সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 1

কলম্বো টেস্ট চার দিনেই শেষ। রঙ্গনা হেরাথের নেতৃত্বের চেয়ে আরও করুণ হাল হলো দিনেশ চান্দিমলের নেতৃত্বে। ইনিংস ও ৫৩ রানে শ্রীলঙ্কা হারল ভারতের কাছে। চারটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান পুরো ম্য়াচে। ব্য়াটসম্য়ানরা এককাট্টা হয়ে লড়াইটা দেখাতে না পারায় দলের বোলারদেরও মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে একেবারে। ম্য়াচের পাঁচটি পঞ্চাশ রানের মধ্য়ে দু’টি এসেছে ভারতের দুই স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্য়াট থেকে। বল হাতেও দু’জনেই উজ্জ্বল। একজন প্রথম ইনিংসে কেরামতি দেখিয়েছেন। অপরজন দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কান ব্য়াটসম্য়ানদের ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন। মূলত এই দু’জনের অলরাউন্ড পারফরম্য়ান্সের কারণেই শ্রীলঙ্কাকে এক ম্য়াচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়াতে হলো। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা শিবির থেকে কুশল মেন্ডিজ ও দিমুথ কারুণারত্নে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও ম্য়াচের সেরা হওয়ার লড়াইটা প্রথম থেকেই অশ্বিনের সঙ্গে ছিল জাদেজার। শেষ পর্যন্ত জাদেজার হাতেই উঠেছে ম্য়ান অফ দ্য় ম্য়াচের পুরস্কার।

সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 2

সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 3
রবীন্দ্র জাডেজা

সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 4
জাদেজাকে ম্য়াচের সেরা বেছে নেওয়ার কারণও রয়েছে। শ্রীলঙ্কার দুই ইনিংসে বল হাতে উল্লেখযোগ্য় অবদান রাখার আগে ব্য়াট হাতে ৭০ রান করে অপরাজিত থেকে যান। বলতে গেলে জাদেজার কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট দল কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে ৬০০ রানের লক্ষমাত্রা পার করে। আর সেই চাপেই শ্রীলঙ্কার দলের মেরুদণ্ডটা আরও নমনীয় হয়ে যায়।
এই ম্য়াচে বল হাতে মোট সাতটি উইকেট তুলে নেন জাদেজা। প্রথম ইনিংসের তুলনায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্য়াট করার সময় পিচের আচরণ অন্য়রকম ছিল। এই পরিস্থিতিতে জাদেজার পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়া আরও বেশি করে উল্লেখের দাবিদার। ব্য়াটসম্য়ানরা উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন বলা যাবে না। ভারতীয় বোলাররা তাঁদেরকে বাধ্য় করেছেন শট খেলতে। উইকেট আদায় করে নিয়েছেন জাদেজা ও অশ্বিন।

সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 5 সুইপ শট খেললে বোলাররা সমস্য়ায় পড়েন, ম্য়াচের পর কলম্বো টেস্টের নায়ক 6
ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি ম্য়াচের পর বলেন, এই ধরণের আন্তর্জাতিক সিরিজে অনেক কিছু শেখেন ক্রিকেটাররা। জাদেজা ও অশ্বিন দু’জনেই অনেক কিছু শিখেছেন এই ম্য়াচ থেকে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা যখন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভুল বল ফেলেছেন, লঙ্কান ব্য়াটসম্য়ানরা তা পিটিয়েছেনও। নিজেদের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্য়াটসম্য়ানদের বাধ্য় করেন শট খেলে আউট হতে। তৃতীয় টেস্টে বোলারদের এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে বলে মনে করছেন ভারত অধিনায়ক। যদিও শ্রীলঙ্কান ব্য়াটসম্য়ানদের বেশি মাত্রায় সুইপ শট খেলতে দেখা গিয়েছিল। স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রান পাওয়ার জন্য় সুইপ শট অত্য়ন্ত উপযোগী।
ম্য়াচের সেরা রবীন্দ্র জাদেজা বলেন, ”প্রথম ইনিংসে আমরা যখন ব্য়াট করছিলাম, বল স্পিন হচ্ছিল না তেমন। তারপর ম্য়াচ যত গড়িয়েছে উইকেটের মাঝখান থেকে স্পিন ধরতে শুরু করে। মেন্ডিজ ভালো খেলেছে। দুর্দান্ত কিছু শট বেরিয়ে এসেছে ওর ব্য়াট থেকে। দল হিসেবে বলতে গেলে আমরাও ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু, বিপক্ষ দলের ব্য়াটসম্য়ান ক্রমাগত সুইপ শট খেলে গেলে বোলারদের জন্য় চ্য়ালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় উইকেট তুলে নেওয়া। লাইন আর লেংথ বারবার পরিবর্তন করে বল করে যেতে হয়।”
এই মুহূর্তে তিন ম্য়াচের ২-০ ফলে এগিয়ে ভারত। ফলে, ক্য়ান্ডিতে তৃতীয় টেস্ট নিয়ম রক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরিজ জিতে নিলেও ভারতের সামনে অবশ্য় শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি রয়েছে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *