রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 1

ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই ঘরানা বরাবরই স্পেশাল। অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে এই মেট্রো সিটি। আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের নেক্সট বিগ থিং রোহিত শর্মা যখন ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখেন, তখন নিজের প্রতিভার ঝলকের সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটকে পরিচয় করয়ে দেন। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিষেকেই হাফ-সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটারটা এরপর কেমন যেন বেসামাল হয়ে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে ওয়ান-ডে ক্রিকেটেও জাতীয় দলে অভিষেক হয়ে যায় এর মধ্য়ে। তবু, কোথাও যেন একটা কম থেকে যাচ্ছিল। রোহিত শর্মা যার জন্য় জন্মেছেন, সেই দ্য়ুতিটাই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে, কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ-ছটা বছর প্রায় নষ্ট হয়েছে বলাই যায়।

রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 2 রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 3 রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 4

আজ থেকে চার বছর আগে ফিরে যাওয়া যাক। আজকের রোহিত শর্মাকে চিনতে গেলে ওখানে ফিরে যেতেই হবে। ২০১৩ সাল। মহেন্দ্র সিং ধোনি তখন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেবার রোহিত শর্মা ভারতীয় দলে সুযোগ পান। ট্য়ালেন্ট চিনে নেওয়াতে কোনওদিন ভুল হয় না ধোনির। ঠিক করলেন, ব্য়াটিং অর্ডারে একেবারে ওপরে তুলে এনে রোহিতকে দিয়ে ইনিংসের ওপেন করানো হবে। মাহির দেওয়া সুযোগকে সে যাত্রায় বড় ব্রেক দিতে না পারলেও, রোহিত বুঝিয়ে দেন ওপেনিং করতে নেমে স্বাচ্ছন্দ্য় বোধ করছেন তিনি। অতএব, মাহির পোড় খাওয়া মাথার পরিকল্পনাটা ক্লিক করেছে।

রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 5 রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 6 রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 7 রোহিতকে ওপেনার করার পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আসল কারণ কি ছিল? – ধোনির মুখে সত্য়িটা শুনে নিন 8

এরপর, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে সিরিজে ওপেন করতে নেমে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেন রোহিত। তাঁর মধ্য়ে এমন একজন বিস্ফোরক ব্য়াটসম্য়ান লুকিয়ে ছিলেন, কেউ ধারনাই করতে পারেননি। ওই সিরিজে দুটি শতরান করেন এই মুম্বইকর। তার মধ্য়ে একটি রেকর্ড। শচীন তেন্ডুলকর ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগের পর বিশ্ব ক্রিকেটের তৃতীয় দ্বিশতরান বেরিয়ে আসে রোহিত ব্য়াট থেকে। আর সেই সঙ্গে তাঁর নামের পাশে হিটম্য়ান শব্দটি জুড়ে যায়। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটারটিকে। একদিনের ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। তারপরে আরও একটি দ্বিশতরান নজির গড়েছেন। আর সেই ডাবল সেঞ্চুরিটা এসেছে ইডেনের বুকে। ২০১৪ সালে ভারতীয় ক্রিকেটের মক্কায় খেলা ১৭৩ বলে ২৬৪ রানের ইনিংসটি এখনও পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্কোর। রোহিত বিশ্ব ক্রিকেটে একমাত্র  ব্য়াটসম্য়ান যাঁর পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে দুটি ডাবল রয়েছে। একদিনের ক্রিকেটে ভালো পারফরমেন্স তাঁকে টেস্ট দলে সুযোগ দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত লাল বলের ক্রিকেটে রোহিত শর্মা নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি। কিন্তু, অভিষেকেই পরপর দুটি ইনিংসে সেঞ্চুরি করে নজির গড়েন। বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্টের আসরে তিনি পঞ্চম ব্য়াটসম্য়ান যাঁর এই কৃতিত্ব রয়েছে।

কিন্তু, যার জন্য় হিটম্য়ান রোহিত শর্মাকে ক্রিকেট বিশ্ব পেল, তিনি কি বলছেন? রোহিতকে দিয়ে ওপেন করানোর সিদ্ধান্তটা হঠাৎ কেন নিয়েছিলেন মাহি? তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাক, আমরা সেই ব্য়াপারটা দেখতে চেয়েছিলাম, যেটা অন্য়রা দেখতে পাচ্ছিল না। রোহিত শর্মা তার জলজ্য়ান্ত উদাহরণ। আমরা ওকে ওপেনার হওয়ার চ্য়ালেঞ্জ দিয়েছিলাম। আর ও সেই চ্য়ালেঞ্জটা নিয়েছিল। বর্তমানে একদিনের ক্রিকেটের আসরে রোহিত অন্য়তম সেরা ওপেনার।  মাঝেমধ্য়ে এরকম অনেক সময় আসে যখন প্রথাগত চিন্তা-ভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে হয়। ওর মধ্য়ে প্রতিভা আছে। আমি সেটা লক্ষ্য় করেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, ওকে খেলানো প্রয়োজন। তাই আমি ওকে ওপেন করতে পাঠিয়েছিলাম। আমার কাছে তখন ওটাই সেরা অপশন ছিল। রোহিত সেই পরীক্ষায় উরতেছে কি না, ওর পারফরমেন্সই তার বিচার করবে। তবে, দলের পাঁচ-ছজন ব্য়াটসম্য়ান পারফর্ম করলে তবেই এইরকম পরীক্ষা চালানো যায়। আরও একটা ব্য়াপার হলো, তিন-চারটি ম্য়াচে একই কম্বিনেশন ব্য়র্থ হলে ,তখন হাতের অপশনগুলিকে নাড়াচাড়া করে দেখতে হয়। আমরা যদি প্রত্য়েকটা ম্য়াচে প্রথম একাদশে একই ক্রিকেটারদের খেলিয়ে যাই, তাহলে কোনও দিনই রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি কতটা বুঝতে পারব না। সুযোগ দেওয়ার চেয়েও বড় ব্য়াপার হলো মানুষকে আত্মবিশ্বাস যোগানো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *