না…এবারেও হলো না। তীরে এসে তরী ডুবল। বারো বছর পরেও শেষ ধাপে এসে আটকে গেল মিতালি রাজের ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। হয়ত এটাই ভবিতব্য ছিল। মিতালি আর ঝুলনকে হয়ত বিশ্বকাপ না পাওয়ার কাঁটাটা সারা জীবন খোঁচাবে। ২০০৫-এ ভারত রানার্স-আপ হয়েছিল, এবারও সেই রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। ইংল্য়ান্ডের মহিলা দল চারবারের বিশ্ব চ্য়াম্পিয়ন।

ক্রিকেটের মক্কায় নীল জার্সির দাপটের স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেল। চাপের মুখে ভেঙে পড়ল ভারতের মেয়েরা। স্নায়ুর লড়াইয়ে উত্তীর্ণ ক্রিকেটের জনকদের দেশের মেয়েরা। ঘরের মাটিতে চেনা পরিবেশে নয় রানে জয়। ভারত অধিনায়িকা নিজেই ব্য়র্থ। সামনে থেকে আসল মুহূর্তে আর দক্ষ সেনাপতির উদাহরণটা তুলে ধরা হলো না। কিন্তু, দেশের মানুষ ভারতের মেয়েদের পাশে। বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, তা কি কম গর্বের নাকি।

দেশের মানুষ যেমন তাঁদের পাশে, মিতালি রাজও তাঁর দলের পাশে। দলটা ফাইনাল খেলছে। আর সেটা গর্বের ব্য়াপার। পুরো টুর্নামেন্টেই গোটা টিমটা পারফর্ম করেছে। মিতালির কথায়,

কাজটা ইংল্য়ান্ডের জন্য়ও সহজ ছিল না। তবে, শেষ পর্যন্ত ওরা স্নায়ু চাপটা সামলেছে। তার জন্য় ওদের বাহবা দিতেই হবে। কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ওরা সত্য়িই খুব ভালো খেলেছে। ওখানেই ওরা এগিয়ে যায় আমাদের চেয়ে। তবে, আমার দলের মেয়েদের বলতে চাই যে আমি ওদের জন্য় গর্বিত। গোটা টুর্নামেন্টে ওরা কোনও দলকে সহজে ছেড়ে দেয়নি। দরশকদেরকেও আমি ধন্য়বাদ জানাতে চাই। মহিলা ক্রিকেটকে সমর্থন জানানোর জন্য়। মাঠে এসে খেলা দেখার জন্য়। আর আমাদের ঝুলন যে বিশ্বমানের বোলার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বহুবার নিজের জাতটা সকলকে চিনিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট মাঠে।”’

মিতালি আরও বলেন,

আমাদের ব্য়াটিং বিভাগটা একটু অনভিজ্ঞ। তাই জন্য় স্নায়ুর চাপ সামলানোর মুহূর্তে অনেকেই ভেঙে পড়েছে। তবে, এই যে আমরা এখান থেকে খেলে বাড়ি ফিরব। আমি নিশ্চিত, আমরা এখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছি। আর এই অভিজ্ঞতাটা আমাদের ব্য়াটটম্য়ানদের কাজে লাগবে।

বিশ্বকাপ অধরা রয়ে গেল। এখনই চৌঁত্রিশ হয়ে গিয়েছে। আর চার বছর কি খেলা চালিয়ে যাবেন? দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নতো সব ক্রিকেটারের ছোটোবেলা থেকেই থাকে। উত্তরটা নিজেই দিয়ে দিলেন ঝুলন।

আমি হয়ত আর দু-বছর ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাব। এখন এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি তাই বলতে পারি। কিন্তু, চার বছর, সময়টা অনেক বড়। অতদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারব কি না, আমি জানি না। ঝুলনও অনেক দিন ধরে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। কেরিয়ারে অনেক সাফল্য় পেয়েছে। ওকে দেখে অনেক তরুণ প্রতিভা ক্রিকেট খেলের জন্য় এগিয়ে এসেছে। আমি মনে করি ভারতে ছবিটা এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ভারতের মানুষও এবার থেকে মহিলা ক্রিকেট নিয়ে উইসাহ দেখাবে।

SHARE

আরও পড়ুন

আইপিএল ২০১৯: যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে ভেড়াতে পারে গৌতম গম্ভীরকে

দুই বিশ্বকাপ আসরের ফাইনালে দলের পক্ষে সেরা ইনিংস খেলে দলকে জয়ী করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা গৌতম গম্ভীরকে...

TOP5: যে ৫ বাংলাদেশী ক্রিকেটারের দিকে নজর দিতে পারে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি

আগামী বিশ্বকাপের আগে বসতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের বারোতম আসর। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই টুর্নামেন্টে বসে...

আইপিএল ২০১৯: মুস্তাফিজকে দলে ভেড়াতে চাইবে যে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজকীয় অভিষেক হবার পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।...

TOP5: ওয়ানডেতে সর্বকালের সেরা ৫ উইকেটরক্ষক

গ্লাভস হাতে তিন কাঠির পেছনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলের দিকে তাকিয়ে থাকেন উইকেটরক্ষক। বল গ্লাভস বন্দী করে ব্যাটসম্যানকে...

TOP5: আইপিএলে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো পাঁচ ব্যাটসম্যান

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল যেন প্রতিভাবান ক্রিকেটার খোঁজার এক আতশ কাচ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে হওয়া এই...