ভারতরত্ন শচীন তেন্ডুলকরের নাম টেনে এনে লিঙ্গ বৈষম্য় মূলক মন্তব্য় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারের মুখে 1

ফাইনালে উঠে ইংল্য়ান্ডের কাছে হেরে গেলেও আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফেরার পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীরা লিঙ্গ বৈষম্য ভোলার ডাক দিয়ে মহিলা ক্রিকেটারদেরও সমান আর্থিক অধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছে। তাঁদের বক্তব্য়, বিরাট ও মিতালিদের মাইনে কেন এক নয়। এখনও পর্যন্ত সেই আওয়াজটা মিলিয়ে যায়নি। বিসিসিআইয়ের কানেও সেই কথা পৌছেছে। অনেক মহিলা ক্রিকেটার তো এই পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিডিয়াতে বক্তব্য় রেখেছেন, অস্ট্রেলিয়াতে পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের এক সমান মাইনে দেওয়া হয়। মহিলা ক্রিকেটাররাও এখন স্টার এদেশে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন লিঙ্গ বৈষম্য় দূরে ঠেলে আগামী দিনের দিকে চোখ রাখছেন, ভারতীয় দলের মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধনা সেই লিঙ্গ বৈষম্য়ের সমর্থনেই যুক্তি রাখলেন। আর এমন একজনের সম্বন্ধে মন্তব্য় করেছেন, যিনি ভারতরত্ন।

শচীন তেন্ডুলকর। নামটার সঙ্গে ভারতবাসীর রাগ, গর্ব, ভালোবাসার মতো নানা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছর একশো কোটিরও বেশি ভারতবাসীর প্রত্য়াশার চাপ কাঁধে করে বেড়াতে হয়েছে তাঁকে। আর অন্য় কোনও দেশের ক্রিকেটার কেন, ভারতের কোনও ক্রিকেটারকেউ প্রত্য়াশার এই বিপুল চাপটা কাঁধে করে বয়ে বেড়াতে হয়নি। সেই চাপ কাঁধে করেও শচীন বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার। ২০১৩ সালে তিনি যখন ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, তাঁর নামের পাশে বিশ্বের বড় রেকর্ডগুলি লেখা। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে সবচেয়ে বেশি ম্য়াচ খেলা, সবচেয়ে বেশি শতরান করা আবার সবচেয়ে বেশি রান করার নজির তাঁর দখলে। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একশোটি শতরানের রেকর্ডের পাশাপাশি শচীন ক্রিকেট গ্রহের প্রথম মানুষ যিনি পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করার স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপায়িত করেন। সমগ্র ক্রিকেট বিশ্ব তাঁকে ঈশ্বর রূপে শ্রদ্ধা করে।  পুরুষ কেন মহিলা ক্রিকেটারও তাঁকে দেখে অনুপ্রেরণা নেয়। সেই মানুষটার নাম টেনে এনে এমন একটা মন্তব্য় করলেন ভারতের তরুণী ক্রিকেটার স্মৃতি, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

২০১৭ মহিলা বিশ্বকাপে ভালো খেলার সুবাদে যে কজন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার প্রচার আলোয় এসেছেন, তাঁদের মধ্য়ে সুদর্শনা স্মৃতি মন্ধনা অন্য়তম। যদিও প্রথম দুটি ম্য়াচে ভালো খেলার পর এই বাঁ-হাতি ব্য়াটসম্য়ানের ব্য়াট নিষ্প্রভ ছিল। তবুও দেশে ফেরার পর তিনি এখন সেলিব্রটি। একটি বেসরকারি টিভি চ্য়ানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শচীন তেন্ডুলকরের নাম টেনে আনার পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্য় মূলক মন্তব্য় করে বসেন স্মৃতি। পরবর্তী প্রজন্ম শচীনকে নয়, মিতালি রাজকে দেখে অনুপ্রেরণা নেবে। মহিলা ক্রিকেটাররা নিজেকে শচীনের সঙ্গে নয়, মিতালি রাজের সঙ্গে তুলনা করবে। আমরা মনে হয় না, কোন মহিলা ক্রিকেটারকে পছন্দের পুরুষ ক্রিকেটারের নাম বলতে হবে। এরপর একটি পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গে টেনে এনে একুশ বছরের এই মহিলা ক্রিকেটারটি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। আপনারা কি কোনও পুরুষ ক্রিকেটারকে জানতে চান, তাদের পছন্দের মহিলা ক্রিকেটারের নাম কি? এখানে উল্লেখ্য়, একসময় ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়িকা মিতালি রাজকে তাঁর পছন্দের পুরুষ ক্রিকেটার কে, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেই এই পাল্টা প্রশ্ন মন্ধনার। তাঁর এই প্রশ্নের পেছনে অবশ্য়ই যুক্তি আছে। আর এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই মিতালি বড় মাপের ক্রিকেটার। আর সেই কারণেই ভারতীয় মহিলা দলকে তিনি গত দুদশক ধরে সেবা করে যাচ্ছেন। কিন্তু, শচীন ভারত তথা বিশ্ব ক্রিকেটে যে অবদান রেখেছেন, তার তুলনায় মিতালির অবদান অনেক কম। আর যেভাবে লিঙ্গ বৈষম্য় টেনে এনে মন্তব্য় করেছেন মন্ধনা, তা কোনওভাবেই তারিফ যোগ্য় নয়।

ওই সাক্ষাৎকারে মহিলাদের আইপিএল নিয়েও নিজের বক্তব্য় রাখেন স্মৃতি। বলেন, মহিলাদের আইপিএল শুরু হলে দারুন হবে। তাহলে ঘরোয়া মহিলা ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। আমি নিশ্চিত, বিসিসিআই এটা নিয়ে ভাববে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *