ছিঃ! ফাইনাল দেখতে গিয়ে উৎসাহের চোটে ভারতের মান সম্মান মাটিতে মেশালেন অক্ষয় কুমার! 1

দেশভক্তি হোক কিংবা নারী স্বশক্তিকরণ – এসব নিয়ে জনজাগরণ আনতে সবার আগে তাঁকেই দেখা যায়। সাচ্চা দেশভক্ত যাকে বলে একেবারে তাই। অক্ষয় কুমার। নামটা বলার পর, মানুষটা সম্বন্ধে আর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগবে না। হ্য়াঁ, বলিউডের সেল্ফ-মেড ম্য়ানদের মধ্য়ে একজন। তারচেয়েও বেশি পরিচিত, তিন বড় খানের রাজত্বের মধ্য়েও নিজের দমে টিকে রয়েছেন এখনও, সেই একই সময় থেকে। নিজের একটা আলাদা ঘরানাও সৃষ্টি করে নিয়েছেন হিন্দি সিনেমার জগতে। অক্ষয়ের সিনেমায় আলাদা মেসেজ থাকে। বেবি, স্পেশাল ছব্বিশ, এয়ারলিফ্ট, রুস্তমের মতো আরও কত ছবি – তাঁর সিনেমা দেখতে বসলে দেশভক্তি ভেতর থেকে এমনিই বেরিয়ে আসে। নারী স্বশক্তিকরণ নিয়ে যখন কথা বলেন, শোনার পর ভেতরের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ভালো মানুষটা যেন আপনা থেকেই চাড়া দিয়ে ওঠে কোথা থেকে।

ছিঃ! ফাইনাল দেখতে গিয়ে উৎসাহের চোটে ভারতের মান সম্মান মাটিতে মেশালেন অক্ষয় কুমার! 2

মহিলারা সবার সামনে উদাহরণ রাখার মতো কিছু করলেই সবার আগে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন – কুর্নিশ জানাতে, অভিনন্দন জানাতে, উৎসাহ দিতে। গত রবিবার লর্ডসে আইসিসি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল। এবার ভারতের মহিলা দল দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়েছে। ভারতীয়দের মধ্য়েও একটা অজানা উৎসাহ তৈরি হয়েছিল মেয়েদের কৃতিত্বে। শচীনদের এতদিন যেমন চিয়ার করে এসেছে বা বিরাটদের এখন যেমন চিয়ার করে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা, মিতালিদেরও একইরকমভাবে চিয়ার করছিল সবাই। উৎসাহ ছিল ফাইনাল ম্য়াটা দেখার। বিশ্বকাপ জেতার জন্য়, যাকে বলে এনথু দেওয়ার।

ছিঃ! ফাইনাল দেখতে গিয়ে উৎসাহের চোটে ভারতের মান সম্মান মাটিতে মেশালেন অক্ষয় কুমার! 3

আর পাঁচটা ভারতীয়ের মতো অক্ষয়ও মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে উইসাহিত ছিলেন। বলিউডের হিরো, পকেটে টাকারও অভাব নেই, আর শ্য়ুটিংয়ের কারণে বিদেশ যাওয়া তো হামেশাই হয়। তো ফাইনাল দেখতো সোজা হাজির লর্ডসেই। কিন্তু, উৎসাহের বশে এমন করে বসলেন যে আর কিছু বলার নেই। যা একেবারেই অক্ষয়সুলভ আচরণ নয়।

লর্ডসে খেলা দেখতে যাওয়ার জন্য় ট্রেন ধরেন। যেতে যেতেই চলছিল ট্য়ুইট। একটি ভিডিও পোস্ট করেন আবার। সেখানে বলছিলেন, ‘আমি খুব উত্তেজিত। এরম উত্তেজনা এর আগে কখনও অনুভব করিনি। খালি পায়ে ট্রেন ধরতে দৌঁড়েছি।’ ম্য়াচ অবশ্য় প্রথম থেকে দেখা হয়নি অক্ষয়ের। ভারতের ব্য়াটিংটা অবশ্য় পুরে দেখেছেন। ট্য়ুইটও করেছেন একনাগাড়ে। আর তখনই ঘটান সেই বিপত্তি। ভারতীয় মহিলা দলকে উৎসাহ দেওয়ার উত্তেজনার চোটে খেয়ালই ছিল না একেবারে। পতাকা নেড়ে চলেছেন। ব্য়াস, টেলিভিশন ক্য়ামেরায় ধরাও পড়ল।

বলিউডের হিরো মাঠে খেলা দেখতে হাজির আর ক্য়ামেরার নজর যাবে না – এ হতে পারে না। সবারও নজরও চলে গেল অক্ষের দিকে। দেখা গেল প্রবল উইসাহে ভারতের তেরঙা ওড়াচ্ছেন আক্কি। দিকবিদিগ জ্ঞান নেই যে পতাকাটা উল্টো ধরে আছেন। ব্র্য়ান্ড ইন্ডিয়ার সাচ্চা দেশভক্ত হওয়া তো পরের কথা, জাতীয় পতাকা এভাবে উল্টো করে ধরা একজন ভারতীয়ের পক্ষে অত্য়ন্ত লজ্জাজনক। আর উৎসাহের চোটে সেটাই খেয়াল রইল না। জাতীয় পতাকাকে অজান্তেই অপমান করে বসলেন আক্কি। তা দেখার পর তৎক্ষণাত ভারতীয় সমর্থকরা তেমন প্রতিক্রিয়া না জানালেও, ভারত ফাইনাল ম্য়াচটি হেরে যাওয়ার পর অনেকেই অক্ষয়ের ওইভাবে উল্টো করে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিয়ে সরব হন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *