৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট

ক্রিকেট ম্যাচে উইকেট নেওয়া সবসময়ই একজন বোলারের জন্য ভীষণই স্পেশাল থেকেছে, এই একটা উইকেটের জন্য বোলাররা আলাদা আলাদাভাবে আর গতিতে ব্যাটসম্যানদের ফাঁসানোর উপায় বের করতে থাকেন। ক্রিকেট জগতে এমন বেশকিছু বোলার রয়েছেন যারা বিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের উপর প্রভাবশালী থেকেছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ভীষণই কম তারকা থেকেছেন, যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে উইকেট নিতে পেরেছেন। এখন আমরা আপনাদের এই আর্টিকেলে এমন পাঁচজন বোলারের ব্যাপারে জানাব যারা ক্রিকেটের যে কোনো ফর্ম্যাটে নিজের কেরিয়ারের শেষ বলে উইকেট নিয়েছেন।

১. গ্লেন ম্যাকগ্রা

৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট 1

কিংবদন্তী অস্ট্রেলিয়ান জোরে বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা সবচেয়ে মহান বোলারদের মধ্যে একজন, যাকে নিয়মিত সঠিক লাইন আর লেংথের বোলিংয়ের কারণে চিহ্নিত করা হয়। তার নিজের টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-২০ ফর্ম্যাটে নিজের শেষ বলে উইকেট নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। নিজের টেস্ট কেরিয়ারের শেষ বলে ম্যাকগ্রা চালাকির সঙ্গে ইংল্যান্ডের জেমস অ্যাণ্ডারসনকে নিজের আঙুলে নাচিয়েছেন আর এরপর মিড অনে দাঁড়ানো মাইক হাসি সোজা তার ক্যাচ নেন। নিপুণ মিডল অর্ডার জোরে বোলার পল নিক্সনকে ওয়ানডেতে শেষ বলে আর পল কলিংউডকে টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের শেষ বলে ম্যাকগ্রা আউট করেন।

২. মুথাইয়া মুরলীধরণ

৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট 2

মুথাইয়া মুরলীধরণের জন্ম ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ এ হয়। যাকে ২০০২ এ উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানেক দ্বারা এখনো পর্যন্ত সবচএয়ে বড়ো টেস্ট ম্যাচ বোলার বাছা হয়েছিল। তিনি ২০১০এ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন আর ২২ জুলাই নিজের ৮০০তম আর শেষ উইকেট নেন। ২০১০এ নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচে নিজের শেষ বলে মুরলী টেস্ট আর একদিনের ক্রিকেট দুটিতেই সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১৭য় তিনি আইসিসিস হল অফ ফেমে শামিল হওয়া একমাত্র শ্রীলঙ্কান হন। তিনি ২০১৭য় আদ্যা ডরানা শ্রীলঙ্কান অফ দ্যা ইয়ার খেতাব জেতেন। প্রাক্তন শ্রীলঙ্কান অফ ব্রেক বোলার মুথাইয়া মুরলীধরণ গালেতে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে প্রজ্ঞান ওঝাকে শেষ বলে আউট করার সঙ্গেই নিজের দুর্দান্ত টেস্ট কেরিয়ার শেষ করেন। নিজের দুর্দান্ত স্পিন বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের বিট করতে সফল হওয়া মুরলীধরণ ভারতীয় টেলএন্ডারকে আউট করার সঙ্গেই ৮০০ টেস্ট উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান।

৩. স্যার রিচার্ড হেডলি

৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট 3

স্যার রিচার্ড জন হ্যাডলি নিউজিল্যাণ্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার। তার জন ৩ জুলাই ১৯৫১য় হয়। যাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে মহান জোরে বোলার আর অলরাউন্ডারদের মধ্যে গুনতি করা হয়। হেডলি নিউজিল্যান্ডের নির্বাচকদের প্রাক্তন সভাপতিও থেকেছেন। ডিসেম্বর ২০০২এ তাকে উইজডেন দ্বারা সর্বকালীন দ্বিতীয় মহান টেস্ট বোলার হিসেবে বাছা হয়েছিল। মার্চ ২০০৯ এ হেডলিকে ১২জন স্থানীয় নায়কদের মধ্যে একজন হিসেবে বাছা হয়। আর ক্রাইস্ট চার্চ আর্টস সেন্টারের বাইরে তার একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি লাগানো হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর হেডলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ ডেলিভারিতে স্ট্রাইক নেওয়া ইংল্যান্ডের ডি. ম্যালকমকে আউট করেন। এখন যদি তার বোলিংয়ের কথা বলা হয় তো তিনি ৮৬টি টেস্টে ২২.২৯ গড়ে ৪৩১টি উইকেট নেন, এছাড়াও ওয়ানডেতে ১১৫টি ম্যাচে তিনি ২১.৫৬ গড়ে ১৫৮টি উইকেট নেন।

৪. লাসিথ মালিঙ্গা

৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট 4

সেপরমডু লাসিথ মালিঙ্গার জন্ম ২৮ আগস্ট ১৯৮৩তে হয়। তিনি একজন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। তিনি ডানহাতি জোরে বোলিং করেন, যাকে স্বাভাবিকভাবে একজন বিশেষজ্ঞ ডেথ বোলার হিসেবে ব্যবহার করা হত, আর তিনি নিজের বিশিষ্ট রাউন্ড আর্ম অ্যাকশনের জন্যও পরিচিত, যাকে কখনো কখনো একটি স্লিং অ্যাকশন হিসেবেও মানা হয়। এর ফলে তাকে স্লিঙ্গা মালিঙ্গাও বলা হয়ে থাকে। টো ক্রাশিং ইয়র্কার করার ধারাবাহিক ক্ষমতার জন্য তাকে ইয়র্কার কিংও বলা হয়ে থাকে। মালিঙ্গা সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ বোলারদের মধ্যে একজন। মালিঙ্গার একটি বিশেষতা হলো যে স্লিঙ্গি রাউন্ডআর্ম অ্যাকশনে তিনি একদিন সঠিক ইয়র্কার করেন। মালিঙ্গা সময় সময় নিজের বোলিংয়ে গতি পরিবর্তন করতে থাকেন, যাতে ব্যাটসম্যানরা সহজেই বিট হন আর নিজের উইকেট দিয়ে বসেন।
কলম্বোতে নিজের শেষ একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুপারস্তার বোলার মুস্তাফিজুরের উইকেট নেন তিনি, যাকে মিড অফে থিসারা পেরেরা সহজেই ক্যাচ আউট করেন। এর সঙ্গেই মালিঙ্গা অবসরের আগে শেষ ডেলিভারিতে উইকেট নেওয়ার বিশেষ কৃতিত্ব হাসিল করেন।

৫. অ্যাডাম গিলক্রিস্ট

৫জন বোলার যারা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ বলে নিয়েছিলেন উইকেট 5

অ্যাডাম গিলক্রিস্টের জন্ম ১৪ নভেম্বর ১৯৭১ এ হয়। তিনি একজন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার, এছাড়াও তিনি একজন কমেন্টেটর আর জাতীয় দলের অধিনায়কও থেকেছেন। তিনি একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আর রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙা উইকেটকিপার ছিলেন, যিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে এক আলাদাই ভূমিকা পালন করেছিলেন। নিজের আক্রামণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গুনতি করা হয়। গিলক্রিস্ট ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটকিপার দ্বারা সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন, কিন্তু ২০১৫য় কুমার সাঙ্গাকারা তাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান। তার স্ট্রাইকরেট ওয়ানডে আর টেস্ট ক্রিকেট দুটির ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি ছিল। এই বিস্ফোরক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নিজের প্রতিযোগীতা মূলক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলছিলেন আর এর মধ্যেই তিনি বল হাতে হরভজন সিংয়ের উইকেট নেন, আর এই উৎসব তিনি আলাদাই মেজাজে নেচে পালন করেছিলেন।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *