ওঁদের দুজনকে দলে নাও, তাহলে ভারতকে কেউ হারাতে পারবে না, এমনটাই কোহলিকে বললেন সহবাগ! 1

২০১৯ বিশ্বকাপের দিকে নজর রাখছেন জাতীয় নির্বাচকরা। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীর ইচ্ছেকে প্রাধান্য় দিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারদের উপেক্ষা করে তরুণ ক্রিকেটারদর ওপর ভরসা রাখা হচ্ছে। যুক্তি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে এই দাঁড়াচ্ছে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যেতে হবে, না হলে বাদ পড়তে হবে। আর উল্টোদিকে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগের পর সুযোগ দিয়ে যাওয়া হবে। ধারাবাহিকতা তাঁদের বিশ্বকাপ যাওয়ার মাপিকাঠি নয়। প্রধান নির্বাচক, অধিনায়ক ও কোচের মন্তব্য়ে এটাই ঠাওরায়। কারণ, তরুণ ক্রিকেটাদের ঘাড়ে ওপর কোনও রকম খাঁড়া ঝোলানো হয়নি আবার তাঁদের কড়া শাসানিও দেওয়া হয়নি বাইরের দরজা দেখিয়ে দেওয়ার। অধিনায়ক বিরাট কোহলি নিজেকে কোন দলে ফেলবেন – তরুণ, না সিনিয়র, সেই বিষয়টাই বক্তব্য়ে পরিষ্কার নয়। শ্রীলঙ্কায় পরপর দু’ম্য়াচে ব্য়র্থ হওয়ার পর এই প্রশ্ন বিরাটের অতিবড় সমর্থকও করবেন। এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই এই মুহূর্তে জাতীয় দলে খেলা বেশিরভাগ তরুণ ক্রিকেটারই কোহলি এবং শাস্ত্রীর প্রিয়পাত্র। টেস্ট সিরিজই তার প্রমাণ। অভিনব মুকুন্দ রান করেও তাঁকে পরের দু’টি টেস্টে কোহলি-শাস্ত্রীর প্রিয়পাত্রকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য় রিজার্ভ বেঞ্চে চলে যেতে হয়েছিল।
ধোনির কাছে তাঁর এখনও অনেক কিছু শেখার আছে বলে প্রাক্তন অধিনায়ককে এখনও ছেঁটে ফেলেননি বর্তমান অধিনায়ক। তবে, বিরাট কোহলি তাঁর ভবিষ্য়ৎ দল থেক দুই সিনিয়র ক্রিকেটার যুবরাজ সিং ও সুরেশ রায়নাকে একেবারেই ছেঁটে ফেলেছেন। কিন্তু, ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ একেবারেই এই যুক্তিকে সমর্থন করেন না। বীরুর মতে যুবি এবং রায়নার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দলে থাকলে ব্য়াটিংয়ে ধার বাড়বে।
ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে পড়ে প্রধান নির্বাচক যতই বলুন, যুবরাজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, বাদ দেওয়া হয়নি, তা কিন্তু ধোঁপে টেকে না। যিনি খেলার মধ্য়েই নেই তাঁকে কি করে বিশ্রাম দেওয়া যায়? রায়না সম্পর্কে কোনও কিছুই বলা হয়নি। মিডিয়ায় শুধুমাত্র তাঁকে নিয়ে আলোচনা করে যাচ্ছে, রায়নাকে কেন গত দু’বছর ধরে জাতীয় দলে জায়গা দেওয়া হচ্ছে না?
পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে যুবি ও রায়নার বদলে লোকেশ রাহুল, মণীশ পান্ডে ও কেদার যাদবকে একের পরপর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে জাতীয় দলের মিডল অর্ডারে। যদিও রাহুল বাদে বিরাটের দুই তরুণ তুর্কী টানা ব্য়র্থ হয়ে চলেছেন। আর এই ব্য়র্থ হওয়া ক্রিকেটারদের দিয়ে কি করে বিশ্বকাপ আসবে, তা অধিনায়ক আর কোচই জানেন। বীরুরু মতে পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলার জন্য় কেদার ও মণীশের কমপক্ষে একশোটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্য়াচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই যুবি আর রায়নাকে ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বেশি করে প্রয়োজন। সেহওয়াগ বলেন, ”কেদার যানব ও মণীশ পান্ডে অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে, ওদের বিশ্বকাপ খেলার মতো অভিজ্ঞ হতে গেলে কমপক্ষে ১০০টি ওয়ান-ডে ম্য়াচ খেলতে হবে তার আগে। রায়না আর যুবি মিডল অর্ডারে থাকলে ভারতীয় ব্য়াটিং লাইনআপের ধার বাড়বে।”
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলতি একদিনের সিরিজে ধোনি দু’টি ধীর গতির ইনিংস খেলেছেন। আর তা দলের জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ইদানিং ধোনি আর আগের মতো বিস্ফোরক ইনিংস খেলতে পারছেন না। আক্রমণাত্মক খেলা ছেড়ে রক্ষণাতমক খেলায় মন দিয়েছেন। সে প্রসঙ্গে বীরু বলেন, ”একটা ম্য়াচে একটা ক্রিকেটার কেমন খেলল, তার ওপর কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। আর অল্প বয়সে একটা ক্রিকেটার যেভাবে পারফর্ম করত, সে বেশি বয়সে এসেও একই রকম পারফর্ম করবে, এটা কখনই আশা করা যায় না। সব খেলোয়াড়ের জীবনেই এই সময়টা আসে। তবে, যখন সময় আসবে, ধোনির অভিজ্ঞতা ঠিক কাজে লাগবে দলের।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *