ধোনি, কুম্বলের পর আরও এক ভারতীয় নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন 1

ললিত মোদী। ভারতীয় ক্রীড়া প্রসাশনে খুব পরিচিত নাম। ভদ্রলোক কি না, জানা নেই। তবে, এই লোকটা না থাকলে ভারতে ‘ইয়ে হ্য়ায় ইন্ডিয়া কে তেওহার’ বা ‘ইয়ে দশ সাল আপকে নাম’ ভারতের ঘরে ঘরে, গলিতে গলিতে, চায়ের ঠেকের আড্ডাতে পৌঁছতো না। আইপিএল ললিত মোদীরই ব্রেইন-চাইল্ড। হতে পারে, প্রথমে ভারতীয় ফুটবলে আইপিএল-এর মতো টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিলেন মোদী। সেখানে তাঁর এই অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে চাওয়াটাকে পাগলের প্রলাপ ভেবে বাতিল করে দেওয়ার পর ক্রিকেটে নজর দেন। হতে পারে, ভারতের মিডিয়া জায়ান্ট জি নেটওয়ার্কের সেই সময়কার ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল)-কে দেখেই বিসিসিআই নিজের একটা টি-২০ টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু, ললিত মোদীই তার মূল উদ্য়োক্তা। বিসিসিআই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে তাঁকে অনেকদিন আগে ছেঁটে ফেললেও, আইপিএলের জন্মে ললিত মোদীর অবদান কোনওদিনই অস্বীকার করা যাবে না। আর আইপিএল-এর কারণেই অনেক বেনামী ক্রিকেটার আজ প্রচারের আলোয়। দশ বছরের আগেও এটা ভাবা যেত না।
বিসিসিআই’য়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর তাড়া খেয়ে বিলেত চলে গেলেও, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। রাজস্থান ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন এমন অনেক ক্রিকেট সংক্রাত কাজের সঙ্গে। কিন্তু, শুক্রবার থেকে আপাতত ক্রিকেট প্রশাসকের পদ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন প্রাক্তন আইপিএল কমিশনার ললিত মোদী।
গতকাল ট্য়ুইট করে মোদী জানান, রাজস্থানের নাগাউর ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশনের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। পঞ্চাশ বছরের এই ক্রীড়া প্রশাসক তাঁর ওই ট্য়ুইটের সঙ্গে তিন পাতার একটি চিঠি-র ছবিও পোস্ট করেন। চিঠিটি লেখা তাঁর ইস্তফার কথা বিসিসিআই সিইও রাহুল জোহরিকে জানিয়ে। চিঠিতে রাজস্থান ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশনকে আবার সেরা করে তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন মোদী।
চিঠিতে ললিত মোদী লিখেছেন, ”ভারতীয় ক্রিকেটে আমার এই সফর বেশ লম্বা। কখনও কখনও রুক্ষ ও খাড়াই পথে হাঁটতে হয়েছে। তবে, ভবিতব্য়ই উৎকৃষ্টতার মূল লক্ষ্য় সবসময়ই। এই পনেরো বছরের সফরের প্রত্য়েকটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি।” ললিত আরও লিখেছেন, ”কিন্তু, সময় এসেছে সরে দাঁড়ানোর। নতুন প্রজন্মের কারও হাতে ব্য়াটনটা তুলে দেওয়ার। তাই ক্রিকেট প্রশাসকের পদকে আজ থেকে আপাতত বিদায় জানাতে চাই আমি।”
যে ট্য়ুইটে ললিত এই তিন পাতার ইস্তফাপত্রটি পোস্ট করেছিলেন, সেটি আইপিএল নিয়ে করা। সেখানে তিনি লিখেছেন, ”প্রিয় ক্রিকেটপ্রেমীরা ও যাঁরা এই খেলার মূল জীবন শক্তি, আমি তাঁদের সকলকে ধন্য়বাদ জানাতে চাই আইপিএলকে সফল করার জন্য়।”
প্রসঙ্গত, আইপিএল শুরু হওয়ার পর প্রথম তিন বছর এই ক্রোড়পতি লিগের মুখ্য় কর্তা ছিলেন ললিত মোদী। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ এনে তাঁকে বরখাস্ত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ইডি, ইনকাম ট্য়াক্স ডিপার্টমেন্ট, সিবিআই ও চেন্নাই পুলিশ সহ একাধিক তদন্তকারী সংস্থা মোদীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে আইপিএল থেকে টাকা সরানোর এবং বেআইনি লেনদেনের। ২০১৩ সালে বিসিসিআই তাঁকে নির্বাসিত করার পর লন্ডনে পালিয়ে যান ললিত। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি গত মার্চে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, মোদীর বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে পলাতক আসামী হিসেবে ওয়ারেন্ট জারি করতে। কিন্তু, ইন্টারপোল সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। ফলে তাঁকে আর ভারতে ফিরিয়ে আনা যায়নি।
এতদিন লন্ডন থেকেই রাজস্থান ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশনের কাজকর্ম দেখতেন ললিত মোদী। আর তার কারণেই রাজস্থান ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশনকে বিসিসিআই নির্বাসিত করে রেখেছে। গত তিনবছরে আইপিএলের সময় একটিও ম্য়াচ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি তাদের। ললিত মোদী তাঁর সব সম্পর্ক ছিন্ন করায় এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে রাজস্থান ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশন। বিসিসিআই’য়েরও নির্বাসনের সাজা বলবৎ রাখার আর কোনও কারণ নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *