বিদেশে টি-২০ লিগ খেলবেন শ্রীসন্থ! 1

ভারতীয় ক্রিকেট এখন কেরলের নির্বাসিত পেস বোলার সান্থাকুমারণ শ্রীসন্থের জোরালো দাবিতে সরগরম। কেরালা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ফের জিতে যাওয়ায় শ্রীর ক্রিকেটে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আবার বলবৎ হয়ে গিয়েছে। দুবাইতে একটি ইভেন্টে দাঁড়িয়ে এরপর এই কেরলিয়ান পেসার মন্তব্য় করেন, বিসিসিআই না খেলতে দিলে তিনি অন্য় দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলবেন। কারণ, আইসিসি তাঁকে নির্বাসিত করেনি। আর ভারতীয় বোর্ড বেসরকারি সংস্থা। এরপর বোর্ড সচিব বিসিসিআইয়ের হয়ে জবাব দিয়েছেন। সঙ্গে হুঁশিয়ারিও। অমিতাভ চৌধুরী কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিসিসিআই সব আইনি ব্য়াপার জানে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনও পূর্ণ সদস্য় দেশের বোর্ড তাদের কোনও ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার অন্য় কোনও পূর্ণ সদস্য় দেশের হয়ে খেলতে তো পারবেনই না, সেই সঙ্গে তাদের পরিচালিত কোনও টুর্নামেন্টেও অংশ নিতে পারবেন না।

বোর্ড সচিবের এই মন্তব্য় সংবাদমাধ্য়মে প্রকাশ পাওয়ার পর শ্রীসন্থের সুর এখন বেশ নরম। তিনি এখন বলছেন, আসলে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, অন্য় কোনও দেশে গিয়ে টি-২০ লিগ ক্রিকেটে অংশ নিতে চাইছেন। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্য়মকে শ্রী বলেন, সেদিন আমি আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছিলাম। আমি বলতে চেয়েছিলাম, ক্রিকেট আমার কাছে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্য়াপার। তাই আমি অন্য় দেশে গিয়ে টি-২০ লিগে অংশ নিতে চাই। যেমন দুবাইতে টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হবে। নির্বাসনের সাজা উঠে গিয়েছিল যখন, তখন আমাকে দুবাইয়ের এই ক্রিকেট লিগের একটি টিমের মালিক প্রস্তাব দেন ক্রিকেট খেলার জন্য়। আমার কথার ভুল ব্য়াখ্য়া করা হয়েছে। বিসিসিআই তাঁকে সতর্ক করে দিলেও, শ্রীসন্থ এখনও ক্রিকেটে ভুলতে নারাজ। আইনি লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

গত আগস্টে কেরালা হাইকোর্ট শ্রীসন্থকে মুক্তি দেওয়ার পর বিসিসিআইকে শ্রীসন্থ ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিলেন তাঁর ওপর থেকে আজীবন নির্বাসনের সাজা তুলে নেওয়ার জন্য়। কিন্তু, বোর্ড পাল্টা মামলা করে জিতে যাওয়ায় শ্রীসন্থের সেই আশা আবার অস্তমিত। শ্রী এখন বলছেন, বিষয়টা এখন আদালতের হাতে। আমার কাছে অর্ডার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। আমি দোষি, নাকি নির্দোষ – প্রমাণ হয়ে গেলেই আমার আমার আইনি দলের সঙ্গে কথা বলব পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে। আমি লড়াই করে যাব। আমার এখনও বিচারবিভাগের ওপর আস্থা রয়েছে। আশা করি, আমি বিচার পাব। যদি সাড়ে চার বছর ধরে অপেক্ষা করতি পারি, তাহলে আরও কিছুদিন করতে পারব না কেন?”

তবে, আদালতের আদেশ যাই আসুক না কেন, বোর্ড তাদের অবস্থান থেকে নড়তে নারাজ। প্রয়োজনে আবারও আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে বিষয়টিকে। কারণ, বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, বেটিং, ফিক্সিংয়ের মতো বিষয়ে তারা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। শ্রীসন্থের ওপর থেকে সাজা তুলে নিয়ে বোর্ড ভুল তাদের নমনীয় হওয়ার বার্তা দিতে চায় না কোনও ক্রিকেটারকে।

২০১৩ সালে ষষ্ঠ আইপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর ভারতীয় বোর্ড নড়েচড়ে বসেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিসিসিআইকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উদ্য়োগ নিয়েছে। লোধা কমিশনের সুপারিশ মেনে বোর্ডের মাথায় কমিটি অফ অ্য়াডমিনিস্ট্রেটরকে বসিয়ে সুপ্রমি কোর্ট। আর তার জেরে অনুরাগ ঠাকুরকে বোর্ড সভাপতির পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় স্বার্থের সংঘাতের প্রসঙ্গ এনে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *