তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে ত্রিচি ওয়ারিয়র্সের মেন্টর হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডস এখন ভারতে। সেই সুযোগে সাংবাদিকরা তাঁকে সামনে পেয়ে বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে বক্তব্য় রাখতে বলেন। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জন্টি ক্রিকেট মাঠে ভারতের স্টার ক্রিকেটার রোহিত শর্মার হাবভাবকে তাঁর এক সময়কার সতীর্থ ও ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের অন্য়তম সেরা কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জ্য়াক কালিসের সঙ্গে তুলনা করেন। রোডস বলেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ফিল্ডিং কোচ হওয়ার কারণে বিপক্ষ দলে বিরাট কোহলিকে খেলতে দেখেছি। আমার দেশের এবি ডিভিলিয়ার্সকেও আমি সেভাবে খেলতে দেখিনি। তবে, ভারতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাকে নিয়ে বলতে পারব। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। রোহিতকে দেখলে মনে হয়, যেন গা ছাড়াভাব নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমার মনে পড়ে, জ্য়াক কালিসকেও এভাবে লোকে সমালোচনা করত। ওকে নাকি দেখলে মনে হয় না, কিছু একটা করে দেখানোর তাগিদ রয়েছে। আসলে জ্য়াক পুকুরে চরে বেড়ানো হাঁসের মতো। জলের ওপরে আমরা হাঁসকে ধীরস্থিরভাবে একজায়গায় বসে থাকতে দেখি। জলের নিচে হাঁসের পা কিন্তু ঠিক তার কাজ করে যাচ্ছে নিঃশব্দে। আমার সময়ে আরওএকজন ক্রিকেটার ল্য়ান্স ক্লুজনারকে দেখেও এরকমই লাগত। রোহিতকে ক্রিজে ব্য়াট হাতে দেখলে মনে হয়, এই মনে হয়, ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু, আচমকাই ছয় মেরে, ও আপনাকে অবাক করে দেবে।

ভারতীয় ক্রিকেটের হিটম্য়ান সম্পর্কে লেজেন্ডারি জন্টি আরও বলেন, কোহলির মতো সবসময় আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামেনা রোহিত। তর্কের খাতিরে কোহলির মতো ওরকম মনোভাব মাঝেমধ্য়ে দরকার পড়ে। তবে, তোমাকে নিজের মতো হতেই হবে। কারণ, তুমি আরেকটা শচীন তেন্ডুলকর হতে পারবে না। আর বিরাটও আরেকটা এমএসডি তৈরি হতে পারবে না। সবাই আলাদা চরিত্রের ক্রিকেটার। প্রত্য়েকরই আলাদা আলাদা ব্য়ক্তিত্ব রয়েছে। এই কারণেই এবিডি অন্য়দের থেকে আলাদা। আবার ধোনির দিকে দেখুন, পথ-চলতি আর পাঁচটা মানুষের মতো। কিন্তু, এমএসডির মতো ওরকম কাউকে অতো সাদামাটা হতে আমি দেখিনি।

জন্টির মতে বিরাটের মধ্য়ে সবসময় যে আগ্রাসী মনোভাব রয়েছে, সেটা আবার সবসময় ভালো নয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেশি আগ্রাসী মনোভাব বিপদে ফেলে দিতে পারে। এখন ভারতীয় দল জয়ের মধ্য়ে আছে বলে কোহলির এই সদা আগ্রাসী মনোভাবটা ভালোলাগছে। কিন্তু, দল যখন পারফর্ম করতে পারবে না, তখন? সবাইকে দেখে নেবো, ব্য়াপারটা তখন কেমন লাগবে? এখন, বোলাররা উইকেট নিচ্ছে, দল জিতছে, বিরাট রান করছে – কিন্তু, যখন এর উল্টোটা হবে, তখন কি হবে? সফল অধিনায়ক হতে গেলে তোমাকে সবসময় নিজের কাছে সৎ থাকতে হবে। আমি কেপলার ওয়েলস, হ্য়ান্সি ক্রোনিয়ে আবার শন পোলকের নেতৃত্বে খেলেছি। সবাই আলাদা রকমের মানসিকতার মানুষ ছিল। অন্য়রকম অধিনায়ক ছিল।

ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন একদশকেরও বেশি সময় হয়ে গিয়েছে, কিন্তু, এতদিন পরেও তাঁর মুকুট কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেননি। জন্টি আজও বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত হন। অবসরের পর ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ভারতের বেশিরভাগ সময়টা অতিবাহিত করায় ভারতীয় ক্রিকেটে আজ ফিল্ডিংয়ের উন্নতির জন্য় কোথাও না কোথাও রোডসের অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে এই ফিল্ডিং লেজেন্ড বলেন, উত্থান যখন চোখে পড়ছে, তাহলে তো ভালো কথা। ক্রিকেটার হিসেবে আমার ক্রিকেট জীবনে ভারতের বিরুদ্ধে যখন খেলেছি, তখন সেসময় মহম্মদ কাঈফ, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং সেরা ফিল্ডার ছিল। এমএসডি আর বিরাট – দুজনেই শারিরীক দিক থেকে মজবুত। ফিটনেসের ব্য়াপারটা আসে অ্য়াথলিট হিসেবে কে কতটা দক্ষ, তার ওপর। গত বিশ্বকাপেই দেখেছি, ভারতের ফিল্ডিং দুধর্ষ হয়েছিল। এখন তো বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডিং করে ভারতীয়রা বিপক্ষ দলের ব্য়াটসম্য়ানদের রান-আউট করে দিচ্ছে।

ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে আইপিএলের অবদানকেও কুর্নিশ জানিয়েছেন ফিল্ডিং লেজেন্জ। বলেন, আইপিএলের কারণে ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে, এটা মেনে নিতেই হবে। তরুণ খেলোয়াড়রা এখান থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চের মতো প্রচার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে, উৎসাহ বাড়ছে। টিএনপিএল, আইপিএল-এর মতো প্রতিযোগিতাগুলির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য় ব্য়াপার হল অন্য়ান্য় দেশের আন্তর্জাতিক তারকাদের এই টুর্নামেন্টগুলিতে যোগদান করা। ভারতের তরুণ ক্রিকেটাররা, তাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে, বিশ্ব ক্রিকেটের নানান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে।

ভালো ফিল্ডার হতে গেলে কি করতে হবে? জন্টির পরামর্শ, দুপুরের খাওয়াটা কাবাবের কারখানায় গিয়ে সারলে একেবারেই চলবে না। রিকভারি সবচেয়ে বেশি জরুরি। আইপিএলের পর সুরেশ রায়নাকে দেখেছিলাম – যা পেরেছিল, ট্য়ুইট করছিল। এমনভাবে পরিশ্রম করছিল ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য়, যেন ওর জন্য় আগামিকাল বলে কিছু নেই। আমি ওর ট্য়ুইটের জবাবে লিকেছিলাম, ছোটো ভাই, রিকভারি ট্রেনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে আজকাল অনেক কিছু বদলেছে। অনেক কিছু সহজ হয়ে গেছে। এখন সাহায্য় করার জন্য় ফিজিক্য়াল ট্রেনর রয়েছে, মেন্টর রয়েছে। তবে, সবাইকেই নিজেকে নিজের কাজটা করতে হবে। ঘোড়াকে পুকুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়, তাকে জোর করে জল খাওয়ানো যায় না।

  • SHARE

    আরও পড়ুন

    কোয়ালিফায়ার ২: টস জেতা দলই পাবে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ, জানুন কি হতে পারে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত

    আইপিএল ২০১৮ র আর মাত্র দুটি ম্যাচই বাকি রয়েছে, যার মধ্যে একটি ম্যাচ আজ কলকাতা নাইট রাইডার্স...

    দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচের আগে কুলদীপ যাদব বলে দিলেন এমন কথা, বাড়তে পারে সানরাইজার্সের সমস্যা

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ আজ সন্ধ্যে সাতটায় খেলা হতে চলেছে কলকাতার...

    এসআরএইচ বনাম কেকেআর: ধবনের কাছে বিরাট রেকর্ড বানানোর সুযোগ, ম্যাচে হতে পারে এই রেকর্ড

    এসআরএইচ বনাম কেকেআর: ধবনের কাছে বিরাট রেকর্ড বানানোর সুযোগ, ম্যাচে হতে পারে এই রেকর্ড
    আইপিএল ২০১৮য় আজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে কলকাতার ইডেনে গার্ডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং হায়দ্রাবাদের মধ্যে খেলা হবে,...

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটর ২ এর আগে কেকেআর পেল নিজেদের তারকা, দলে ফিরলেন এই ক্রিকেটার

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটর ২ এর আগে কেকেআর পেল নিজেদের তারকা, দলে ফিরলেন এই ক্রিকেটার
    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলতি মরশুমে শানদার প্রদর্শন করা কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এলিমিনেটর ২ এ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মুখোমুখি...

    এসআরএইচ বনাম কেকেআর: দীর্ঘ সময় পর হায়দ্রাবাদ দলে আবারও এই তারকার ফেরা নিশ্চিত, এসেই দিলেন কেকেআরের বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত বয়ান

    এসআরএইচ বনাম কেকেআর: দীর্ঘ সময় পর হায়দ্রাবাদ দলে আবারও এই তারকার ফেরা নিশ্চিত, এসেই দিলেন কেকেআরের বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত বয়ান
    লাগতার চার ম্যাচে হারের পর সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ একবার আবারও জবরদস্ত ফেরার প্রস্তুতি করছে। দলের উইকেটকীপার ঋদ্ধিমান সাহার...