প্রাক্তণ বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আনুরাগ ঠাকুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেন ২০১৩য় আইপিএলকে নাড়িয়ে দেওয়া স্পট ফিক্সিং স্ক্যান্ডালে জড়িত থাকা ওই ১৩ জনের নাম প্রকাশ করার জন্য। ২০১৪র ফেব্রুয়ারি মাসে মুদ্গল কমিটি স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকা ১৩ জনের নাম একটি মুখ বন্ধ খামে জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে। পরে মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয় যে ওই রিপোর্টে এমএস ধোনি এবং সুরেশ রায়নার মত বেশ কিছু বড়ো নাম রয়েছে, যাদের ওই স্ক্যান্ডালে জড়িত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। জি সম্পথ কুমার (এসপি, রেলওয়েজ) জাস্টিস মুকুল মুদগলের কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেন, যাতে মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং সুরেশ রায়নার নাম উল্লেখ ছিল। যদিও এ পর্যন্ত এই কেসে ইতিবাচক কিছু বাস্তবায়িত করা হয় নি, এবং অনুরাগ বিশ্বাস করেন যে ওই সমস্ত নামগুলিকে জনসমক্ষে এনে সমস্ত ব্যাপারটার সমাধান করে ফের এই খেলার গৌরব ফিরিয়ে দিয়ে এই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা যে ব্যক্তি বিশেষের থেকে এই খেলার গুরুত্ব অনেক বেশি।


এই বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তণ বোর্ড কর্তা জোর দিয়ে বলেছেন যে দোষী ক্রিকেটার এবং প্রশাসকদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় বোর্ডকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে, এবং এই মুহুর্তে ব্যাপারটা যেভাবে জগাখিচুড়ি হয়ে আছে তা হওয়া উচিৎ নয়। এ ব্যাপারে একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে অনুরাগ বলেছেন, “ আমার জন্য ব্যক্তি বিশেষের কোনো গুরুত্ব নেই। প্রতিষ্ঠানটাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ‘এ’ বা ‘বি’ খেলোয়াড়কে নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমি বিসিসিআইকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। ক্রিকেটারদের নাম লেখা খামটি কোর্ট কখনোই খোলে নি, যার মানে গিয়ে দাঁড়ালো যে ইস্যুটা নিয়ে ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল সেটা এখনও সমাধানই হয়নি বরং কিন্তু বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে রেকটা অন্য ইস্যু তুলে ফেলা হল। কেউ যদি ম্যাচ ফিক্সিং বা অনৈতিক অভ্যাসে জড়িত থাকে তাহলে তার কঠিন শাস্তি হওয়া উচিৎ। কারণ কোনও নামই খেলাটার থেকে বড়ো নয়। সেই বিশেষ ‘এ’ ‘বি’ বা ‘সি’ খেলোয়াড়রা বহু বছর ধরেই খোলা ময়দানে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বেড়াচ্ছে। টিভি স্টুডিয়োতে গিয়ে বসছে। সেই একই টিভি চ্যানেল বা খবরের কাগজ যারা তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং বা ব্যাটিং নিয়ে লিখেছিল তারাই ওদের ক্রিকেট এক্সপার্ট হিসেবে ডাকছে। ফলেকিছু আইন এবং কঠিন শাস্তির প্রনয়ন হওয়া প্রয়োজন ওই সব ব্যাক্তি বিশেষ এবং বা তাদের অ্যাক্টিভিটিসের উপর”।
অনুরাগ ঠাকুর আরও জানিয়েছেন তিনি প্রাইভেট মেম্বার বিল হিসেবে লোকসভায় ‘ন্যাশানাল স্পোর্টস এথিক কমিশন বিল’ পেশ করতে চলেছেন। এই বিলের লক্ষ্যই হবে বড়ো ধরনের সমস্যা যা যে কোনো ধরনের খেলাকেই কলঙ্কিত করে যেমন ম্যাচ ফিক্সিং, বয়েস ভাড়ানো, এবং সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এগুলোকে দূর করা। এই বিলে দোষিদের কঠোর শাস্তির বিধানও থাকবে যেমন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য ১০ বছরের জেল এবং বড় রকমের জরিমানা। প্রসঙ্গত এই বছরের শুরুতেই অজয় শিরকে এবং আনুরা ঠাকুরকে বিসিসিআইয়ের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

  • SHARE
    সাংবাদিক, আদ্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী। দ্বিতীয় ডিভিসনে দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলার দরুণ ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। ব্রায়ান লারা সচিনের অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের বাইরে ব্রাজিলের সমর্থক এবং নেইমার ও মেসির অন্ধ ভক্ত।

    আরও পড়ুন

    ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা!

    শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ট্রাই সিরিজ নিদাহাস ট্রফি জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। কেমন হল দল একবার দেখে...

    ধোনির দিন শেষ? কি বললেন সৌরভ

    ধোনির দিন শেষ? কি বললেন সৌরভ
    সেই কবেই নেভিল কার্ডাস বলে গেছেন ওয়ান ডে ক্রিকেটে পাজামা ক্রিকেট বলে। ওয়ান ডে ক্রিকেটের জামানায় টেস্ট...

    জয়ের সমস্ত কৃতিত্বই ওর : রোহিত শর্মা

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হারার পর ভারতীয় দল আরও দারুণভাবে ফিরে এসে সেঞ্চুরিয়ানের সুপার...

    বিরাটের কাছেই স্পিন খেলা শিখেছি: স্টিভ স্মিথ

    বিরাটের কাছেই স্পিন খেলা শিখেছি: স্টিভ স্মিথ
    বিশ্ব ক্রিকেটে এই মুহুর্তে তাদের মধ্যে চলছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তা সত্ত্বেও এই দুজনের মধ্যে একে অপরকে সম্মান...

    তৃতীয় টি২০তে এই তারকার খেলা নিয়ে সন্দেহ

    পিটিআইয়ের একটি রিপোর্টের মোতাবিক তৃতীয় এবং ফাইনাল ওয়ান ডেতে জসপ্রীত বুমরাহের অংশ নেওয়া এখনও সন্দেহজন অবস্থায় রয়েছে।...