আইপিএল ২০১৭ঃ ইডেনে জেতার পর দেখা গেল নাইটদের ঔদ্ধত্ব্য, কী বললেন নাইট অধিনায়ক? 1
গৌতম গম্ভীর

রবিবাসরীয় ইডেন গার্ডেন্স দেখেছে এক মায়াবি খেলার আসর। সেখানে বোলারদের আরাধ্য দেবতা স্বয়ং প্রকট হয়ে বর দান করেছিলেন আরসিবি ও কেকেআরের বোলারদের। কোনও এক যাদু বলে দুই দলের কোনও ব্যাটসম্যানই বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি। তা সে ক্যারিবিয়ন দ্বৈত্য ক্রিস গেইলই হোক বা জীবনের সেরা ফর্মে থাকা বিরাট কোহলি। একে একে তাসের ঘরের মত ব্যাটিং লাইনআপের পতন ঘটলেও, প্যাভিলিয়নে ফেরত যাওয়া বিরাট কোহলি কিছুই করতে পারেন নি।

কোলকাতার কাছে হেরে গিয়ে বিরাট কোহলি দুষলেন এই প্লেয়ারকে! দেখে নিন

এ দিন আরসিবি পক্ষে জেতাটা খুব জরুরি ছিল। লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা এই বিধ্বংসী দলের পক্ষে আইপিএল লড়াইয়ে টিকে থাকা ও নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করা, এই দুটি কারণেই এই ম্যাচ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এদিকে গুজরাটের কাছে ঘরের মাঠে হারার পর কেকেআরের কাছে এই ম্যাচ ছিল সম্মান বাঁচানোর লড়াই। এমনই এক জমি দখলের লড়াইতে যা ঘটল, ক্রিকেটের ইতিহাসে এর থেকে নৃশংসতম ঘটনা হয়ত আর কিছুই হতে পারেনা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গৌতম গম্ভীর, রবীন উথাপ্পা, মনীষ পান্ডে সহ এক একটা উইকেট কার্যত মৃত পাতার মত ঝড়তে থাকে। একমাত্র মিস্ট্রি বোলার যা এখন মিস্ট্রি ব্যাটসম্যানে পরিণত, সেই সুনীল নারিনের ব্যাটেই মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রান আসে কেকেআরের হয়ে। যা এই ফ্রাঞ্চাইজির কাছে এক আর্শিবাদের সমান ছিল। এভাবেই ১৩১ রানে সবকটি উইকেটের পতন হয় ২০ ওভার শেষ হওয়ার কয়েক বল আগেই।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির করুণতম অবস্থা করে ছাড়েন কেকেআরের পেস বোলিং বিভাগ। যে ধ্বংসলীলার নায়ক হলেন অজি পেসার কৌলটার নাইল। পাওয়ার প্লে শেষ হতে না হতেই একে একে গেইল, কোহলি, ডেভিলিয়ার্সের মত তারকারা ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। এর পর ক্রিস ওকস এসে যোগ দেন এই হত্যালীলায়। আরসিবি তখন কার্যত কোমায় চলে গিয়েছে। মৃত্যুর কামনা করছে। দেরী না করে আরসিবির এই ইচ্ছায় তথাস্তু জানায় ওকস। দ্রুত তিনটি উইকেট তিনিও তুলে নেন। ফলে আইপিএল ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয় আরসিবির মত প্রতাপশালী এক দল। মাত্র ৪৯ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস।

জিততে হবেই এটা জানত কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। তবে জয়টা এভাবে আসবে আশা করেননি তিনি। তাই ম্যাচ শেষে পেস বোলারদের গুণগানে ভরিয়ে তুললেন ক্রিকেটের নন্দন কানন। তিনি বলেন, “এটা খুবই পেশাদার প্রদর্শণ। এই জয়ের সিংহভাগ কৃ্তিত্বই বোলিং বিভাগের। খুব বেশি দলের এমন শক্তিশালী পেস বোলিং বিভাগ থাকে না। আমরা প্রথম থেকে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের উপর আক্রমন করতে চেয়েছিলাম এবং বোলাররা সেটা পেরেছে। আমাদের ব্যাটিং একদমই ভাল হয়নি। এই উইকেটে পেস বোলারদের জন্য বিশেষ সাহায্য রয়েছে আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। তবুও ১৬০-১৭০ রান না করতে পারলে ম্যাচ জেতা যায়না। কাজেই এই জয়ের সমস্ত কৃ্তিত্বই বোলারদের। এর আগে আমি এত সুন্দর পেস বোলিং আক্রমন দেখিনি কখনও। অনেক দলই ভাবে আমরা ভাল চেস করতে পারি। তাই যদি তোমরা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করো, এটা তোমাদের অনেকটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *