কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 1

কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 2

দক্ষিণ আফ্রিকান সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে শুনা যাচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থ হওয়া ফলে এ গুন্জন আরো জোরালো হচ্ছে। মরনে মরকেলের পর আমলা হচ্ছেন দ্বিতীয় তারকা খেলোয়ার যিনি কলপাকের জন্য প্রস্তাব পেয়েছেন। আইওএল প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান কোচ পরিবর্তনও আমলাকে অবসর গ্রহনের কথা ভাবাচ্ছে। বর্তমান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সাথে অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক আমলার, তার জায়গায় ওটিস গিবসন শীঘ্র ই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দক্ষা আফ্রিকার। যে কলপাক চুক্তি নিয়ে এত আলোচনা আসুন জেনে নেওয়া যাক কি সেই কলপাক চুক্তি এবং কি আছে এতে। “কলপাক চুক্তি” কী? Maros Kolpak নামে একজন স্লোভাক ছিলেন। তিনি পেশায় হ্যাণ্ডবল খেলোয়াড়।তিনি জার্মানীতে বসবাস করতেন এবং সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 3জার্মানীর দ্বিতীয় শ্রেণীর হ্যাণ্ডবল দল TSV Ostringen এর হয়ে তিনি খেলতেন সেই ১৯৯৭ থেকে।কিন্তু ২০০০ সালে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।কেন?কারণ,ক্লাবকে বলা আছে যে সে বিদেশী খেলোয়াড় খেলাতে পারবে দুইজন এবং বাকী খেলোয়াড়দের অবশ্যই সেই দেশের নাগরিক বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য অন্য দেশের নাগরিক হতে হবে।তা আবার তিনি থাকলে মেনে চলা যায় না। এই বিষয়ে তিনি আপিল করলে জার্মানীর উচ্চ আদালতও এই বিষয়ের মীমাংসা না করতে পেরে এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালতের কাছে সোপর্দ করে।

কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 4

কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 5
হাসিম আমলা

এই আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেয়। রায়ের ভিত্তি ছিল এমন যে,যেসব দেশের সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর সচল বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহযোগীতা চুক্তি আছে তারা বিদেশি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। ২০০৩ সালে প্রকাশিত এই রায়ের নামই হয়ে যায় “কলপাক চুক্তি”। এরফলে Cotonou Agreement এর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা,জিম্বাবুয়ে সহ আফ্রিকার অনেক দেশের সাথে ও অ্যান্টিগা,গায়ানা সহ কিছু ক্যারিবীয় দেশের সাথে এই চুক্তি সচল আছে অর্থাৎ তাদের খেলোয়াড়রা EU ভূক্ত দেশে খেলতে পারে। এই Cotonou Agreement এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব খুব বেশি পড়ে ইংলিশ ক্রিকেটে। ২০০৪ থেকে এতবেশী বিদেশী বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকান, আসতে থাকে যে ECB নিয়ম করে যে যেসব ক্লাব বিদেশী কলপাক খেলোয়াড় খেলাবে তাদের ম্যাচ প্রাইজমানি থেকে ১১০০ পাউণ্ড কম দেয়া হবে কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। যে কারণে কিছু বিধিনিষেধ নেমে আসে ২০০৮ সাল থেকে।

কলপাক চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান! 6

দক্ষিণ আফ্রিকা হতে বেশি হওয়ার কারণ তাদের বর্ণভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি প্রথা।যে কোনও বয়সভিত্তিক দলে অন্তত ৫ জন কালো খেলোয়াড় থাকতেন হবে।তাদের এই প্রথার কারনে বহু বাজে খেলোয়াড় দলে সুযোগ পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের এর মূল্য চুকাতে হয়েছে।কিন্তু তাদের হুঁশ ফিরে না। ২০১৫ বিশ্বকাপের একটা ঘটনা যে কোনও দক্ষিণ আফ্রিকা সমর্থকের জন্য দু্ঃস্বপ্ন। শ্রীলঙ্কার সাথে কোয়ার্টারে চমৎকার বোলিং করা কাইল অ্যাবটকে বসিয়ে গায়ের রঙয়ের জন্য সেমিতে নামানো হয় ফিল্যাণ্ডারকে, নিকট স্মৃতিতে যার ওয়ানডেতে উল্লেখযোগ্য কোনও বোলিং ছিল না।ফলাফল?দক্ষিণ আফ্রিকার পুনরায় সেমি থেকে বিদায়। এরফলে ই কাইল অ্যাবট কলপাক চুক্তি করে খেলা ছেড়ে দেন। কলপাকে চুক্তির অধীনে থাকা খেলোয়াড় নিজ দেশের হয়ে খেলতে পারবে না, এরফলে আমলার কলপাক চুক্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য বড় আঘাত হবে।

 

Nazmus Sajid

Sports Fanatic!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *