গত রবিবার  ফাইনাল ম্য়াচে ভারতীয় মহিলা দল নিয়ে হাইপ চূড়ান্ত থাকলেও চ্য়াম্পিয়ন হচ্ছেই – কেউই প্রথম থেকে এই বাজি ধরেননি। ম্য়াচ যত গড়াচ্ছিল, ততই পাল্লা ভারতের দিকে ঝুঁকছিল। তবে, ২২৮ রানে ইংল্য়ান্ডকে বেঁধে দেওয়ার পর, জয়ের একটা ছবি মানুষ দেখতে শুরু করেছিল। ইংল্য়ান্ডের মেঘলা স্য়াঁতস্য়াঁতে পরিবেশ হলেও ফাইনাল ম্য়াচে ওই স্কোর তাড়া করে জেতা, অসাধ্য় নয়। অনভিজ্ঞ হওয়ায় স্নায়ুর চাপে ভেঙে না পড়লে ভারতের মেয়েরাও পারত। শেষ পর্যন্ত ৯ রানে ইংল্য়ান্ড ম্য়াচটি জিতে নিয়ে বিশ্ব চ্য়াম্পিয়ন হয় চতুর্থবারের জন্য়।

ভারত অধিনায়িকা মিতালি রাজের আচমকা রান-আউটা ম্য়াচের টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। মিতালি থাকলে ম্য়াচটা ঠিক বের করে দিতেন অভিজ্ঞতার জোরে। ওপেনার স্মৃতি মন্ধনা শূন্য় রানে ফিরে গেলেও পুনম আর হরমন ঠিক টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। একসময় ভারতের স্কোর ছিল ১৯১ রান তিন উইকেটে। হাতে সাত উইকেট নিয়ে পর্যাপ্ত বল থাকলে ৩৮ রান করে ম্য়াচ জেতা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু, শেষ দিকে পরপর উইকেট হারিয়ে ম্য়াচটা খোয়ায় ভারত।

এত কাছে এসেও দুবার বিশ্বকাপ হাতে উঠতে উঠতেও উঠলো না মিতালি রাজের। ঝুলন গোস্বামী আর মিতালির এখন ৩৪ বছর। এটাই যে তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ ছিল, বোঝাই যাচ্ছে। নিজের রান-আউট আর ফাইনালের হার নিয়ে মিতালি যা বক্তব্য় রাখলেন, তা শুনলে গ্য়ালারিতে বসে বা টিভির পর্দায় খেলা দেখে এক্সপার্ট ওপিনিয়ন দেন যাঁরা, তাঁদের ধারনা অনেকটাই পাল্টে যাবে। মাঠের ভেতরকার জীবনটা অনেকটাই আলাদা।

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভাঙার পর মিতালি নিজেকে সামলে নিয়ে গত সোমবার বলেন, না..চব্বিশ ঘণ্টা হয়নি এখনও। কাপটা আমাদেরই ছিল। কিন্তু, অন্তিম ধাপটা পার হতে পারলাম না। নিজেকে শান্ত করতে খানিকটা সময় লাগবে আমার। হয়ত, আমাদের ভাগ্য়ে লেখা ছিল না।

জেতা ম্য়াচ এভাবে খোয়ানো প্রসঙ্গে মিতালির বক্তব্য়, এর উত্তর সত্য়ি যদি আমার জানা থাকত, তাহলে ভালোভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে দিতাম। শুরুতে চটপট দুটি উইকেট হারালেও পুনম, হরমন ও বেদা আমাদের ভালো জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু, আমরা হেরে গেলাম।

নিজের রান-আউট প্রসঙ্গে ভারত অধিনায়িকার কথায়, সোশ্য়াল মিডিয়াতে দেখলাম আমার রান-আউট হওয়া নিয়ে অনেক অদ্ভূত কথা লেখা হয়েছে। আসলে পিচের মধ্য়ে আমার জুতোর স্পাইকটা আটকে গিয়েছিল। পুনম আমাকে রান নেওয়ার জন্য় ডাকে। আমি দৌড়াইও। কিন্তু, অর্ধেকটা যাওয়ার আগেই আমার জুতোর স্পাইক আটকে যায়। না ডাইভ দিতে পারছিলাম, আর না এগোতে। টিভি ক্য়ামেরাতে ওটা ধরা পড়েছিল কি না জানি না। আমার তখন কিছুই করার ছিল না।

মিতালি বলেই দিয়েছেন, পরবর্তী বিশ্বকাপে হয়ত তিনি থাকবেন না। বড়জোর আর দুবছর খেলা চালিয়ে যাবেন। তবে তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর ভারতীয় দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্য়াপারে আস্থা রয়েছে মিতালির। আমি মনে করি, ব্য়র্থতা থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। রবিবারের হারটা আমাদের কাছে শিক্ষণীয় বিষয়। দলটা এখন যে জায়গায়, এখান থেকে আরও ভালো জায়গায় যাবে। হরমন, পুনম এবং বেদা এখন অভিজ্ঞ। ওদেরকে দায়িত্ব নিয়ে এরপর যারা আসবে সেই তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটা ভাগ করে নিতে হবে। ঝুলন আর আমার অবসর নেওয়ার পর ওদের দায়িত্ব।

SHARE

আরও পড়ুন

আইপিএল ২০১৯: যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে ভেড়াতে পারে গৌতম গম্ভীরকে

দুই বিশ্বকাপ আসরের ফাইনালে দলের পক্ষে সেরা ইনিংস খেলে দলকে জয়ী করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা গৌতম গম্ভীরকে...

TOP5: যে ৫ বাংলাদেশী ক্রিকেটারের দিকে নজর দিতে পারে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি

আগামী বিশ্বকাপের আগে বসতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের বারোতম আসর। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই টুর্নামেন্টে বসে...

আইপিএল ২০১৯: মুস্তাফিজকে দলে ভেড়াতে চাইবে যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজকীয় অভিষেক হবার পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।...

TOP5: ওয়ানডেতে সর্বকালের সেরা ৫ উইকেটরক্ষক

গ্লাভস হাতে তিন কাঠির পেছনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলের দিকে তাকিয়ে থাকেন উইকেটরক্ষক। বল গ্লাভস বন্দী করে ব্যাটসম্যানকে...

TOP5: আইপিএলে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো পাঁচ ব্যাটসম্যান

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল যেন প্রতিভাবান ক্রিকেটার খোঁজার এক আতশ কাচ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে হওয়া এই...