ভারতীয় বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের মুখে মহম্মদ শামী

ভারতীয় বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের মুখে মহম্মদ শামী 1

গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে জাতীয় দলের জোরে বোলার মহম্মদ শামী। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ বেশ কিছু ধারায় মামলা করেছে তার বিরুদ্ধে। এবার ক্রিকেটীয় তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের মুখেও পড়তে হচ্ছে জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটারকে। সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের দল কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস এই তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিল। দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান নিরজ কুমারকে এ ব্যাপারে সিওএর তরফে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য যে এর আগেও যখন দিল্লি পুলিশের তরফে আইপিএলের স্পট ফিক্সিং কান্ডে শ্রীসন্থদের বিরুদ্ধে গড়পেটার অভিযোগ করা হয়েছিল তখন দিল্লি পুলিশের প্রধান হিসেবে সেই ঘটনার তদন্ত করেছিলেন এই নীরজ কুমারই। কিন্তু শ্রীসন্থদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমান করতে পারে নি দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশ থেকে অবসর নেওয়ার পরই নীরজ কুমারকে নিয়োগ করা হয় ক্রিকেট বোর্ডে। এক সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি দেখানো হয়েছিল হাসিন এবং শামীর মধ্যে হওয়া কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ। সিইওর পাঠানো চিঠিতে সেই অডিও ক্লিপেরও উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই ওই অডিও ক্লিপটি হাসিন শুনিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমকে।

ভারতীয় বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের মুখে মহম্মদ শামী 2

ওই অডিও ক্লিপটি সংবাদমাধ্যমকে শুনিয়ে হাসিন দাবী করেছিলেন যে ফোনে কথা বলার সময় শামী তাকে বলেছিলেন যে ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ি মহম্মদ ভাই তাকে টাকা পাঠিয়েছেন আলিসবা নামে এক পাক তরুণীর হাত দিয়ে। শামী দুবাই গিয়েছিলেন সেই টাকা আনতে। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের তরফে ফরেন্সিক পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে ওই কথোপকথনে উল্টো দিকের ব্যক্তিটি শামীই কিনা। এদিকে সিইও পাঠানো চিঠিতে নীরজ কুমারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, “বাজারে একটি অডীও রয়েছে মহম্মদ শামীকে নিয়ে। প্রত্যেকেই সেটা শুনেছে। আমরাও শুনেছি। এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্য টাকা এক মহিলার মাধ্যমে শামী আনতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এটা কিসের টাকা এবং সেই টাকার সঙ্গে শামীর সম্পর্ক কি তা আপনারা বিস্তারিতভাবে খুঁটিয়ে দেখুন”। এ ছাড়াও দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান নীরজ কুমার কে আরও নির্দেহস দেওয়া হয়েছে তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখে বলুন যে এ নিয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না। প্রসঙ্গত শামীর স্ত্রী হাসিন দাবী জানিয়েছিলেন যে শামীকে এই মহম্মদ ভাই কেনো টাকা পাঠাচ্ছিলেন আর এর মধ্যে আলিশবার কি সম্পর্ক তা খতিয়ে দেখা হোক। এছাড়াও হাসিন আরও দাবী করেছিলেন যে পাকিস্থানী আলিশবার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন শামী। তবে বিসিসিআই পরিস্কার করে দিয়েছে যে বোর্ড শুধু শামীর ক্রিকেটীয় দিকটিই তদন্ত করে দেখবে। হাসিনের আনা অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে বোর্ডের কোনও মাথা ব্যাথা নেই।

ভারতীয় বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের মুখে মহম্মদ শামী 3

এ প্রসঙ্গে একসময়ে দীর্ঘদিন বোর্ডের এবং সিএবিতে আইনি উপদেষ্টা হিসেবে থাকা উষানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ যেহেতু শামীর স্ত্রী হাসিন যে অভিযোগ করেছে তাতে আর্থিক লেনদেনের বিষয় রয়েছে ফলে এটাই খুবই স্বাভাবিক যে বোর্ড তা খতিয়ে দেখবে। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই”। ঊষানাথ বাবুর মতে শামীকে চুক্তির বাইরে রাখার ভারতীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “ শামীর বিরুদ্ধে যদি ক্রিকেট দুর্নীতি প্রমান হয় তখন নিশ্চই পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু এখন কিসের ভিত্তিতে ওকে চুক্তির বাইরে রাখা হল? কোনও অভিযোগের উপর ভিত্তি করে কোনও খেলোয়াড়ের জীবিকা এভাবে থামিয়ে দেওয়া যায় কি”? তিনি আরও বলেন, “ যদি বোর্ডের শামীকে চুক্তির বাইরে রাখতে হয় কিংবা আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ওকে খেলাতে না চায় তাহলে বোর্ড এবং আইপিএলে ফ্রেঞ্চাইজিকে প্রমান করতে হবে যে শামীর পারফর্মেন্স খারাপ ছিল বা ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে”। অবশ্য ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা যেহেতু সিওএ নীরজ কুমারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ফলে বোর্ড এটা ভেবে রেখেছে যদি শামী নির্দোষ প্রমানিত হন তাহলে তাকে ফের চুক্তিতে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *