আত্মগরিমায় খেয়ালই রইল না, প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ককে অপমান করে বসলেন শাস্ত্রী 1

বিরাট কোহলিদের সাম্প্রতিক ভালো পারফরমেন্সের কারণে, দিন দিন আত্মগরিমা বেড়েই চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর। কোনও রকম ভাবনা-চিন্তা না করেই যাঁকে যা পারছেন বলে দিচ্ছেন। এবার স্বয়ং ক্রিকেটের ইশ্বর শচীন তেন্ডুলকরকেও পরোক্ষে অপমান করে বসলেন শাস্ত্রী। নাম না করে সমালোচনা করতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিরাটদের গুরুদেব। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাঁরা অনায়াসেই বলে দেবেন, বর্তমানে ক্রিকেটে নিয়ম-কানুন অনেক শিথিল হয়েছে। এখন আবার অনেক টেকলজিও চলে এসেছে। যতদিন যাচ্ছে ক্রিকেট খেলাও তত আধুনিক হয়ে যাচ্ছে, আর সহজও। সত্য়ি কথা বলতে, এখন ভারতসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বে হাতে গোনা ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের সেইভাবে সমীহ করা হয়, নাম উচ্চারণের সময়! কজন ক্রিকেটার আছেন, যাঁদেরকে ভবিষ্য়তের কিংবদন্তি আখ্য়া দেওয়া যায়! উত্তরটা দিতে গেলে, অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। ফাটকা ক্রিকেট আর মারকাটারি ব্য়াটসম্য়ানদের স্বর্গরাজ্য়ে আজ বাঘা-বাঘা বোলারের বড় অভাব। তাই অতীত দিনের সঙ্গে তুনলা টানাটা একেবারে অন্য়ায্য়।

সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী মিডিয়ায় মন্তব্য় করেছেন, বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট দল যা করে দেখাচ্ছে, অতীতের ভারতীয় ক্রিকেট দল তা করে দেখাতে ব্য়র্থ হয়েছিল। নাম না করে ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে খোঁচা দিয়েছেন শাস্ত্রী। বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে গত কুড়ি-পঁচিশ বছরে কোনও ভারতীয় তাদের হারিয়ে আসতে পারেনি। এখানে বলে রাখা ভালো, প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্রে গিয়ে সৌরভের ভারত সিরিজ দখল করতে ব্য়র্থ হয়। বিরাটের ভারতের আগে শেষবার ১৯৯৩ সালে মহম্মদ আজহারউদ্দিনের ভারত শ্রীলঙ্কাতে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতে এসেছিল।

শাস্ত্রীর এই মন্তব্য় শুনে সৌরভ মাথা গরম না করেই যা বলার বলেছেন। শাস্ত্রীকে ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য় শুভেচ্ছা জানিয়ে দাদা বলেছেন, দুবছর সময় রয়েছে শাস্ত্রীর হাতে। উনি কতটা ভালো কোচ বিশ্বকাপ এনে দিলেই প্রমাণ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞ মহল বলেছে, এভাবে পরোক্ষে সৌরভের সমালোচনা করে রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো বড় বড় ব্য়াটিং লেজেন্ডদের অপমান করছেন শাস্ত্রী। গত আড়াই দশকে ওই টিমে ক্রিকেট গড শচীন তেন্ডুলকর খেলেছেন। শাস্ত্রী কি তাঁকেও অপমান করতে চাইছেন?

এনিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, অধিনায়ক হিসেবে শচীনের রেকর্ড ভালো ছিল না। ১৯৯৭ সালে তাঁর আমলেই এদেশে এসে ভারতীয় বোলারদের নাকানি-চোবানি খাইয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সনৎ জয়সূর্যর ট্রিপল সেঞ্চুরি আর ৯৫৩/৬ (ডিক্লেয়ার্ড) – আজও জ্বালা ধরায় ভারতীয়দের মনে। সৌরভের আমলে ২০০২তে সেদেশে গিয়ে ২-১এ সিরিজ হেরে এসেছিল ভারত। সেবার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শচীন, লক্ষ্মণ আর কুম্বলেকে ছাড়াই জিতেছিল ভারত। কুম্বলের নেতৃত্বেও ভারতকে ২-১ ফলে সিরিজ হারতে হয়েছিল।

একদিনের ক্রিকেটের রেকর্ড ধরলে, সেখানেও শচীনের নেতৃত্বে ভারতের ফল ভালো নয়। ১৯৯৭ সালে ৩-০ ফলে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল ভারতকে। ২০০২ সালে সৌরভ ভারতকে চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে তুললেও বৃষ্টির কারণে দুদিনই ফাইনাল ভেস্তে গিয়েছিল। তবে,ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে ক্ষমতা আসার পর ছবিটা বদলায়। একদিনের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনেক ম্য়াচেই ভারত তেরঙা উড়িয়ে এসেছে। আর সে দলে শচীনও ছিলেন।

ক্রিকেট সমালোচকরা বলছেন, ভারতীয় ক্রিকেট কেন, বিশ্বক্রিকেটে ব্য়াটসম্য়ান শচীন তেন্ডুলকরের অবদান কোনওদিন অস্বীকার করা যাবে। পুরনো দল নিয়ে কটুক্তি করা মানে শচীনকে টেনে কথা বলা। আর শচীনকে অপমান করা মানে নিজেকে অপমান করা। সবচেয়ে বড় কথা, অর্জুনা রণতুঙ্গা, অরবিন্দ ডিসিলভা, সনৎ জয়সূর্য, রমেশ কালুবিতরণেদের কথা না হয় বাদ দেওয়া গেল, শাস্ত্রী যে শ্রীলঙ্কান টিমকে হারানো নিয়ে বড়াই করছেন, সেই দলের সঙ্গে দশ বছর আগের শ্রীলঙ্কান টিমের কোনও তুলনাই হয়না। অত্য়ন্ত দুর্বল বর্তমান শ্রীলঙ্কান টিম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *