গৌতম গম্ভীর

রবিবাসরীয় ইডেন গার্ডেন্স দেখেছে এক মায়াবি খেলার আসর। সেখানে বোলারদের আরাধ্য দেবতা স্বয়ং প্রকট হয়ে বর দান করেছিলেন আরসিবি ও কেকেআরের বোলারদের। কোনও এক যাদু বলে দুই দলের কোনও ব্যাটসম্যানই বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি। তা সে ক্যারিবিয়ন দ্বৈত্য ক্রিস গেইলই হোক বা জীবনের সেরা ফর্মে থাকা বিরাট কোহলি। একে একে তাসের ঘরের মত ব্যাটিং লাইনআপের পতন ঘটলেও, প্যাভিলিয়নে ফেরত যাওয়া বিরাট কোহলি কিছুই করতে পারেন নি।

কোলকাতার কাছে হেরে গিয়ে বিরাট কোহলি দুষলেন এই প্লেয়ারকে! দেখে নিন

এ দিন আরসিবি পক্ষে জেতাটা খুব জরুরি ছিল। লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা এই বিধ্বংসী দলের পক্ষে আইপিএল লড়াইয়ে টিকে থাকা ও নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করা, এই দুটি কারণেই এই ম্যাচ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এদিকে গুজরাটের কাছে ঘরের মাঠে হারার পর কেকেআরের কাছে এই ম্যাচ ছিল সম্মান বাঁচানোর লড়াই। এমনই এক জমি দখলের লড়াইতে যা ঘটল, ক্রিকেটের ইতিহাসে এর থেকে নৃশংসতম ঘটনা হয়ত আর কিছুই হতে পারেনা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গৌতম গম্ভীর, রবীন উথাপ্পা, মনীষ পান্ডে সহ এক একটা উইকেট কার্যত মৃত পাতার মত ঝড়তে থাকে। একমাত্র মিস্ট্রি বোলার যা এখন মিস্ট্রি ব্যাটসম্যানে পরিণত, সেই সুনীল নারিনের ব্যাটেই মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রান আসে কেকেআরের হয়ে। যা এই ফ্রাঞ্চাইজির কাছে এক আর্শিবাদের সমান ছিল। এভাবেই ১৩১ রানে সবকটি উইকেটের পতন হয় ২০ ওভার শেষ হওয়ার কয়েক বল আগেই।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির করুণতম অবস্থা করে ছাড়েন কেকেআরের পেস বোলিং বিভাগ। যে ধ্বংসলীলার নায়ক হলেন অজি পেসার কৌলটার নাইল। পাওয়ার প্লে শেষ হতে না হতেই একে একে গেইল, কোহলি, ডেভিলিয়ার্সের মত তারকারা ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। এর পর ক্রিস ওকস এসে যোগ দেন এই হত্যালীলায়। আরসিবি তখন কার্যত কোমায় চলে গিয়েছে। মৃত্যুর কামনা করছে। দেরী না করে আরসিবির এই ইচ্ছায় তথাস্তু জানায় ওকস। দ্রুত তিনটি উইকেট তিনিও তুলে নেন। ফলে আইপিএল ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয় আরসিবির মত প্রতাপশালী এক দল। মাত্র ৪৯ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস।

জিততে হবেই এটা জানত কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। তবে জয়টা এভাবে আসবে আশা করেননি তিনি। তাই ম্যাচ শেষে পেস বোলারদের গুণগানে ভরিয়ে তুললেন ক্রিকেটের নন্দন কানন। তিনি বলেন, “এটা খুবই পেশাদার প্রদর্শণ। এই জয়ের সিংহভাগ কৃ্তিত্বই বোলিং বিভাগের। খুব বেশি দলের এমন শক্তিশালী পেস বোলিং বিভাগ থাকে না। আমরা প্রথম থেকে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের উপর আক্রমন করতে চেয়েছিলাম এবং বোলাররা সেটা পেরেছে। আমাদের ব্যাটিং একদমই ভাল হয়নি। এই উইকেটে পেস বোলারদের জন্য বিশেষ সাহায্য রয়েছে আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। তবুও ১৬০-১৭০ রান না করতে পারলে ম্যাচ জেতা যায়না। কাজেই এই জয়ের সমস্ত কৃ্তিত্বই বোলারদের। এর আগে আমি এত সুন্দর পেস বোলিং আক্রমন দেখিনি কখনও। অনেক দলই ভাবে আমরা ভাল চেস করতে পারি। তাই যদি তোমরা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করো, এটা তোমাদের অনেকটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

  • SHARE

    আরও পড়ুন

    তৃতীয় টি২০তে এই তারকার খেলা নিয়ে সন্দেহ

    পিটিআইয়ের একটি রিপোর্টের মোতাবিক তৃতীয় এবং ফাইনাল ওয়ান ডেতে জসপ্রীত বুমরাহের অংশ নেওয়া এখনও সন্দেহজন অবস্থায় রয়েছে।...

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান
    ২০১৯ বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দেড় বছর। তার আগে গত ২ বছর ধরেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারতীয়...

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি
    তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ব্যাটিংয়ের জিনিয়াস। তামাম...

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত একদিনের সিরিজে যে যে রেকর্ড গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট

    তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সকলেই। বিশ্বের সর্বকালের সেরা একদিনের ক্রিকেটার হিসেবে তাকে মেনেও নিয়েছেন সকলে।...

    আইপিএলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই দুই অস্ট্রেলীয়

    আর মাত্র দেড় মাস বাকি আইপিএল শুরুর। এই মুহুর্তে স্ট্রাটেজি বানাতে শুরু করে দিয়েছে সমস্ত ফ্রেঞ্চাইজিই। কিন্তু...