নেহেরার ফেয়ারওয়েল ম্যাচে খেলা নিয়ে উঠল বড় প্রশ্নচিহ্ন 1

কয়েকদিন আগেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের রিটায়ারমেন্টের ঘোষণা করেছিলেন আশিস নেহেরা। নিউজিল্যান্ডের সাথে টি20 সিরিজ তার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ সিরিজ হতে চলেছে বলে জানান তিনি। সাথে দিল্লিতে ঘরের মাঠ ফিরোজ শাহ কোটলায় খেলে ক্রিকেট জীবনে দাঁড়ি টানার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন তখন যে ঘরের মাঠে দর্শকের সামনেই ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন তিনি।

কিন্তু নেহেরার সেই ইচ্ছার উপর বড়সড় প্রশ্নোচিহ্ন তুলে দিলেন খোদ নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান এমএসকে প্রসাদ। নেহেরা যে দিল্লিতে খেলার সুযোগ পাবেনই তার কোনো রকম নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তিনি।

“নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের চূড়ান্ত একাদশ ম্যাচের আগে নির্ধারিত হবে এবং সেটা করবেন ক্যাপ্টেন আর টিম থিঙ্কট্যাংক। এখানে আমরা কোনো রকম আগে থেকে নিশ্চয়তা দিতে পারবনা।” তিনি জানান। সেই সাথে এটাও স্পষ্ট করেন যে এই সিরিজের জন্যই শুধু নেহেরাকে দলে রাখা হয়েছে বলে।

“গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমরা নতুন বোলারদের তুলে আনছি ইন্ডিয়া এ টিম থেকে। আর তারা যথেষ্ট ভাল প্রদর্শন করেছে সাউথ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। নেহেরার সাথে আমরা এই বিষয়ে কথা বলেছি এবং জানিয়েছি শুধু এই সিরিজের জন্যই তাকে দলে নিয়েছি। ভারতীয় টিমে তার দীর্ঘদিনের অবদানকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ”

উল্লেখ্য যে , দীর্ঘ কেরিয়ারে নেহেরার সাথে খেলা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। তাদেরই পথ অনুসরণ করলেন তিনি। কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ে বিভিন্ন ধরনের চোট আঘাতে ভুগেছেন তিনি। যার ফলে অনেক সময় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে 12 বার অস্ত্রপ্রচার হয়েছে তার শরীরে। এই তথ্য থেকেই প্রমাণিত চোট-আঘাত কতটা ভুগিয়েছে তাকে। কিন্তু তবুও বারবার জাতীয় দলে ফিরে এসেছেন তিনি। সর্বশেষ কামব্যাক অস্ট্রেলিয়ার সাথে চলা এই টি20 সিরিজ। যদিও প্রথম দুই ম্যাচে তিনি সুযোগ পাননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে 1999 এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে। এরপর কয়েক বছর জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন ওয়ানডে ম্যাচে। 2003 সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে 6 উইকেটের স্পেল আজও ক্রিকেট প্রেমীদের চোখে ভাসে। সেই ম্যাচে অসুস্থতার জন্য সাইডলাইনে বমি করার পরেও ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের আসরে ভারতীয় কোনো বোলারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটি। এরপর 2005 থেকে 2009 চোটের জন্য ভারতীয় জার্সিতে একটিও ম্যাচ খেলেননি। তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে 2011 এর বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র 33 রান দিয়ে 2 উইকেট তুলে পাকিস্তানের রানরেট বেঁধে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচেও দুর্ভাগ্যবশত মিশবা উল হকের ক্যাচ নেবার সময় আঙ্গুল ভেঙে বসেন। তাই ফাইনালে আর তার খেলা হয়নি। এরপর আবার 2016 সালের টি20 বিশ্বকাপের দলে ডাক পান। ভারতীয় জার্সিতে 120 টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে 157 টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *