বহুকোটি টাকার স্পনসরশিপ চুক্তি ফিরিয়ে দিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যে কোম্পানির থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটি একটি নরম পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা। আর বিরাট যেহেতু কোনওরকম কার্বোনেটেড পানীয় মুখে তোলেন না, তাই তিনি এধরনের কোনও বিজ্ঞাপনে মুখ দেখাতেও চান না। কারণ, বিরাট ভালো করেন জানেন, তিনি একজন ইয়ুথ আইকন। তিনি যা করবেন, তাঁর অনুরাগীরা তাই অনুকরণ করবেন বা করতে চাইবেন। বিরাটের এটা একেবারেই পছন্দ নয়। তিনি নিজে যে কাজটা করেন না, তা করতে অন্য়দের উৎসাহ দিতে একেবারেই নারাজ ভারত অধিনায়ক। তাঁকে নিয়ে ভুল ইমেজ তৈরি হবে ভক্তকুলের মধ্য়ে। তাই যতই অর্থ আসুক, জনমানসে তিনি নিজের ইমেজটা ঠিক রাখতে চান।

বিরাট বারবার বলে এসেছেন, তিনি যে পণ্য় নিজে ব্য়বহার করেন, একমাত্র সেই জাতীয় পণ্য়ের বিজ্ঞাপনেই তিনি মুখ দেখাবেন। আটাশ বছেরর বিরাট তাঁর নিজের সুস্বাস্থ্য়ের ব্য়াপারটা মাথায় রাখেন, তেমন তাঁর অনুরাগীদের সুস্বাস্থ্য়ের বিষয়েও যত্নশীল। গত বছর এই কারণেই মার্কিনি বিখ্য়াত নরম পানীয় সংস্থা পেপসিকো-র সঙ্গে ছবছরের চুক্তি আর নতুন করে বাড়াননি তিনি। বহুকোটি টাকার চুক্তির প্রস্তাব ফেরানো প্রসঙ্গে বিরাট বলেন, আমি যদি ওসব নিজে খেতাম, তাহলে আমি ওদের বিজ্ঞাপনে মুখ দেখাতে রাজি হয়ে যেতাম। কিন্তু, আমি যেটা নিজেই মুখে তুলি না, সেটা অন্য়কে কি করে বিজ্ঞাপনের মাধ্য়মে মুখে তুলতে বলব। অনেক টাকা পাব বলে, আমি সেই কাজটা কখনই করতে পারি না।

সিক্স-প্য়াক অ্য়াবস আর সুস্থ শরীরের জন্য় যুব সমাজে আরও বেশি করেছে নজর কেড়েছে বিরাটের ফিটনেস লেভেল। সোশ্য়াল মিডিয়াতে অন্য়দের উদ্দেশেও ফিটনেসের বার্তাই দিয়ে যান বিরাট। এ প্রসঙ্গে বিরাট বলেন, আমি যখন ফিটনেসের ওপর নজর দেওয়া শুরু করি, তখন থেকেই ওই ব্য়াপারটা আমার জীবন-ধারণের অন্য়তম অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। কোনওভাবেই আমি সেটার থেকে বিপথে যেতে চাই না। তাই আমি এই (ফিটনেস বিরোধী) ধরনের কোনও রকম কাজে যোগ দেব না বা প্রচার করব না।

ক্রিকেট মাঠের বাইরের বেশিরভাগ সময়টাই ভারত অধিনায়ক জিমে অতিবাহিত করেন। শরীরের উপযোগী খাবার ছাড়া কোনও রকম মশলাদার, সুস্বাদু খাবার মুখে তোলেন না তিনি। বড় স্পোর্টস-স্টার হতে গেলে, তাঁদেরকে এটাই করতেই হয়। নাহলে কেরিয়ার কোনওদিনও দীর্ঘজীবী হবে না। বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট দলের দিকে নজর দিলেই দেখা যাবে বিযয়টা কতটা প্রাসঙ্গিক। বিরাট বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট এখন পঞ্চ-মাত্রিকে (ফিফ্থ ডায়মেনশন) উঠে এসেছে। ব্য়াটিং, বোলিং, ফিল্ডিং – সবেতেই ফিটনেস লেভেলের ছোঁয়া। ক্রিকেটাররা এখন ফিটনেসকে জীবনের অঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর সেটাই সর্বত্র প্রতিফলিত হচ্ছে। সবাই শিক্ষিত। সবাই এ ব্য়াপারে সচেতন, কোনটা খাওয়া উচিত আর কোনটা নয়। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে, বিসিসিআই একজন স্ট্রেংদেন অ্য়ান্ড কন্ডিশনিং কোচ আলদা করে নিয়োগ করে রেখেছে এব্য়াপারে নজর রাখার জন্য়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *