এই বয়সে টাকার জন্য কেউ খেলে না, আমার শরীরকে বারোবার ছুরি দিয়ে কাটা হয়েছে – আশিস নেহরা 1

ছত্রিশ বছরের যুবরাজ সিংয়ের দল থেকে ছাঁটাই হওয়া নিয়ে যখন ভারতীয় ক্রিকেট ফ্য়ানরা শোক পালন করছেন, ঠিক সেই সময়ই আরও একবার ভারতীয় দলে কামব্য়াক করছেন আটত্রিশ বছরের আশিস নেহরা। চোট-আঘাতে কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়ে দিলেও, বিগম্য়াচ বোলার হিসেবে পরিচিত দিল্লির বাঁ-হাতি পেস বোলার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাত অক্টোবর থেকে তিন ম্য়াচের টি-২০ সিরিজ শুরু হতে চলেছে। ভারতীয় দলে তিন ম্য়াচের সিরিজের জন্য নেহরাকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। টেস্ট ও ওয়ান-ডে ম্য়াচ ছেড়ে এখন শুধু টি-২০ ক্রিকেট খেলেন দিল্লির এই পেস বোলার। দেশের হয়ে শেষ টি-২০ ম্য়াচ খেলেছিলেন ইংল্য়ান্ড সিরিজে। তারপর আইপিএলের সময় চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান।

যুবরাজ-রায়নার মতো অতীতের তারকারা যেখানে ব্য়র্থ, সেখানে তিনি এই বয়সে ভারতীয় দলে কামব্য়াক করছেন। কেমন লাগছে ব্য়াপারটা? একটি সংবাদ সরবরাহকারী সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে প্রসঙ্গে নেহরা বলেন, ”ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে কার না ভালোলাগে? সমালোচনা নিয়ে আমি কোনও দিনও মাথা ঘামাই না। ভারতীয় ড্রেসিং রুম ভালো করে জানে, আমি কি দিতে পারি। দলের নেতাও জানে। আমি দলে থাকলে, নিজের অবদান রাখবই রাখব, এটা সবাই ভালো করে জানে।

জাতীয় দলে ফিরছেন, টার্গেট কি? নেহরা বলেন, এই বয়সে এসে কোনওরকম টার্গেট সেট করতে লাগে না। আমাকে তিনটি ম্য়াচ খেলার জন্য দলে নেওয়া হয়েছে। এক একটা ম্য়াচ ধরে ধরে আমি এগোবো। এমনিও, আশিস নেহরা ভালো খেললে খবর, আবার ভালো না খেললে আরও বড় খবর হয়।

এই কদিন আগেই স্মার্টফোন ব্য়বহার করা শুরু করেছেন আশিস। ফেসবুক-ট্য়ুইটারে মতো সোশ্য়াল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে শতহাত দূরে থাকেন। ট্য়ুইটারে ইদানিং তাঁর বয়স নিয়ে যে সমস্ত জোক্স পোস্ট হয়, তা নিয়ে কোনওরকম তাপ-উত্তাপ নেই নেহরার মধ্য়ে। বলছেন, ট্য়ুইটারে আমায় নিয়ে লোকজন কি বলে আমি তাই জানি না। লোকে আমায় সোশ্য়াল মিডিয়াতে দেখতে পায় না, তা আমায় নিয়ে এতদিন কথা হতো না। এখন ভারতীয় দলে ফিরছি, তাই লোকজন আমায় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। না হলে দলে যখন ছিলাম না, আমি তখন ট্রেনিং নিচ্ছিলাম, ফিটনেস নিয়ে খাটছিলাম আর বোলিং অনুশীলন করছিলাম।

আশিস নেহরা এই বয়সেও ভারতীয় দলে কামব্য়াক করছেন। তরুণদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করবেন।  এই অবস্থায় তাঁকে নিয়ে কথা হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু নেহরা বলছেন, কথাটা ঠিক। লোকজন জানত না, আমি এতদিন কি করছিলাম। তবে অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং নির্বাচক মণ্ডলীর প্রধান ঠিক জানত, আমি কি করছিলাম, কোথায় ছিলাম। ভারতের হয়ে দিল্লির এই স্পিডস্টার এখনও পর্যন্ত ২৬টি টি-২০ আন্তর্জাতিকের পাশাপাশি ১২০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ১৭টি টেস্ট ম্য়াচ খেলেছেন।

আটত্রিশ বছরে পৌঁছেও আশিস এখনও ধারাবাহিকভাবে একশো চল্লিশ কিলোমিটার বেগে বল করে যান। বয়স বাড়লেও জাহির খানের মতো বলের গতি কমিয়ে বোলিংয়ে বৈচিত্র আনার দিকে ঝোঁকেননি তিনি। সে প্রসঙ্গে নেহরা বলেন, জ্য়াক কতগুলি টেস্ট ম্য়াচ খেলেছে, সেদিকে আগে দেখুন। ওকে অনেক ওভার বল করতে হয়েছে। ফলে ওকে নিজের এনার্জি বাঁচাতে বলের গতি কমাতে হয়েছিল। ওর ইকোনমি রেটের দিকে তাকান একবার।  ব্য়াটসম্য়ানদের বিব্রত করতে যেমন বোলিংয়ে কারকুরি থাকত, তেমন আশি শতাংশ পেসও থাকত বলে। আমি তো ইদানিং শুধু টি-২০ ক্রিকেট খেলে যাচ্ছি। আমার বোলিং অ্য়াকশনও ঝরঝরে নয়। টি-২০ ক্রিকেটে একটা ম্য়াচে চব্বিশটা মাত্র বল পাই, সেখানে  আশি কিলোমিটার বেগে বল করা যেতে পারব না। আমার বোলিং অ্য়াকশনটাই এমন যে এই বয়সেও বলে গতি ঠিক একইরকম আছে।

বছরে বড়জোর ভারতের হয়ে ৭-৮টা ম্য়াচে অংশ নিতে পারবেন, যদি চোট-আঘাতে না ভোগেন। কোথা থেকে মোটিভেশন পান! নেহরা বলেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস এলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার ঊনিশ বছর হয়ে যাবে। আমি আর হরভজন সিং – ভারতীয় দলে আমাদের অভিষেক হয়েছিল মহম্মদ আজহারউদ্দিনের আমলে।  ওই সময়ের এখনও পর্যন্ত আমরা দুজনই এখনও ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাচ্ছি। মোটিভেশন তো একটা থাকবেই। নাহলে কোনও খেলোয়াড় খেলা চালিয়ে যেতে পারে না। এই বয়সে এসে আমি টাকার জন্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছি না। আমার শরীরে বারোবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। যে কোনও খেলোয়াড়কে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, জানতে পারবেন, একটা অস্ত্রোপচারের পর ফের খেলোয়াড় জীবনে ফিরতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়। আমার শরীরকে বারোবার  ছুরি দিয়ে কাটা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *