হারের পর আবেগি কয়েনও উইলিয়ামস্ন ডেভিলিয়র্স-মইন আলি নয়, এই খেলোয়াড়কে দিলেন জেতার শ্রেয়
ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই

গতকাল চিন্নাস্বামীতে মুখোমুখি হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। হায়দ্রাবাদ যেখানে ইতিমধ্যেই প্লে অফের জন্য কোয়ালিফাই করে ফেলেছে সেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু এখনও প্লে অফে পৌঁছনোর জন্য লড়াই করে চলেছে। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্যাঙ্গালুরু নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান তোলে। জবাবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০৪ রানই তুলতে পারে। এই ম্যাচ ১৪ রানে জিতে নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে পৌঁছে গেল ব্যাঙ্গালুরু।

মইন আলি-ডেভিলিয়র্সের ইনিংস

হারের পর আবেগি কেন উইলিয়ামসন ডেভিলিয়র্স-মইন আলি নয়, এই খেলোয়াড়কে দিলেন জেতার শ্রেয় 1
ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই

এই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাঙ্গালুরুকে প্রথমে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই আউট হয়ে যান ব্যাঙ্গালুরুর দুই ওপেনার পার্থিব প্যাটেল এবং বিরাট কোহলি। এরপরই ক্রিজে আসেন ব্যাঙ্গালুরুর দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবি ডেভিলিয়র্স এবং মইন আলি। এই দুই ব্যাটসম্যানের সামনে হায়দ্রাবাদের বোলিং ব্যর্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু একদিক থেকে বোলিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে ভাল বোলিং করতে থাকেন রশিদ খান। রশিদ চার ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে তিনটি বড় উইকেট তুলে নেন। রশিদ খানের প্রথম শিকার হন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এরপর একই ওভারে ডেভিলিয়র্স এবং মইন আলির উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাঙ্গালুরুর রানের গতিকে কম করে দেন এই আফগান স্পিনার। হায়দ্রাবাদের সবচেয়ে দামী বোলার প্রমানিত হন বাসিল থাম্পি। তিনি চার ওভারে ৭০ রান দেন কিন্তু কোনও উইকেট পান নি। সিদ্ধার্থ কৌল ২টি এবং সন্দীপ শর্মা একটি উইকেট নেন।

কাজে লাগে নি উইলিয়ামসনের ইনিংস

হারের পর আবেগি কেন উইলিয়ামসন ডেভিলিয়র্স-মইন আলি নয়, এই খেলোয়াড়কে দিলেন জেতার শ্রেয় 2
ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই

জবাবে ব্যাট করতে নেমে হায়দ্রাবাদের দুই ওপেনার শিখর ধবন এবং অ্যালেক্স হেলস দুর্দান্ত শুরুয়াত করেন। এই দুজনের আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং মনীশ পাণ্ডে। উইলিয়ামসন আরও একবার অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। দুর্দান্ত ব্যাট করে তিনি এই মরশুমের অষ্টম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। উইলিয়ামসনের যত প্রশংসা করা যায় ততই কম হয়। দারুণ ছন্দে থাকা হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক চার ছয়ের বন্যা শুরু করে দেন। অন্যদিকে অধিনায়কের সঙ্গে দারুণ সহযোগ করেন মনীশ পান্ডেও। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যানই দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন। উইলিয়ামসন ৪২ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন পাঁচটি ছয় এবং ৭টি চারের সাহায্যে। অন্যদিকে মনীশ পান্ডেও ৩৮ বলে ২টি ছয় এবং সাতটি চারের সাহায্যে ৬২ রান করেন।

২০ তম ম্যাচ পালটে দেন সিরাজ

হারের পর আবেগি কেন উইলিয়ামসন ডেভিলিয়র্স-মইন আলি নয়, এই খেলোয়াড়কে দিলেন জেতার শ্রেয় 3
ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই

২০ তম তথা শেষ ওভারে হায়দ্রাবাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান। বোলিংয়ের দায়িত্ব ছিল মহম্মদ সিরাজের উপর। কিন্তু সিরাজ দলের আশাকে যোগ্য মর্যাদা দেন। ওভারের প্রথম বলেই সিরজা অধিনায়ক কয়েনও উইলিয়ামসনকে অধিনায়ক বিরাটের হাতে ক্যাচ আউট করিয়ে দেন। এরপর সিরাজ মনীশ পান্ডেকেও বিট করান। এই ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি। এটি উৎকৃষ্ট ডেথ ওভার বোলিংয়ের প্রমান। সিরাজের বোলিংয়ের দৌলতেই এই ম্যাচ ১৪ রানে জিতে নেয় আরসিবি। আরসিবির তরফে মহম্মদ সিরাজ, চহেল এবং মইন আলি একটি করে উইকেট নেন।

জয়ের ক্রেডিট দেব আরসিবি বোলারকে

হারের পর আবেগি কেন উইলিয়ামসন ডেভিলিয়র্স-মইন আলি নয়, এই খেলোয়াড়কে দিলেন জেতার শ্রেয় 4
ছবি সৌজন্যে বিসিসিআই

ম্যাচ শেষে হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেন, “ আমার মনে হয় যদি আমরা সৎ হই তাহলে বলব আমরা বোলিংয়ে কিছু ট্রিক্স মিস করেছি। আরসিবির ব্যাটিং দুর্দান্ত ছিল। বোলিং আমাদের চাপে ফেলে দেয়, আর ওরা বড় স্কোর করে। যখন আপনি রান তাড়া করেন তখন আপনাকে অনেক ভাল নির্নয় নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান আসে নি। ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করছিল, আর আমরা এটা থেকে এগিয়ে যাব। সাধারণভাবে এখানকার সারফেস কঠিন হয়, আর আজ উইকেটও বেশ ভাল ছিল। এই মাঠে বল উড়ে যায় আর আপনি রান করতে পারেন। আমরা ক্লোজ ছিলাম, কিন্তু শেষ করতে পারি নি। আমরা অনেক কঠিন উইকেটে খেলেছি। আমাদের ভারসাম্য খুঁজতে হবে এবং কিছু গতি প্রাপ্ত করতে হবে। আরসিবিকে আবারও ক্রেডিট দিচ্ছি ওরা জেতার যোগ্য ছিল। ডেথ ওভারে ওরা দারুণ বোলিং করেছে”।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *