ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কথা বলা হলে গত কিছু বছরে বেশকিছু দুর্দান্ত জোরে বোলার ভারত পেয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রত্যেক দলের কাছে এক সে এক তারকা জোরে বোলার রয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে নিউমিত ১৪৫ কিমি প্রতি ঘন্টা গতিতে বল করার মতো বোলার গত বেশকিছু বছরে আসেনি।

কার্তিক ত্যাগী নিজের বোলিংয়ে ফেলেছেন বিশেষ প্রভাব

ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার 1

এর মধ্যেই তরুণ প্রতিভাবান জোরে বোলারদের মধ্যে একটি নাম গত প্রায় ১ বছর ধরে সামনে উঠে এসেছে। তিনি হলেন উত্তরপ্রদেশের হাপুরের তরুণ জোরে বোলার কার্তিক ত্যাগী। গত বছর আইসিসি অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে কার্তিক ত্যাগী নিজের প্রদর্শনে প্রভাব ফেলেছিলেন। উত্তরপ্রদেশের এই ১৯ বছর বয়সী তরুণ জোরে বোলার নিয়মিত নিজের গতিতে সকলকে চমকে দিয়েছেন। তিনি ভারতকে গত বছর অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তখনই সেখানে কার্তিক একটি বড়ো কেরিয়ার গড়ার নিজের প্রস্তুতি দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

দেখাচ্ছেন স্পীডস্টার বোলার হওয়ার সমস্ত গুণ

ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার 2

এর আগেই তার অনুর্ধ্ব ১৯ দলের সঙ্গে দুর্দান্ত প্রদর্শন দেখে আইপিএলে তাকে রাজস্থান রয়্যালস নিজেদের দলে নিয়েছিল। যারপর আইপিএলের ত্রয়োদশ মরশুমে কার্তিক ত্যাগী যখনই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন নিজের দারুণ প্রভাব ফেলেছেন। কার্তিক ত্যাগীকে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের সঙ্গে দলের ব্যাটসম্যানদের প্র্যাকটিস করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যেখানে একটি প্র্যাকটিস ম্যাচে কার্তিক নিজের ঝোড়ো বোলিংয়ে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে তার মধ্যে একজন বড়ো স্পীডতারকা বোলার হয়ে ওঠার সমস্ত গুণ মজুত রয়েছে।

শুরুতে কার্তিক হতে চাননি বোলার

ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার 3

কার্তিক ত্যাগী নিয়মিত নিজের বোলিংয়ে প্রভাবিত করে চলেছেন। তিনি নিজের বোলিংয়ে দেখিয়েছেন যে তিনি নিজের গতিতে যে কোনো ব্যাটসম্যানকে ভয় দেখানোর ক্ষমতা রাখেন। তবে একটি মজার বিষয় হল যে তিনি কখনও নিজের কেরিয়ারে জোরে বোলার হতে চাননি।

কোচের কথায় বোলিং করেন তো স্বয়ং হয়েছিলেন নিজের বোলিংয়ে প্রভাবিত

ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার 4

শুরুর দিকের কেরিয়ারে কার্তিক ত্যাগী একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান হতে চেয়েছিলেন। কার্তিক নিজের ১২ বছরের বয়সে মেরঠের একজন কোচ বিপিন বৎস এর কাছে কোচিং নেওয়ার জন্য যেতেন। যেখানে তাকে ব্যাটিংয়ের জন্য যথষ্ট অপেক্ষা করতে হত, একদিন বিপিন বৎস তাকে বোলিং করার জন্য বলেন। কার্তিক ত্যাগীর বোলিং দেখে কোচের পাশপাশি তিনি নিজেও প্রভাবিত হন। যার পর তিনি বোলিংয়ে মনোযোগ দিয়ে একজন বোলার হয়ে যান।

প্রবীণ কুমারও কার্তিকের বোলিংয়ে হয়েছিলেন খুশি

ভারতীয় ক্রিকেট দল আগামী কয়েক বছরে পেতে পারে এই জোরে বোলারের রূপে নতুন সুপারস্টার 5

কার্তিক ত্যাগীর বোলিং নিয়ে ভারতের প্রাক্তন জোরে বোলার প্রবীণ কুমার বলেছিলেন, “মেরঠের কোচ বিপিন বৎস তিন বছর আগে কার্তিক ত্যাগীর বোলিং দেখতে বলেছিলেন। ত্যাগী তখন ভিক্টোরিয়া পার্কে বোলিং করতেন, যেখানে ওর লম্বা রানআপ আর হাই আর্ম অ্যাকশন দেখে আমি প্রভাবিত হই। প্রথমত ওর উচ্চতা বেশি আর দ্বিতীয় বিষয় হল ওর অ্যাকশন হাইআর্ম। এইভাবে অর্ধেক কাজ এমনিই পূর্ণ হয়ে গেছে, বাকি বিষয় তো কোচ হিসেবে আমার এটাই দায়িত্ব যে আমার কাছে আসা প্রত্যেক বাচ্চার কেরিয়ার গড়তে আমি সাহায্য করব। আমি ওই সময় ভেবেছিলাম যে কার্তিকের বেশি স্যুট করবে বোলিং”।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *