নিন্দুকদের একহাত নিলেন রোহিত শর্মা, যা বললেন দেখলে চোখ কপালে উঠবে! 1

ক্রিকেট মাঠে ভারতের সহ-অধিনায়ক রোহিত শর্মার ব্য়াটিং দেখে মনে হয়, হিটম্য়ানের মধ্য়ে কোনও জড়তা নেই। আবার অতিরিক্ত জোর লাগিয়েও তাঁকে মারতে হয় না বলকে। যেন খানিকটা আলসেমির ভঙ্গিমায় ব্য়াটটা বলে ছুঁইয়ে দেওয়া। আর তারপর বল নিজেই তাঁর ঠিকানা খুঁজে নেয় বাউন্ডারি লাইনে। চোট সারিয়ে ভারতীয় দলে ফিরলেও রোহিতের খেলার মধ্য়ে আগের মতোই সেই শান্তভাবটা রয়েছে। বিগ হিটার হলেও রোহিতের মধ্য়ে কোনওরকম দেখনদারী ভাব নেই। কিন্তু, রোহিত বলছেন, চোট সারিয়ে ছ’মাস বাদে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রত্য়াবর্তন করা সহজ কাজ নয়। কামব্য়াক করা আর শুধু বলার মধ্য়ে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে।
হ্য়ামস্ট্রিং’য়ে চোটের জন্য় গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় দলের বাইরে কাটাতে হয় হিটম্য়ানকে। এরপর চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফিতে জাতীয় দলে প্রত্য়াবর্তন করেন। তারপর থেকে রোহিতের ব্য়াট প্রায় প্রতিটি ম্য়াচেই কথা বলছে। এর মধ্য়ে দশটি একদিনের ম্য়াচ খেলা হয়ে গিয়েছে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে। তিনটি শতরান ও দু’টি অর্ধ-শতরান রয়েছে। সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে রোহিত বলেন, ”জাতীয় দল থেকে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার পর কামব্য়াক করা সহজ নয়। বিশেষ করে বড় রকমের সার্জারির পর। সবার আগে নিজের ভেতরকার নেতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পুরো ব্য়াপারটাই মানসিক। প্রত্য়েককেই নিজের মানসিক ভীতির সঙ্গে নিজেকে লড়তে হয়। অন্য় কেউ তার হয়ে লড়াই করে দিতে পারে না। আমার ব্য়াটিংয়ে লোকজন সেই আগের মতো সহজ-সরল ভাব দেখছেন। কিন্তু, বিশ্বাস করুন, কাজটা ওই একইরকমভাবে চালিয়ে যাওয়া সত্য়িই সহজ নয়।”
ভয়টা ঠিক কি রকম, দ্রুত গতিতে রান চুরি করতে গিয়ে যদি শেষ সময়ে ডাইভ মারতে হয় আর তাতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় বা কোনও স্পিন বোলারকে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে আবার হ্য়ামস্ট্রিং’য়ে চোট পেয়ে বসেন? হাসতে হাসতে রোহিত জবাব দেন, ”রিহ্য়াবলিশেনের পর যখন আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম এপ্রিল মাসে, তখন আইপিএল শুরু হয়ে গেল। ভারতীয় দলে ফেরার আগে নির্বাচকদের বোঝানোর জন্য় আমি ভালো একটা মঞ্চও পেয়ে গিয়েছিলাম। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে অধিনায়কত্ব দিতে গিয়ে মাঠের ভেতর যখন সিদ্ধান্ত নিতাম, আমার মাথায় ওসব ভাবনা-চিন্তা একবারও আসেনি, আবার যদি আহত হয়ে পড়ি বা ফের চোট লাগলে আমার ক্রিকেট ভবিষ্য়ৎ কোনদিকে যাবে।” হিটম্য়ান এরপর বলেন, ” ভারতীয় দলের হয়ে আমি যখন মাঠে নামি, বিশেষ করে যখন ব্য়াট করি, সেসময় আমার মগজে অন্য় কোনও চিন্তা-ভাবনা আসে না ব্য়াটিং ছাড়া।” ত্রিশ বছরের রোহিত ভারতের হয়ে ১৬৩টি একদিনের ম্য়াচে ৫৭৭৩৭ রান করেছেন ১৩টি শতরানের ইনিংস সহ।
ব্য়াটসম্য়ান রোহিত শর্মার কব্জির মোচড় বা তাঁর অতি সহজে বাউন্ডারি খুঁজে নেওয়া স্ট্রোক-প্লে ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্য়াচে সেদেশের মিস্ট্রি স্পিনায় অকিলা ধনঞ্জয়ে ভারতীয় ব্য়াটসম্য়ানদের ঠকিয়ে ছ’টি উইকেট তুলে নিলেও ব্য়াটসম্য়ান রোহিত তাঁকে ভালো খেলেছিলেন অর্ধ-শতরানের ইনিংসের পথে। আর তারপর পরপর দু’ম্য়াচে শতরান এসেছে তাঁর ব্য়াট থেকে। সে সম্পর্কে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক বললেন, ”ওই হাফ-সেঞ্চুরিটা স্পেশাল ছিল। ওই ম্য়াচে আমাকে অকিলাকে বেশি খেলতে হয়নি। কারণ, ওকে বল দেওয়ার এক ওভার পরেই আমি অন্য় বোলারের বলে আউট হয়ে যাই। তবে, তার পরের দু’টি ম্য়াচে আমি শতরান করি। ওকে খেলতে কোনও রকম অসুবিধা হয়নি আমার। আসলে ও গুগলি বল করলে আস্তে ফেলে। আর লেগ-ব্রেক বল করলে একটি জোরে দেয়। আর অফ-ব্রেক খুব সামান্য় মানের। মিস্ট্রি স্পিনারের ব্য়াপারে একটা কথা জেনে রাখুন। ওরা আপনাকে আলগা বল দেবেই। ধনঞ্জয়া’ও তাই। কোনও আলাদা কিছু নেই।”
বলা হচ্ছে, ব্য়াটসম্য়ান রোহিত অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়াবেন। কথায় আছে, ভারতের সহ-অধিনায়ক প্রতিপক্ষ কে, সেই দেখে প্রস্তুতি নেন না। কোন পরিবেশে খেলতে নামছেন, সেই দেখে তৈরি হন। সে সম্পর্কে কি বলতে চান রোহিত নিজে? (খানিকটা হেসে ) জবাব এলো, ”সবারই নিজেকে তৈরি করার আলাদা আলাদা ধরন থাকে। আমি সেরকম কোন পরিবেশে খেলতে নামছি, সেই কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিই। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলে এবার সেটা সাময়িক পরিবর্তন করব, এটা হতে পারে না। আর দেখুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব টিমেরই একটা কোর গ্রুপ থাকে, সেটা পরিবর্তন হয় না। আর সেই কারণে ওই কোর গ্রুপের সবাই জানে, তাদের কাছে কি প্রত্য়াশা করা হচ্ছে বা হতে পারে। ফলে যে পরিবেশে খেলতে নামছি, সেই অনুযায়ী নিজেকে তৈরি কর নিতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বড় ইনিংস খেলতে গেলে কোন পিচে কোন ধরনের শট কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে, সেটা তো আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। তবেই তো, তৈরি থাকতে পারবেন।”
মিচেল স্টার্ক ও জশ হেজলউড এবার সিরিজে না থাকায় অস্টেলিয়াকে কি ব্য়াকফুটে? রোহিত বলেন, ”স্টার্ক ও হেজলউড ভালো বোলার, এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে, অস্ট্রেলিয়া টিমের প্রায় সকলেই আইপিএলে খেলেছে। ফলে ভারতের পরিবেশ ওদের জানা। ওদেরকে হাল্কাভাবে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না।”
ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় দলের ব্য়াটসম্য়ানদের মধ্য়ে রোহিত শর্মা সবচেয়ে বেশি জোর বল পেটায়। কি বলবেন আপনি? হিটম্য়ান বলেন, ”তেমনটা নয়। আমি একটা ব্য়াপার মাথায় রাখি, আপনি ব্য়াটে করে বলটা মারলেন, সেটা বাউন্ডারি লাইনের ওপারে উড়ে গিয়ে পড়লে, ছয় রান দেন আম্পায়ার। সেখানে ৭৫মিটার দূরত্ব অতিক্রম করলাম নাকি ১১০ মিটার, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। তার মানে, কতটা জোরে মারলাম, তার ওপর জোর দিই না। তার পরিবর্তে আমি শটের টাইমিং, শরীরের ভারসাম্য় ও পজিশনের ওপর জোর দিই।”
সহ-অধিনায়ক রোহিত কি তাঁর নতুন দায়িত্ব উপভোগ করছেন? ”এটা সম্মানের ব্য়াপার। আমার কাজ হল, মাঠে অধিনায়ক বিরাটকে সহযোগিতা করা। দলের অধিনায়কের যখন দরকার পড়বে, পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। যতটা পারব, ততটা সাহায্য়ের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *