২০ বছর আগে হোটেলে মেয়েদের সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন শাহিদ আফ্রিদি, বাড়ির লোক দিয়েছিল বোনের সঙ্গে বিয়ে 1

একটা সময় ছিল যখন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিশ্বে ক্রিকেটে বড়ো নাম ছিল। ১৯৯২তে ইমরান খানের নেতৃত্বে এই দল প্রথম আর একমাত্র আইসিসি একদিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল। পাকিস্তানের সমর্থকরা ইমরান খানের পর দ্বিতীয় যদি দ্বিতীয় কোনো অলরাউন্ডারকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে থাকেন তো সেই নামটি হলো শাহিদ আফ্রিদি। কিন্তু যতই আফ্রিদি বল এবং ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রদর্শন করে থাকুন, কিন্তু কিছু কলঙ্কজনক কান্ড তার সমর্থক এবং পরিবারকে যথেষ্ট আহত করেছিল।

সিঙ্গাপুরে ট্রাই সিরিজ চলাকালীন আফ্রিদি করেছিলেন নোংরা কাণ্ড

২০ বছর আগে হোটেলে মেয়েদের সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন শাহিদ আফ্রিদি, বাড়ির লোক দিয়েছিল বোনের সঙ্গে বিয়ে 2

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০০০ এ সিঙ্গাপুরে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ট্রাই সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। তখন ২০ বছরের খেলোয়াড় শাহিদ আফ্রিদিও এই সিরিজের জন্য সিঙ্গাপুরে পৌঁছন। এই সিরিজের ফাইনাল দক্ষিণ আফ্রিকা আর পাকিস্তানের মধ্যে হয়। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানের দলকে হারের মুখে পোড়তে হয়। কিন্তু এই হারের চেয়ে বেশি পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি খবর সকলেরই মনোযোগ নিজের দিকে আকর্ষিত করেছিল। খবর সামনে এসেছিল যে সিঙ্গাপুরের ট্রাই সিরিজের একদিন আগে পাকিস্তানের তিন খেলোয়াড় করাচির হোটেলে মেয়েদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে এই খেলোয়াড়রা মেয়েদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এই কাণ্ডে শাহিদ আফ্রিদি, আতিক উজ জামান আর হাসান রাজার উপর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

পিসিবি দিয়েছিল শাস্তি

২০ বছর আগে হোটেলে মেয়েদের সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন শাহিদ আফ্রিদি, বাড়ির লোক দিয়েছিল বোনের সঙ্গে বিয়ে 3

করাচিতে হওয়া এই ঘটনার পর চারদিকেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই খেলোয়াড়দের সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হালকা ভাবে নেয়নি আর তিন খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নেয়। সিঙ্গাপুরে খেলা হওয়া ট্রাই সিরিজ শেষ হওয়ার পর এই তিনজনে নিজেদের সাফাই দেন যে ওই মহিলারা তাদের ফ্যান্স ছিলেন আর তারা অটোগ্রাফ নিতে এসেছিলেন। কিন্তু পিসিবি আফ্রিদি, আতিক আর হাসান রাজার কোনো কথা শোনেনি আর শাস্তি স্বরূপ এই তিনজন খেলোয়াড়কে কেনিয়াতে হতে চলা আইসিসি নকআউট কাপ (চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আফ্রিদি, আতিক আর হাসান রাজার উপর ৫০ হাজার টাকা মোটা টাকা জরিমানাও করা হয়।

২০ বছর বয়েসি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল আফ্রিদির বিয়ে

২০ বছর আগে হোটেলে মেয়েদের সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন শাহিদ আফ্রিদি, বাড়ির লোক দিয়েছিল বোনের সঙ্গে বিয়ে 4

করাচি কান্ডের কারণে শাহিদ আফ্রিদির নাম যথেষ্ট খারাপ হয়ে যায়। আফ্রিদির বাবা-মাও তার উপর ভরসা করতে পারছিলেন না। আফ্রিদি সেই সময় ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে তিনি রোজ বাবা-মায়ের বকুনি শোনেন। কিন্তু তাকে ফাঁসানো হয়েছিল, তার কোনো ভুল ছিল না। এই সবকিছুর পর শাহিদ আফ্রিদির পরিবার ২০ বছর বয়েসেই তার মামাতো বোন নাদিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেন। নাদিয়া পেশায় একজন ডাক্তার। যদিও এই কথার কোনো পোক্ত প্রমাণ নেই যে আফ্রিদির বিয়ে এই সেক্স স্ক্যান্ডালের কারণেই করানো হয়েছিল। কিন্তু ২০ বছর বয়েসে এইভাবে হঠাত করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া এই কথারই প্রমাণ।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *