২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার জন্য় তৈরি হচ্ছেন শ্রীসন্থ 1

ভালো পেস বোলার কাকে বলে ভারতীয় ক্রিকেট খুব একটা দেখেনি। কপিল দেব পরবর্তী সময়ে কাউকে যদি পেস বোলিংয়ের লেজেন্ড বলা যায় তিনি জাভাগাল শ্রীনাথ। তাঁর সমসাময়িক ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ভালো বোলার ছিলেন। কিন্তু, লেজেন্ড কখনই বলা যাবে না। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মে বড়াই করে বলার মতো একটা মাত্র পেস বোলার বিশ্ব ক্রিকেটকে দিয়েছে ভারত। তিনি জাহির খান। এই বাঁ-হাতি বোলারের পর যাকে নিয়ে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখত ভারতীয় ক্রিকেট সেই সান্থাকুমারণ শ্রীসন্থের কেরিয়ারটা ম্য়াচ-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ শেষ করে দিয়েছে। আগ্রামী মনোভাব, বলে গতি সব রসদই মজুত ছিল কেরালার ক্রিকেটারটির মধ্য়ে।

২০১৩ আইপিএল থেকেই ভাগ্য়টা বদলে যায় শ্রীসন্থের। তিনি এবং আরও দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্য়াচ-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই), তিনজনকে আজীবন নির্বাসিত করে সব ধরণের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে। এর দুবছর পর ২০১৫ সালে আদালত তিন ক্রিকেটারকেই মুক্তি দেয় যাবতীয় অভিযোগ থেকে। তবে,  বিসিসিআই তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে নির্বাসনের সাজা রদ করেনি। ভারতীয় দলে ফেরার সমস্ত রাস্তা তাঁর জন্য় বোর্ড বন্ধ করে রাখায়, শ্রীসন্থ কেরালা কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত রায় দিয়েছে, নির্বাসনের সাজা তুলে নেওয়ার জন্য়। বিসিসিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে, তা এখনও পরিষ্কার না হলেও, শ্রীসন্থ তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য়ের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে হয়ে পারফর্ম করতে চান দুবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য়।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর থেকে বারবারই বলে এসেছিলেন শ্রীসন্থ যে তিনি নির্দোষ। অভিযোগ ভুল প্রমাণ করার সুযোগ না দিয়েই বিসিসিআই তাঁকে  আজীবন নির্বাসিত করে দেয়। এখন আদালত তাঁর পক্ষেই রায় দিয়েছে। ভারতীয় দলে ফেরার ব্য়াপারে কি বলছেন শ্রী? ”সত্য়ি বলতে…ভারতীয় দলে প্রথমবার যখন ডাক পেয়েছিলাম, তখনের চেয়ে মানসিক দিক থেকে এখন অনেকটাই ঠিক আছি। নতুন জন্ম হয়েছে আমার। আমাকে আর আমার পরিবারকে এমন সব ঝড়-ঝাপটা পোহাতে হয়েছে যে কি বলব! কোনও বড় অপরাধীকেও এতটা সামলাতে হয় না। একটি ছোটো ঘটনাকে ভুলভাবে দুনিয়ার সামনে পেশ করা হয়েছিল। হয়ত, এভাবেই দুনিয়া চলে। আমি অভিযোগ করছি না। দোষী সাব্য়স্ত হয়েছিল একজন ক্রিকেটার (পড়ুন মহম্মদ আমির) এখন বিশ্ব টি-২০ খেলছে, চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফি খেলছে। আইসিসি তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই ভাবি, আমার কেরিয়ারেও যদি এমন হতো!

আদালের রায় তাঁকে জাতীয় ক্রিকেটে প্রত্য়াবর্তনের সুযোগ এনে দেওয়ায় ভগবানকে ধন্য়বান জানিয়েছেন শ্রী। ভগবান আমার প্রতি করুণা করেছেন। তাই কঠিন পরিশ্রম করে দলে ফেরার আরও একটা সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার কাছে বড় চ্য়ালেঞ্জ। বিসিসিআই আর কেসিআইকে পাশে চাই এগিয়ে যাওয়ার জন্য়।

ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর রাজনীতি ও অভিনয় জগতে সাময়িকভাবে নিজের ভাগ্য় যাচাই করেন শ্রীসন্থ। এপ্রসঙ্গে বললেন, ক্রিকেটকে আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আমার কাছে আর কিছু করার ছিল না বলে ওদিকে নজর দিয়েছিলাম। কিন্তু, মানুষ আমাকে ক্রিকেটার হিসেবে চেনে। আমিও চাই, লোকে আমাকে ক্রিকেটার হিসেবে মনে রাখুক। তাই জন্য়ই আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরতে চাই।

দেখতে দেখতে চৌঁত্রিশ বছর হয়ে গেল। এই বয়সে কি কাজটা সহজ হবে? জবাবে শ্রীসন্থ বলেন, কেন? জানি, আমাকে আবার গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। আমার এখন ৩৪ বছর। এই বয়সে মিসবা (উল-হক), ইউনিস খান, শচীন পাজি খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলেছিলেন। ওঁদের থেকে আমি উৎসাহ নিচ্ছি। নিজেকে ম্য়াচ ফিট করে তোলাই লক্ষ্য়। তারপর পারফর্ম করা।

২০১৯ বিশ্বকাপ সম্পর্কে কেরালার পেসারটির বক্তব্য়, কাজটা কঠিন। কিন্তু, আমার মূল লক্ষ্য় ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য় ভারতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। জানি, বিষয়টা অসম্ভব। ২০১৯ বিশ্বকাপে দলে জায়গা পেলে লোকে অবাক হবেন। পেস বোলার জায়গার জন্য় এখন লড়াইটা বেড়ে গিয়েছে। তবে, নিজের প্রতিভার ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আমি এখন অভিজ্ঞ। এই বয়সে ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করে যেতে পারব বলে আমার আস্থা রয়েছে। অবশ্য়, চোট-আঘাতের ব্য়াপারে সতর্ক থাকতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *