আইপিএল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আরো এক ফ্রাঞ্চাইজি 1

ইতোমধ্যে সবারই জানা হয়ে গিয়েছে যে, দুই বছর বহিষ্কৃত থাকার পর আগামী আসর থেকে আবারও আইপিএল এ ফিরছে রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংস। তবে এই দুই ফ্রাঞ্চাজির পাশাপাশি আরো একটি দল ভারতের এই জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ফিরতে পারে। ২০১০ সালে আইপিএল দুনিয়ায় আবির্ভাবের পরে কেবলমাত্র একটি আসরে অংশ নেয়া কোচি টাস্কার্স ফ্রাঞ্চাইজি আবারো ফিরছে টুর্নামেন্টে এমনটাই শুনা যাচ্ছে চারিদিকে।

আইপিএল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আরো এক ফ্রাঞ্চাইজি 2

২০১০ সালে পাঁচটি পৃথক কোম্পানি একসঙ্গে রেন্ডেভাস স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড নামে এক কোম্পানির ছাতার তলায় এসে আইপিএল-এ কোচি টাস্কার্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে এক বছর পরেই ২০১১ সালে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইপিএল-এ কালো তালিকাভুক্ত হয়ে পড়েছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দলের অভ্যন্তরীণ ঝামেলার কারনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি-র দশ শতাংশ ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি হিসেবে জমা রাখতে পারেনি ফ্রাঞ্চাইজিটি। যার ফলে বিসিসিআইয়ের তরফে ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয় কোচিকে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোচি ফ্রাঞ্চাইজিকে নিয়মভঙ্গের পরে ছয় মাসের ডেডলাইন দিয়ে বলা হয়েছিল নতুনভাবে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে। কিন্তু এরপরও তারা ব্যর্থ হয় এবং ফলাফল সরূপ আইপিএল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাদেরকে।
শুধুমাত্র বহিষ্কার করেই থেমে থাকেনি বিসিসিআই! বহিষ্কারের পাশাপাশি আগের ১৫৬ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টিও বোর্ড নিয়ে নিয়েছিল।

আইপিএল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আরো এক ফ্রাঞ্চাইজি 3

তবে চুপ থেকে সব মেনে নেয়নি কোচি ফ্রাঞ্চাইজিও। এর কিছুদিন পরেই বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ফ্রাঞ্চাইজিটি। টানা চার বছর আইনি লড়াই চালানোর পর ২০১৫ সালে আদালতের পক্ষ থেকে আশানুরূপ রায় পেয়েছিলেন কোচি-র মালিকরা। তৎকালীন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি আর সি লাহোটি বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ৫৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য।

পাশাপাশি আদালতের তরফে এমনও বলা হয়েছিল যে, যদি বোর্ড নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে না পারে, তাহলে প্রত্যেক বছরে জরিমানা বাবদ অতিরিক্ত ১৮ শতাংশ টাকা দিতে হবে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এমন রায়কে মেনে নেয়নি এবং চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করে।

একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচি বনাম বোর্ড যুদ্ধে প্রায় হারের মুখেই আছে বিসিসিআই। এমনকি বিসিসিআইকে ১০৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে কোচি ফ্রাঞ্চাইজিকে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে বোর্ড এবার সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ অন্য পন্থা নিতে চলেছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েক মাস আগে বোর্ডের বিশেষ সাধারণ সভায় বোর্ডের সচিব অমিতাভ চৌধুরী বিসিসিআইয়ের অন্যান্য আধিকারিকদের এই বিষয়ে অবগত করেন।

 

তিনিই বোর্ডের বাকি সদস্যদের আদালতের বাইরে এই আইনি লড়াইয়ের মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন, যা বোর্ডের অনেকেরই পছন্দ হয়নি। হারের মুখে থেকেও কোচি কর্তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে চাইছেন না বোর্ড আধিকারিকরা। তবে এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, কোচি আইপিএল-এর মূল টুর্নামেন্টে খেলার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সবুজ সঙ্কেত আদায় করে নিতে পারে কী না!

Nazmus Sajid

Sports Fanatic!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *