লিঙ্গ বৈষম্য় ছাড়ছে বিসিসিআই! ঝুলনের আশা, খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে মহিলাদের আইপিএল 1

 লিঙ্গ বৈষম্য় ছাড়ছে বিসিসিআই! ঝুলনের আশা, খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে মহিলাদের আইপিএল 2

মহিলা ক্রিকেট – খায়, না মাথায় দেয়? এই খেলাটা মেয়েরাও যে এদেশে খেলে, তা নিয়ে কারওর তেমন আগ্রহ ছিল না। একটা বিশ্বকাপ সব ছবিটা বদলে দিয়েছে। ২৩ জুলাই ইংল্য়ান্ডের লর্ডসে আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকে মহিলা ক্রিকেট নিয়ে যে আগ্রহটা শুরু হয়েছে, তা আর কমার নাম নিচ্ছে না। লিঙ্গ বৈষম্য় বলুন বা অন্য় কিছু, মহিলাদের ক্রিকেটটা নিছক মজার ছলেই দেখা হতো এতদিন। সামান্য় উদাহরণ, মহিলাদের ক্রিকেট করাতে মহিলা আম্পায়ার জোটাতে পারে না বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। পুরুষ আম্পায়ার দিয়েই ম্য়াচ পরিচালনা করাতে হয় ইন্টারন্য়াশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে।

২০০৫ সালেও ভারত প্রথমবার মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। হেরে বাড়ি ফেরেন ভারতের মেয়েরা। এগারো বছর পর মার্কশিট এক – ফেইলড। কিন্তু, দেশের মানুষের ভাবধারাটা বদলেছে। সিরিয়াস হয়ে নিতে শুরু করেছে মেয়েদের ক্রিকেটটাকে। ২৩ জুলাই হেরে ফিরলেও পুরো বিশ্বকাপে মিতালি-ঝুলন-হরমনপ্রীত-স্মৃতির লড়াকু মেজাজটার পেছনে অনুপ্রেরণা কিন্তু একশো ত্রিশ কোটি ভারতবাসীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর আগ্রহ। শোভা দের মতো মহিলা সাংবাদিক যখন ভারতের মেয়েদের সম্মান পাওয়াতে খোঁচা দিয়ে কথা বলেন, ট্য়ুইটারে তাঁকেও ছেড়ে কথা বলেনি দেশের যুবসমাজ। দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সৌজন্য় সাক্ষাৎকারে ডেকে দেড় ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সঙ্গে। তারপর আবার মন কি বাত অনুষ্ঠানেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিতালিদের।

বিশ্বকাপ খেলে বাড়ি ফেরার পর প্রত্য়েককে ৫০ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে, বিসিসিআই এই কথা ঘোষণা করতেই – ভারতীয় ক্রিকেট ফ্য়ানরা দাবি তুলেছেন, বিরাটদের সমান কেন মাইনে দেওয়া হবে না মিতালিদের? খাটনি বলুন আর উদ্দেশ্য় – দুই টিম তো একই কাজ করছে। তাহলে এই বৈষম্য় কেন? সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড পুরুষ আর মহিলা দলের মাইনের পরিমান এক করে দিয়েছে। লিঙ্গ বৈষম্য়ের তফাৎটা তুলে দেওয়ার এই সদর্থক প্রয়াসকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।

সোমবার কলকাতার শহরতলী দমদমের নাগের বাজারে আদিত্য় স্কুল অফ স্পোর্টসের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ২০১৭ বিশ্বকাপ দলের অন্য়তম সদস্য়া বাংলার ঝুলন গোস্বামীকে। তাঁকে সামনে পেয়ে জানতে চাওয়া হয়, আপনারাও তো দেশের নাম উজ্জ্বল করে ফিরলেন। মহিলা ক্রিকেটকে কেন এভাবে বৈষম্য়ের চোখে দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? মহিলা আর পুরুষদের পারিশ্রমিকে এমন ফারাক কেন? ঝুলন বলেন, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলের গ্রেড এক করে দিয়েছে। ওদের দেশে দুই দলের ক্রিকেটারদের মাইনে একসমান। আমাদের এখানে এখনও হয়নি। তবে, যা শুনেছি, বিসিসিআই এনিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে।

ছেলেদের আইপিএল। শুরুতে অনেক কথা উঠলেও, নয় নয় করে দশ বছর বয়স হয়ে গেল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের। মেয়েদের ক্রোড়পতি ক্রিকেট লিগ কবে শুরু করবে বিসিসিআই? মেয়েদের আইপিএল নিয়ে মহিলা ক্রিকেটাররাই বা কি ভাবছেন? এব্য়াপারে বেশ আশাবাদী শোনাল ঝুলনকে। হ্য়াঁ, মহিলাদের আইপিএল। কবে শুরু হবে? অনেকেই প্রশ্ন করছেন। খুব তাড়াতাড়ি শুরু মহিলাদের আইপিএল। বিসিসিআই এই ব্য়াপারটা নিয়েও ভাবনা-চিন্তা করছে। সময় তো একটু লাগবেই। আজ বলছি বলে, আজই তো শুরু করা যায় না। সময় লাগবে। আমার আশা, শীঘ্রই মেয়েদের আইপিএল আসছে।

জাতীয় দলের ফাস্ট বোলারটি যখন চাকদহের দেশের বাড়িতে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন, সেই সময় তাঁকে ক্য়াম্বিস বলে অনুশীলন শুরু করেতে দেখে অনেকেই হাসাহাসি করতেন। মেয়েদের সঙ্গে ছেলেরা ক্রিকেট খেলবে নাকি! – এমন কথাও শুনতে হয়েছে। আবার ক্রিকেট জীবনে পুরুষ ক্রিকেটারদের থেকে প্রচুর উৎসাহ পেয়েছেন খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য়। বছর চৌঁত্রিশের ঝুলনের বক্তব্য়, ক্রিকেট হতে হবে এমন নয়, সে যে খেলাই হোক – তাকে পেশা হিসেবে বেছে না নিলেও, উপভোগ করার জন্য় খেলার অভ্য়াসটা ছোটো থেকে গড়ে তোলা দরকার। স্পোর্টস মানুষকে অনেক কিছু শেখায়।

ঝুলন এরপর বলেন, একঘণ্টার মধ্য়ে কিভাবে সবকিছু বদলে যায় আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখেছি। একঘণ্টা আগেও মানুষ ধরেই নিয়েছিলেন, আমরাই বিশ্বকাপ জিতত চলেছি। কিন্তু, ওই একঘণ্টাতে সাতটা উইকেট হারিয়ে ম্য়াচ খোয়াই আমরা। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছে। তবে, আমরা খুশি, যেভাবে দেশের মানুষ আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। আমরা না জিততে পারলেও মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মিতালি বা হরমন বা শুধু একজনের পারফরমেন্স নিয়ে মানুষ কথা বলছেন না। মানুষ ম্য়াচটা নিয়ে কথা বলছেন। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ম্য়াচটা তাঁরা দেখেছেন। আর সেই জন্য়ই বলতে পারছেন, কোন সময়ে কে কেমন বল করেছিল, কে কেমন ব্য়াট করেছিল।

এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া তাদের কর্মস্থলে এদিন সংবর্ধনা দিয়েছে ভারতীয় মহিলা দলের এই ক্রিকেটারটিকে। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে খেলার পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়াতে চাকরি করেন ঝুলন।

ওদিকে, মঙ্গলবার ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) তাদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। অনুষ্ঠান এবার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হবে। সেখানে ঝুলনকেও সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সিএবির লাইফটাইম অ্য়াচিভমেন্ট পুরস্কার এবার উঠতে চলেছে পলাশ নন্দীর হাতে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *