এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি

প্রায়শই আমরা ক্রিকেটে বোলারদের এক্সট্রা রান দিতে দেখি। এই এক্সট্রা রান বিশেষত বোলারদের নো এবং ওয়াইড বলা করার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। যদিও ক্রিকেটে বোলারের নো বলা করা একটা অপরাধ, কারণ এতে ব্যাটিং দল না শুধু একটা এক্সট্রা বল পেয়ে যায় বরং এক রানও এক্সট্রা পায় আর পরের বল ফ্রি হিট হয়> ফ্রি হিট বলে রানআউট, বলকে দুবার হিট করা, ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া আর বলকে হাতে ধরা ছাড়াও ব্যাটসম্যান এলবিডব্লিউ, ক্যাচ বা বোল্ড আউট হয় না। বেশিরভাগ সময় জোরে বোলারই নো বল করেন, স্পিনারদের খুব কমই নো বল করতে দেখা যায়। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যখন কোনো বোলারের নো বল করার কারণেই তার দলকে হারতে হয়েছে। বর্তমান সময় যদি এমন কোনো বোলারের সন্ধান করা হয় যিনি নো বল করেননি, তাহলে এটা ভীষণই মুশকিল একটা কাজ। কিন্তু ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন পাঁচ বোলারও ছিলেন যারা নিজেদের পুরো ক্রিকেট কেরিয়ারে কখনও একটাও নো বল করেননি। এই পাঁচজন বোলারের মধ্যে চারজন জোরে বোলার আর একজন স্পিন বোলার।

কপিল দেব

এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি 1

হরিয়ানা হ্যারিকেন নামে জনপ্রিয় ভারতের মহান অলরাউন্ডার কপিল দেব নিখাঞ্জ নিজের পুরো ক্রিকেটিং কেরিয়ারে কখনও নো বল করেননি। কপিলদেবকে আজও ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে মহান অলরাউন্ডার হিসেবে মনে করা হয়। ভারতীয় ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে কপিলদেব যে জায়গাটা হাসিল করেছেন, তা এখনও পর্যন্ত আর কোনো অলরাউন্ডার পাননি। ১৯৭৮ সালে টেস্টে অভিষেক করা কপিলদেব ১৯৮৩ সালে ভারতকে নিজের অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। কপিল দেবের ওয়ানডেতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৩৮ বলে খেলা ১৭৫ রানের ইনিংস ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নথিভুক্ত রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫০০০ এর বেশি রান আর ৪০০র বেশি উইকেট নেওয়া বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। কপিল দেব ১৬ বছরের ক্রিকেট কেরিয়ারে একবারও নো বল করেননি।

ইমরান খান

এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি 2

পাকিস্তান ক্রিকেটে এক সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনকে দলের জয় থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত। ঠিক সময় ইমরান খানের দলে আসা ছিল একটা বিপ্লবের মতো। ইমরান ১৯৮২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন আর ১৯৮৭ সালে ভারতকে ভারতের মাটিতে হারানো প্রথম পাক অধিনায়ক ছিলেন। ইমরান খানের অধিনায়কত্বেই ১৯৯২ সালে পাকিস্তান নিজেদের একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেতাব জিতেছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে ইমরান খানের ব্যাট থেকে ৭২ রান আসে পাশাপাশি বোলিংয়েও তিনি ৪৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানের হয়ে ৮৮টি টেস্ট ম্যাচে ৩৮০৭ রান করেছেন এবং ৩৬২টি উইকেট নেন। তিনি ১৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৭০৯ রান করেন আর ১৮২টি উইকেট নেন। একজন অসাধারণ অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানকে স্মরণ করা হয়। তিনিও  নিজের পুরো ক্রিকেট কেরিয়ারে একবারও নো বল করেননি।

ইয়ান বোথাম

এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি 3

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ইয়ান বোথামকে বিশ্ব ক্রিকেটের মহানতম অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন হিসেবে মনে করা হয়। টেস্ট আর ওয়ানডে দুটি ধরণের ক্রিকেটেই ইয়ান বোথাম ব্যাট আর বল হাতে ইংল্যান্ডের একজন ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় ছিলেন। ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে বোথাম ১০২টি টেস্ট ম্যাচে ৩৮৩টি উইকেট নিয়েছেন, সেই সঙ্গে ব্যাট হাতেও ৫০০০ রান করেছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তিনি ২১১৩ রান করেছেন আর সেই সঙ্গে ১৪৫টি উইকেটও নিয়েছেন। এই মহান খেলোয়াড় বিশ্ব ক্রিকেটকে দেখিয়েছেন কীভাবে অনুশাসনের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি নিজের ১৬ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে কখনও এক ওভারে ৬টির বেশি বল করেননি।

ডেনিস লিলি

এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি 4

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কিংবদন্তী বোলারকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মহান জোরে বোলারদের মধ্যে একজন মনে করা হয়। ডেনিস লিলি টেস্ট ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেট নেওয়ার প্রথম বোলার হয়েছিলেন। তিনি ১৯৭১এ নিজের কেরিয়ার শুরু করেন আর তার কেরিয়ারে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বোলিং করেছেন। এর মধ্যে তাকে বেশকয়েকবার গুরুতর চোটের মধ্যেও পড়তে হয়েছে। এই ১৩ বছরে ডেনিস লিলি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭০টি টেস্ট ম্যাচে ৩৫৫টি উইকেট নিয়েছেন। তার নামে ইনিংসে ২৩ বার পাঁচটি উইকেট আর ৭বার ম্যাচে দশ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন, যার মধ্যে তার নামে ১০৩টি উইকেট রয়েছে। গতির রাজা হওয়া সত্ত্বেও ডেনিস লিলির ভারসাম্য আর নিয়ন্ত্রণ এতটাই ভালো ছিল যে তিনি কখনও তার পা বোলিং ক্রিজ থেকে বাইরে বেরতে দেননি।

ল্যান্স গিবস

এক ভারতীয় সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ৫জন জোরে বোলার, যারা নিজেদের কেরিয়ারে একটাও ‘নো বল’ করেননি 5

ওয়েস্টইন্ডিজের প্রাক্তন স্পিনার ল্যান্স গিবসকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল স্পিন বোলারদের মধ্যে গুনতি করা হয়। ল্যান্স গিবস ইংল্যান্ডের ফ্রেডি ট্রুম্যানের পর টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার ছিলেন। অন্যদিকে তিনি এই কৃতিত্ব দেখানো প্রথম স্পিনার ছিলেন। এই অফ স্পিনার ওয়েস্টইন্ডিজের হয়ে ৭৯টি টেস্ট আর ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। যার মধ্যে তিনি মোট ৩১১টি উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু জর্জ টাউনে জন্মানো এই ক্রিকেটার কখনও নো বল করেননি আর এমনটা করা তিনি বিশ্বের একমাত্র স্পিনার।

Leave a comment

Your email address will not be published.