যুবরাজের ধাঁচে ছয় বলে ছ'টা ছক্কা হাঁকিয়ে ময়দানে সাড়া ফেলে দিলেন বাংলার এই ক্রিকেটারটি 1

২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংসমিডে ইংল্যান্ডের জোরে বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডের একটি ওভারের ছয় বলে ছ’টি ছক্কা হাঁকিয়ে কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে নয়া নজির গড়েছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। ঠিক ১০ বছর পর সেই একই কায়দায় একটি ওভারের ছয় বলে ছ’টা ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সংবাদের শিরোনামে চলে এলেন বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অতনু ঘোষ। বুধবার কলকাতার রেঞ্জার্স মাঠে সিএবি অনুমোদিত জেসি মুখার্জি ট্রফিতে ব্যাট হাতে এই অভাবনীয় কাণ্ডটি ঘটালেন ভবানীপুর ক্লাবের বছর আঠাশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানটি।

কঠিন সময়ে বিরাট পাশে পেলেন তাঁর প্রিয় মানুষটিকে, জেনে নিন তিনি কে?

গত বছর সিএবি লিগে ছয় বলে ছ’টা ছক্কা মেরে নজির গড়েছিলেন অভিষেক দাস। তবে জে সি মুখার্জি ট্রফিতে এই রেকর্ডটি প্রথম গড়লেন অতনু ঘোষ। কুড়ি-বিশের এই টুর্নামেন্টে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টিম ভবানীপুর নিজেদের স্কোর বোর্ডে পাহাড়প্রমাণ ২৬৯ রান তুলে ফেলে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে মূলত অতনুর ব্যাটিং ঝড়ের সুবাদে। রাজস্থান ক্লাবের অফ স্পিনার ত্রিদিব অধিকারীর একটি ওভারের ছ’টি বলই অতনু মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারির ওপর থেকে। এরপরও তাঁর ক্রিজে ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত থাকে। মাঠে যেন চার, ছয়ের বন্যা বইছিল। যার ফলে মাত্র ৩৪ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসেন ভবানীপুর ক্লাবের এই মারকুটে ব্যাটসম্যানটি। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে বিস্ফোরক ১০১ রান করে অপরাজিত থেকে যান অতনু।

আইপিএলের বাজারে এদিন সিএবি অনুমোদিত এই গ্ল্যামারহীন টুর্নামেন্টটি কেমন যেন ভবানীপুরের এই অখ্যাত ক্রিকেটারের ব্যাটিং তাণ্ডবের সুবাদে নিজের আসল উজ্জ্বলতা ফিরে পেল। এভাবে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ দলের বোলারকে খড়-কুটোর মতো উড়িয়ে লাইম লাইটে চলে আসা অতনু অবশ্য দারুণ খুশি। ম্যাচে দলকে প্রত্যাশিত জয় উপহার দেওয়ার পাশাপাশি জে সি মুখার্জি ট্রফিতে এমন বিরল রেকর্ড গড়ে তিনি বলেন, “পর পর তিনটি ওভার বাউন্ডারি মারার পরেও আমার মাথায় কিন্তু কোনও রেকর্ডের ভাবনা আসেনি। তবে চতুর্থ বলে ছয় মারার পর ছয় বলে ছ’টা ছক্কা মারার বিষয়টি মাথায় আসে। সত্যি বলতে, ওই ওভারের শেষ বল দুটি আমি খুব মনোযোগ সহকারে খেলেছি। ভগবানের কৃপায় শেষ পর্যন্ত আমি ওই দুটি বলই মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে সফল হলাম। এমন রেকর্ড গড়তে পেরে সত্যি খুব খুশি হয়েছি। আর এর জন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।” 

শিষ্য মাঠে এদিন এমন নজির গড়ে বসবেন, তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি ভবানীপুরের কোচ আব্দুল মুনায়েমও। আনন্দে আত্মহারা মুনায়েম প্রিয় শিষ্য অতনুর প্রশংসায় বললেন, “একজন কোচ হিসেবে সত্যি এটা দারুণ একটা অনুভূতি। আজ ওকে এভাবে খেলতে দেখে খুব খুশি হয়েছি। আর হব না বাই কেন? এমন ইনিংস তো আর বার বার দেখা যায় না। ম্যাচে ওকে কি সব দারুণ দারুণ শট মারতে দেখলাম। বেশির ভাগই সোজা ব্যাটে খেলেছে। আজ ও একজন যোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে এমন একটা ইনিংস খেললো। ওকে নিয়ে সত্যি গর্ব হচ্ছে। আশা করছি, অতনু ভবিষ্যতে এভাবে আরও অনেকটা পথ এগিয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের ২৬৯ রান তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রানে থেমে গিয়ে ১৪৫ রানে হার স্বীকার করে বসে টিম রাজস্থান।

নিজেই নিজের ব্রোঞ্জ মূর্তি উদ্বোধন করবেন সৌরভ!

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *