তিনি প্রিন্স অফ ক্যালকাটা। গোটা ক্রিকেটবিশ্ব ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে এই নামে চেনেন।কল্লোলীনি কলকাতার সঙ্গে মহারাজের নাড়ির যোগ থাকলেও, লন্ডনকেই নিজের সেকেন্ড হোম হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছেন তিনি। আর সেই লন্ডনেই নাকি একবার প্রাণ হারাতে বসেছিলেন সৌরভ। সেটাও নাকি আবার তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার শুরু হওয়ার আগেই। লন্ডনে সৌরভের বুকে বন্দুক তাক করে ছিল এক দুষ্কৃতি।ট্রিগার চাপলেই হয়তো আজ ভারতীয় ক্রিকেট এত সহজে আন্তর্জাতিক আঙিনায় সাফল্যের শিখরে উঠে আসতে পারতো না।

কেরিয়ার শুরু করার মুখেই এভাবে মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখতে হবে, তা কল্পনা করে উঠতে পারেননি তরুণ সৌরভ। যদিও ভাগ্যের সহায় সেদিন সৌরভ সেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।তিনি তো কলকাতার মহারাজ, ভারতের প্রথম বিপ্লবী অধিনায়ক, কিংবদন্তি এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের মানসিকতা বদলে দেওয়া অধিনায়ক।স্বাভাবিকভাবে সিনেমার পর্দায় নায়কের মতো তিনিও সেদিন নিজের বীরত্বে পরিস্থিতিকে আয়ত্ত্ব করার পাশাপাশি পরবর্তীকালে বিশ্বক্রিকেটে একটা নতুন উপাখ্যান লিখতে চূড়ান্ত সফল হয়েছিলেন।

টুইটার প্রতিক্রিয়া – সমস্ত দেশবাসীই ক্রিকেটকে রাজনীতি মুক্ত করতে, দাদাকে সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন

১৯৯৬ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে খেলতে যান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেবারেই ঘটে যাওয়া ওই হাড়হিম করে দেওয়া ঘটনাটা সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় সৌরভ সবার সামনে তুলে ধরলেন। এবং জানালেন,  সেবার সিরিজ খেলতে তিনি ভারতীয় দলের হয়ে লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন নভজোৎ সিং সিধু। লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পিনার যাচ্ছিলেন। ট্রেনের বগিতে সৌরভ-সিধুদের মুখোমুখি বসেছিলেন কয়েকজন যুবক-যুবতী। তাদের বেশির ভাগ যে মাতাল তা ছিল, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি সৌরভ, সিধুর।

হঠাৎ ট্রেনের বগিতে ভারতীয়দের দেখে ওই যুবক যুবতীরা রীতিমতো ক্ষেপে যায়। ভারতীয় দলের ওই দুই ক্রিকেটারকে লক্ষ্য করে গালমন্দ করতে থাকে। পরিস্থিতি জটিল বুঝে ঠান্ডা মাথার সৌরভ বদ মেজাজী সিধু কিছু করতে মানা করেন। সৌরভ তাঁকে কানে কানে বললেন, চুপ থাকুন। এই কানাকানিতে হঠাৎ মদ্যপ এক যুবক তেড়ে আসেন সৌরভের দিকে। ওদের বিরুদ্ধে কি কথা হচ্ছিল, তারা সেটা জানতে চান। সৌরভ ঠাণ্ডা মাথায়ও পরিস্থিতি সামলাতে পারছিলেন না। এরমধ্যে মেজাজ হারিয়ে সিধুও হাত চালিয়ে দেন। লেগে যায় মারামারি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে প্রাণে বাঁচতে পরের স্টেশনেই নেমে পড়লেন সৌরভ ও সিধু। স্টেশনে নামার পরই ওই দলের এক যুবক হঠাৎ সৌরভের দিকে বন্দুক তাক করে ধরেন। তখন অবশ্য সৌরভের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখে মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।ঠিক সেই সময় ত্রাতার ভূমিকায় সেখানে অবতীর্ণ হন সেই দুষ্কৃতি দলের এক মহিলা।সৌরভকে যে বন্দুক তাক করে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল, তার হাত থেকে বন্দুকটা  কেড়ে নেন সেই মহিলা। ওই মহিলা সৌরভকে সেদিন নতুন জীবন দান করেছিলেন।

সেদিনের ওই ঘটনা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন সৌরভ। ভারতের আধুনিক যুগের সেরা অধিনায়ক এখন বাংলা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। পরিস্থিতি মোড় নিলে তিনি শীঘ্রই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মসনদেও উঠে আসবেন। কিন্তু সেদিন ওই মহিলা ঝামেলার মধ্যিখানে এসে না পড়লে মহারাজের সাধের জীবনটা হয়তো যেত। হয়তো বাইশ গজে আর দেখা যেত না সৌরভ গাঙ্গুলিকে। এমনকি জি্ওফ্রে বয়কটের গলায় শোনা যেত না, প্রিন্স অফ ক্যালকাটা ধ্বনিও। জীবন বাঁচানো সেই অচেনা যুবতী আজও নিশ্চিতভাবে সৌরভের ভাবনায় মাঝেমধ্যে  হানা দিয়ে যান।

  • SHARE

    আরও পড়ুন

    ধোনির ভক্তদের জন্য সম্ভবত খারাপ খবর, ধোনির অবসর আশংকা নিয়ে উত্তপ্ত টুইটার

    গতকাল স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর ড্রেসিং রুমে ফেরার সময় প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র...

    স্মৃতি মন্ধনার জন্মদিনে শুভকামনা জানালেন শচীন তেন্ডুলকর ও আনজুম চোপড়া

    ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ওপেনার স্মৃতি মন্ধনার জন্মদিনে তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে টুইট বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেট...

    BREAKING NEWS: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিনটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ভারতীয় টিম ঘোষণা ,এই ক্রিকেটার পেলেন না জায়গা

    ভারত আর ইংল্যান্ডের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গতকাল হেডিংলের লীডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত...

    হার্দিক পাণ্ডিয়ার চুল অনন্য, চর্চার জন্য উইকিপিডিয়ায় নতুন ভাবে ভূষিত হলেন তিনি!

    এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, হার্দিক পাণ্ডিয়া বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের জন্য অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে...

    ক্রিকেটারদের কিছু মজার নাম যা দেখে আপনি অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন

    একটি ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অনন্য এক ধরনের সম্পর্ক থাকে কারণ তারা একে অপরের সাথে বেশিরভাগ সময়...