আইপিএল ২০১৭ঃ পুনের পর এবার নয়ডা, বেটিং কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা আইপিএলের 1
এভাবেই জমেছিল বেটিংয়ের আসর

পুনের পর এবার নয়ডা থেকে গ্রেফতার করা হল সাতজন বুকিকে। চলতি আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও কেকেআরের ম্যাচেই বেটিংয়ের জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার আবারও বেটিংয়ের আসর বসল। শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়ডার আপস্কেল রেসিডেন্সিয়াল সোসাইটির একাদশ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয় এই বুকিদের।

ফের কালিমালিপ্ত হল আইপিএল, বেটিংয়ে জড়াল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও কেকেআরের নাম

সূত্রের খবর, বেশকিছু বছর ধরেই ওই জায়গায় আইপিএল বেটিংয়ের আসর বসিয়েছিল রোহিত গুপ্তা নামে এক ব্যক্তি। পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বুলান্দসর জেলার কৈলাশ পুরির বাসিন্দা রোহিত প্রথমে কৈলাশ পুরি থেকেই এই কাজ চালাত। দেড় বছর হল সে নয়ডার এই ফ্ল্যাট থেকে এই কারবার করছে। লক্ষ্নৌ ও নয়ডার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যুগ্মভাবে তল্লাশি চালিয়ে এই বুকিদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। এই তল্লাশিতে ফে-২ এর সিভিল পুলিশও ছিল। জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছে ছিল নগদ ২৭ লক্ষ টাকা, চারটি ল্যাপটপ, দুটি ল্যান্ডলাইন ফোন, দুটি কর্ডলেস ফোন, একটি এয়ারটেলের ডঙ্গল, ক্যালকুলেটর ও ১৬টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রোহিতকে বাদ দিয়ে বাকি বুকিদের নয়ডার ৯৩এ সেক্টরের সুপারটেক এমারল্যান্ড নামক একটি আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইপিএল ২০১৭ঃ কোনও কারণ ছাড়াই আরসিবি শিবির ছাড়লেন এক বিদেশি তারকা

নয়ডা এসটিএফের ডেপুটি সুপার আরকে মিশ্র বলেন, “রোহিত এই ব্যবসা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চালাচ্ছিল। তবে প্রথম দিকে সে কৈলাশ পুরির বাড়ি থেকেই এই ব্যবসা চালাত। দেড় বছরের মত হল ও নয়ডায় এসেছে। ওর আসল ব্যবসাই হল আইপিএলের ম্যাচে বেটিং করা। এই চক্রের পিছনে আরও কেউ রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও যে সমস্ত বুকিরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের তল্লাশিও শুরু করা হয়েছে। আমরা মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছি।”

রোহিত গুপ্তা বাদে ধৃতদের মধ্যে বাকিরা হলেন, বুলন্দসরের বাসিন্দা নীরজ গুপ্তা, অঙ্কুর গোভিল, গাজিয়াবাদের বাসিন্দা আকাশ কুমার, স্যামুয়েল ও রাহুল চন্না, দিল্লির বাসিন্দা অশোক গর্গ ও শাহদারা। ধৃতরা নয়ডার একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকত। নীচের তলায় বসবাসের জন্য ব্যবহার করত ও ওপরের তলায় ছিল বেটিংয়ের অফিস। বেটফেয়ার নামে একটি আন্তর্জাতিক একটি সাইট ব্যবহার করত তারা। এর মাধ্যমেই সমস্ত বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও নতুন বুকিকে খোঁজ করত রহিতের দলবল। তারা সমস্ত তথ্য ল্যাপটপের মধ্যে যত্ন করে রেখে দিত। প্রতিদিন ম্যাচ শেষেই তারা টাকা সংগ্রহ করে নিত। ম্যাচ, ওভার এমকী প্রতিটা বল বা রানের উপর বাজি ধরা হোত।

রোহিত যে ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী জানান, “কিছুদিনই হল এই ফ্ল্যাটে এসেছেন উনি। রোজ এসইউভি মডেলের গাড়ি বা বিএমডব্লিউ গাড়ি করে আসতেন। ওনার অনেক বন্ধুরাও আশা যাওয়া করত। তবে উনি যে এই ধরনের বেআইনি কাজ করতেন সে বিষয়ে কোনও ধারণা ছিল না।” এই ঘটনার তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে।

আইপিএল বেটিং কাণ্ডে যুক্ত দুই ইডি কর্তার বিরুদ্ধেই চার্জ গঠন করলো সিবিআই

Leave a comment

Your email address will not be published.