেটরক্ষক

গ্লাভস হাতে তিন কাঠির পেছনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলের দিকে তাকিয়ে থাকেন উইকেটরক্ষক। বল গ্লাভস বন্দী করে ব্যাটসম্যানকে...

TOP5: আইপিএলে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো পাঁচ ব্যাটসম্যান

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল যেন প্রতিভাবান ক্রিকেটার খোঁজার এক আতশ কাচ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে হওয়া এই...