সফল হতে গেলে ব্য়র্থ হতেও শিখতে হবে – রাহুল দ্রাবিড় 1

ভারতের ব্য়াটিং লেজেন্ড ও ভারতীয় এ দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় মনে করেন, যে কোনও ক্রিকেটারকে তাঁর ব্য়র্থতাটা মন থেকে মেনে নিতে হবে। তবে সাফল্য় আসবে। সাফল্য়ের পথে পাড়ি দেওয়ার আগে নিজের ব্য়র্থতাটা মেনে নেওয়াই হল প্রথম ধাপ। এসিএ সেন্ট্রাল জোন অ্য়াকাডেমিতে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আসা তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের এই উপদেশ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘দ্য় ওয়াল’।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক দ্রাবিড় তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলেন, ”ক্রিকেটাররা যখন ব্য়র্থ হয়, তখন তার দায় আম্পায়ারের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে। কোচকে দোষারোপ করে। না হলে আবহাওয়া, পিচ বা নিজের ভাগ্য়কে দোষ দেয়। আসল ব্য়াপারটা গা থেকে ঝেড়ে ফেলে, তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সত্য়িটাকে সামনে আনতে চায় না। কিন্তু, মানুষের উচিত ব্য়র্থতাটাকে যথাযথভাবে গ্রহণ করা এবং সেটাকে কাজে লাগানো, তার থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত আরও ভালো করার জন্য। যারা ব্য়র্থতা থেকে শিক্ষা নেয়, তারাই সফলতার শীর্ষে যায়। বেশিরভাগ সময় ক্রিকেটাররা ব্য়র্থ হলে হতাশ হয়, আবার সফল হলে খুশি হয়। এইভাবে মনের ভাব ওঠা-নামা করে। কিন্তু, আসল ব্য়াপার হলো, সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য় নিয়ন্ত্রণ করা। ক্রিকেট ম্য়াচ হোক কিংবা জীবন, সব ক্ষেত্রেই এটা শেখা দরকার। ব্য়র্থতাকে কিভাবে গ্রহণ করতে হয়, সেটা শেখাও গুরুত্বপূর্ণ ব্য়াপার।”
তাঁর বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ারে সফলতা ও ব্য়র্থতা দু’টিই দেখেছেন জ্য়ামি। কিন্তু, কখনও ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি তাঁকে। বিতর্ক না সৃষ্টি করে, সব জবাব ব্য়াট দিয়ে দিতেন সময় এলে। কোনও সময় তাঁকে মাথা গরম করতেও দেখা যায়নি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উইকেট কাটিয়ে দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা ছিল দ্রাবিড়ের ব্য়াটিংয়ের মধ্যে। জ্য়ামি বলছেন, ”আসল লক্ষ্য় হওয়া উচিত, গন্তব্য়স্থলে পৌঁছানো। যদি ক্রিকেট মাঠে তোমার লক্ষ্য় পূরণ নাও হয়, তোমার কাছে তখনও একটা লক্ষ্য় ঠিক থেকেই যায়। ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার। তাই ব্য়র্থতাকে ভয় পেতে নেই এবং সফলতায় ভেসে যেতে নেই।”
ভালো ক্রিকেটার হতে গেলে সবার আগে ভালো টিমম্য়ান হতে হয়। নিজের আগে দলে কথা ভাবত হয়। স্বার্থপরতা ভুলে স্বার্থহীন হতে হয়। দ্রাবিড় বলছেন, ”ক্রিকেট দলগত খেলা। সবকিছুই পার্টনারশিপের ওপর নির্ভর করে। একে অপরকে সাহায্য় করা এবং পাশে দাঁড়ানো। বন্ধুত্বের বন্ধনটা গাঢ় হওয়া উচিত। স্বার্থপর হলে তোমায় ভুগতে হবে। তাই ভালো টিমম্য়ান হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো ব্য়ক্তি হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *