বিসিসিআইকে আরও ধনী করেই জার্সির সত্ত্ব দখল করল ‘অপো’ 1
ভারতের ক্রিকেট জার্সিতে এবার দেখা যাবে এই নাম

সবমিলিয়ে গত মঙ্গলবার দিনটা বেশ ভালই কাটল ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য। একদিকে বেঙ্গালুরুতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জেতা, অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বেশি টাকার স্পনসর পাওয়া।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় টেস্টের প্রায় শেষ লগ্নে যখন অশ্বিনের দুর্দান্ত স্পিনে কোহলিরা জয়ের গন্ধ পাচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতীয় ক্রিকেটকে ভুড়ি ভূড়ি টাকা দিয়ে কোহলিদের জার্সিতে নাম লেখাল চাইনিজ মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘অপো’।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য ভারতীয় মহিলা ও পুরুষ জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জার্সি ও অনুশীলনের অন্যান্য জিনিসের ওপর দেখা যাবে অপোর লোগো। ভারতীয় ক্রিকেটকে স্পনসর করার জন্য নিলাম শুরু হয় এদিন। ভারতীয় ক্রিকেট জার্সির পূর্ববর্তী স্পনসর স্টার ইন্ডিয়া সহ ন’টি সংস্থা নিলামের জন্য ফর্ম ভরলেও, এদিন নিলামের টেবিলে মাত্র দুটি সংস্থা অংশগ্রহণ করে। রেকর্ড পরিমান টাকা দিয়ে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বী ভিভো মোবাইল সংস্থার মুখ বন্ধ করে দেয় অপো। ভিভো ৭৬৮ কোটি ভারতীয় মুদ্রার সর্বোচ্চ বিডের সামনে ১০৭৯ কোটি ভারতীয় মুদ্রার বিনিময়ে জিতে যায় অপো।

২০২২ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিকের প্রতি ম্যাচের জন্য বিসিসিআই ২.২ কোটি ভারতীয় মুদ্রা দিয়ে নিলাম শুরু করেছিল। সেই জায়গায় অপো ৪.১ কোটি ভারতীয় মুদ্রা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে, বিসিসিআই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতি ম্যাচের দাম ঠিক করেছিল ৭০ লক্ষ, অপো সেখানে ১.৫৬ কোটি ভারতীয় মুদ্রা দেওয়ার জন্য রাজি হয়।

এর আগে স্টার প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক খেলার জন্য ১.৯২ কোটি ও এসিসি ও আইসিসির প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬১ লক্ষ টাকা করে দিত। আগামী পয়লা এপ্রিল থেকেই ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে অপোর নাম।

বিসিসিআই ও আইসিসির টানাপোড়েনের জেরে স্টার ভারতীয় ক্রিকেটকে স্পনসর করবেনা জানিয়েই দিয়েছিল স্টার ইন্ডিয়ার সিইও কিরণ শঙ্কর। এরপর স্পনসরশিপ নিয়ে বেশ টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। আখেরে লাভই হল বিসিসিআইয়ের। এক ধাক্কায় আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা পাবে এবার তারা। বিসিসিআইয়ের মুখ্য আধিকারিক রাহুল জোহরি বলেন, “ন’টা কোম্পানি বিডের জন্য অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও মাত্র দু’টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। বিসিসিসিআইয়ের আইন শাখা ও অডিটররা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই নিলাম সম্পন্ন করেছে। পূর্বের সত্ত্বের থেকে প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবারের সত্ত্বের পরিমাণ।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *