৪জন খেলোয়াড়, যাদের টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল কেরিয়ার

আজ আমরা আপনাদের সেই চারজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে জানাতে চলেছি যাদের কেরিয়ার বোর্ড, নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল। আসলে এই চারজন খেলোয়াড়ের কেরিয়ার দীর্ঘদিন চলতে পারত, কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে এই সমস্ত খেলোয়াড়দের কেরিয়ারকে ছোটো করে দিয়েছিল।

আম্বাতি রায়ডু

৪জন খেলোয়াড়, যাদের টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল কেরিয়ার 1

ভারতীয় দলের নির্বাচকরা আম্বাতি রায়ডুকে ২০১৯ বিশ্বকাপে উপেক্ষা করেছিলেন। বিশ্বকাপে উপেক্ষা করার কারণে আম্বাতি রায়ডু অবসর ঘোষণা করেছিলেন। জানিয়ে দিই যে আম্বাতি রায়ডূ বিশ্বকাপে নির্বাচিত না হওয়ায় একটি টুইট করেছিলেন। যেখানে তিনি বিজয় শঙ্করকে টার্গেট করে লিখেছিলেন যে আমি বিশ্বকাপ দেখার জন্য থ্রি-ডি চশমা আনিয়েছি। আসলে ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ রায়ডুর জায়গায় বিজয় শঙ্করকে নির্বাচিত করার পর বলেছিলেন যে শঙ্কর একজন থ্রি-ডি খেলোয়াড়। আম্বাতি রায়ডু বিশ্বকাপের দল নির্বাচন হওয়ার আগে নিয়মিত ২ বছর পর্যন্ত ভারতীয় দলের হয়ে খেলছিলেন, কিন্তু নির্বাচকরা আর টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের জন্য তার আন্তর্জাতিক কেরিয়ার প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে।

গৌতম গম্ভীর

৪জন খেলোয়াড়, যাদের টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল কেরিয়ার 2

গৌতম গম্ভীর নিজের শেষ ওয়ানডে ধর্মশালায় ২০১৩য় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। তারপর থেকে তিনি কখনো ভারতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৬য় তিনি নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন।
তার অ্যাগ্রেসন টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকরা কখনো পছন্দ করেননি আর এর ফল তাকে ভুগতে হয়। আসলে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট আর আইপিএলে ভালো প্রদর্শন করার সত্ত্বেও ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর প্রত্যাবর্তন করতে পারেননি। সম্প্রতি প্রাক্তন নির্বাচক দিলীপ বেঙ্গসরকার টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে বলেন যে, “ও নিজের ক্রিকেট কেরিয়ার চলাকালীন নিজের রাগ আর নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারত না, নইলে ওর কেরিয়ার বেশি দীর্ঘ হতে পারত”।

কেভিন পিটারসন

৪জন খেলোয়াড়, যাদের টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল কেরিয়ার 3

কেভিন পিটারসন ইংল্যান্ডের হয়ে শেষবার জানুয়ারি ২০১৪য় সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। এরপর থেকে তাকে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে কখনো নির্বাচিত করা হয়নি। আসলে তার সঙ্গে নিজের বোর্ডের কখনো মিলমিশ হয়নি। তিনি আইপিএলেও খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় তার বোর্ড তাকে এরজন্য অনুমতি দিচ্ছিল না, যারপর পিটারসনের সঙ্গে তার বোর্ডের ঝামেলা হয়ে যায়। এর আগেও তার দলের কোচ অ্যাণ্ডি ফ্লাওয়ারের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। অন্যদিকে অ্যাণ্ড্রু ট্রসের সঙ্গেও তার মিলমিশ হচ্ছিল না। যার ফলাফল তাকে দল থেকে বাদ পড়ে চোকাতে হয়।

শোয়েব আকতার

৪জন খেলোয়াড়, যাদের টিম ম্যানেজমেন্টের পলিটিক্সের কারণে বর্বাদ হয়েছিল কেরিয়ার 4

শোয়েব আকতার পাকিস্তানের এমন একজন খেলোয়াড় থেকেছেন যার সঙ্গে বিতর্কের সবসময়ই গভীর সম্পর্ক থেকেছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের পলিসির কারণে এই খেলোয়াড়েরও কেরিয়ার বর্বাদ হয়েছিল। আসলে বিশ্বকাপ ২০১১র সেমিফাইনালে পাকিস্তান দলের ম্যানেজমেন্ট তাকে দলে জায়গা দেয়নি। এরপর তিনি আর কখনো দলের হয়ে খেলতে পারেননি। শোয়েব আকতারের কেরিয়ার দুর্দান্ত ছিল। তিনি পাকিস্তানের হয়ে ৪৬টি টেস্ট ম্যাচে ২৫.৭ গড়ে ১৭৮টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে তিনি ১৬৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৪.৯৪ গড়ে ২৪৭টি উইকেট নিয়েছেন। ১৫টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি ২২.৭৪ গড়ে ১৯টি উইকেট নিয়েছেন।
তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার মনে করা হত। তার নামে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ১৬১.৩ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে বল করার একটি বিশেষ রেকর্ড রয়েছে।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *