সেকেন্ড বেস্ট হওয়ার বেদনাটা এখনও খোঁচা দেয় ঝুলনকে 1

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে মাস দেড়েকে হতে চললেও, না পাওয়ার জ্বালাটা সবসময় খচখচ করে বুকের মধ্য়ে। গত বারো বছরে দু’বার স্বপ্ন সফলের কাছে গিয়েও বিশ্বকাপ অধরা মাধুরী। আবার সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়ায় পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জোর করে খেলা চালিয়ে গেলে অন্য় কথা। অধিনায়ক মিতালি রাজের মতো ঝুলন গোস্বামীরও বয়স এখন চৌঁত্রিশ চলছে। আর সেই কারণেই বাংলার পেস বোলারটিকে না পাওয়াটা আরও কষ্ট দেয়। বিশ্বকাপ খেলে ইংল্য়ান্ড থেকে দেশে ফেরার পর থেকে অনেক জায়গায় ডেকে ডেকে তাঁদের সম্মান জানানো হয়েছে (কোথাও ব্য়ক্তিগতভাবে আবার কোথাও গোটা টিমটাকে), দেশের মানুষ তাঁদের ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে – কিন্তু, ধ্রুব সত্য়টাতো আর কোনও বদলাবে না, ২০০৫-এর মতো ২০১৭-তেও বিশ্বকাপের আসরে সারা দুনিয়ার মধ্য়ে ভারতের মেয়েরা সেকেন্ড বেস্ট – বেস্ট নয়।
পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলার পরও ফাইনালে ২২৯ রান তাড়া করতে গিয়ে নার্ভাস ব্রেক ডাউন। জেতা ম্য়াচটাকে হেরে চলে আসা। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে হরমনপ্রীত কউর ও পুনম রাউত ৯৫ রান যোগ করার পর একসময় ভারতের মহিলা দলের স্কোর ছিল ১৯১। জেতার জন্য় তখন মাত্র ৩৮ রান বাকি ৪২ বলে। ফাইনালের মতো ম্য়াচে কাজটা খুব একটা সহজ না হলেও হাতে সাত উইকেট থাকা মানে জেতার জন্য় উপযুক্ত মঞ্চ। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত নিজেদের নার্ভ ধরে রাখতে না পেরে ইংল্য়ান্ডের কাছে ৯ রানে ম্য়াচ খোয়ান ভারতের মেয়েরা। অথচ ওই ইংলিশ ক্রিকেট টিমকে হারিয়েই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করেছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ অগস্ট) কলকাতার শহরতলী রাজারহাটে অবস্থিত প্রখ্য়াত ক্রীড়া সাংবাদিক বোরিয়া মজুমদারের ফ্য়ানাটিক মিউজিয়ামে এসেছিলেন ঝুলন। দর্শকদের জন্য় মিউজিয়ামকে তাঁর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের জার্সিটা দান করেন বাংলার এই কৃতী পেস বোলার। সেখানেই তাঁর মনের দুঃখের কথাটা জানান ঝুলন। ”আমি ভারতের হয়ে চারটে বিশ্বকাপ খেলেছি। তার মধ্য়ে দু’বার রানার্স-আপ দলের সদস্য়। মানুষ যাই বলুন, দ্বিতীয় সেরা হওয়াটা মনে ব্য়াথা দেয়। যতক্ষণ না কোনও আইসিসি টুর্নামেন্টে সেরা হচ্ছি, ততক্ষণ ওই ব্য়াথাটা যাবে না। আমি দলে থাকলাম, কি থাকলাম না – সেটা বড় কথা নয়। আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফির আসর বসছে। ভারতের কাছে ওটা বড় সুযোগ।” ঝুলন আরও বলেন, ”মানুষ আমাদের প্রত্য়েককে সম্মান দিচ্ছেন। ঠিকই আছে। তবে, মাথায় রাখতে হবে, মানুষের প্রত্য়াশা আর সমালোচনার মুখে আমার আগামী দিনে কেমন পারফর্ম করছি। আগামী দিনগুলি আর কঠিন চ্য়ালেঞ্জ নিয়ে আসছে।”
এই মুহূর্তে বিশ্ব মহিলা ক্রিকেটের আসরে (ওয়ান-ডে ক্রিকেটে) ঝুলন সর্বকালের সেরা বোলার। আর পাঁচটি উইকেট নিলেই ২০০টি আন্তর্জাতিক উইকেটে হয়ে যাবে তাঁর। এই কৃতিত্ব কোনও মহিলা ক্রিকেটারের নেই। সেই বিষয়ে ঝুলন বলেন, ”আমি ওসব নিয়ে ভাবতে চাই না। ১৮১টি উইকেটে পেতেই হবে এই চাপ নিয়ে আমার পারফরম্য়ান্স গ্রাফ নেমে গিয়েছিল। এখন শুধু দলের সাফল্য়ে কিভাবে নিংড়ে দিতে পারি, সেদিকেই খেয়াল রাখব।”
উল্লেখ্য়, ফ্য়ানাটিক মিউজিয়ামে ঝুলনের বিশ্বকাপ খেলা জার্সিটা ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির ব্য়াটের পাশে রাখা হয়েছে দর্শকদের দেখার জন্য়। দাদা ওই ব্য়াট দিয়ে দু’টি আন্তর্জাতিক শতরান করেছিলেন।
এদিকে, বাংলা মহিলা ক্রিকেটকে সাহায্য় করার জন্য় বিগব্য়াশ লিগে খেলার অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন ঝুলন। তিনি চান বিসিসিআই মহিলাদের আইপিএল শুরু করার আগে অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্ট শুরু করুক। তবেই, আগামী দিনের জন্য় তরুণী ক্রিকেটার তৈরি করা যাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *