নিউজিল্য়ান্ড সিরিজেই সবধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর, কোটলাতেই শেষ ম্য়াচ আশিস নেহরার 1
আশিষ নেহরা

আর নয়। অবশেষে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন ভারতের অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি পেস বোলার আশিস নেহরা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ শেষ হলেই নিউজিল্য়ান্ড ভারতে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে আসছে। ওই সিরিজেই অবসর নিতে চলেছেন দিল্লির এই পেস বোলার। পয়লা নভেম্বর কিউয়িদের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্য়াচ। নেহরার ঘরের মাঠে খেলা। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা ময়দানে প্রায় আঠারো বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে ইতি টানতে চলেছেন এই বিগম্য়াচ বোলার।

আটত্রিশ বছরের নেহরার সবরকরমের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরটি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্য়মকে জানান বুধবার (এগারো অক্টোবর)। ভারতীয় দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী ও অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে পরামর্শ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আশিস। ২০১৮ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। তার পরিবর্তে ২০২০  সালে আয়োজন করা হবে টি-২০ বিশ্বকাপের সপ্তম সংস্করণ। ফলে, তরুণ পেস বোলারদের জায়গা আটকে রাখতে চান না নেহরা। সেই কারণে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন তিনি। ১৯৯৯-এর ফেব্রুয়ারি মাসে মহম্মদ আজহারউদ্দিনের অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলে অভিষেক হয় নেহরার। চোট-আঘাতেই কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়টা কেটেছে। তাই, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার সতেরো বছরের ওপর দীর্ঘায়িত হলেও ভারতের হয়ে বেশি ম্য়াচ খেলতে পারেননি। ভারতের জার্সি গায়ে ১৭টি টেস্ট, ১২০টি একদিনের ম্য়াচ ও ২৬টি টি-২০  ম্য়াচে (দশ অক্টোবর গুয়াহাটি ম্য়াচ পর্যন্ত) অংশ নিয়েছেন নেহরা। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে অংশ নেওয়া বহুদিন আগেই ছেড়ে দিয়ে গত ছবছর শুধু টি-২০ ক্রিকেটই খেলে চলেছেন তিনি। যদিও সরকারিভাবে টেস্ট ও একদিনের ফরম্য়াট থেকে এতদিন অবসর নেননি।

বিসিসিআইয়ের ওই সিনিয়র আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, হ্য়াঁ, আশিস রবি ও বিরাটের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করেছে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউজিল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে পয়লা নভেম্বর ফিরোজ শাহ কোটলাতে টি-২০ ম্য়াচে মাঠে নামার পর সমস্ত ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চাইছে। খবরটার মধ্য়ে অবাক হওয়ার মতো ব্য়াপার অবশ্য়ই আছে। কারণ, অনেকেই ভেবেছিল, আশিস শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবে। কিন্তু, ওর মনে হয়েছে, এটাই সঠিক সময় বুট জোড়া তুলে রাখার।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের দল ঘোষণার পর ভারতীয় ক্রিকেট মহল অবাক হয়ে গিয়েছিল ইয়ো-ইয়ো টেস্ট পাশ করে আটত্রিশ বছর বয়সে ভারতীয় দলে নেহরা জায়গা করে নেওয়ায়। কিন্তু, নেহরা মনে করছেন ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রীত বুমরাহর মতো তরুণ প্রতিভাদের জায়গা তাঁর আটকে রাখা ঠিক হচ্ছে না। কারণ, দুজনেই ফর্মে আছেন এবং ভারতীয় দলকে আগামী দিনে দুজনেই অনেক কিছু দেবেন। সবরকমের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ আগামী বছর থেকে আইপিএল ম্য়াচেও আর খেলতে দেখা যাবে না তাঁকে।

উল্লেখ্য়, ২০০৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে নেহরার ২৩ রানে ৬ উইকেট ভারতীয়দের স্মৃতির মণিকোঠায় আজও সযত্নে রাখা। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ওই ম্য়াচে দুর্দান্ত বল করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির বিশ্বকাপজয়ী দলেরও সদস্য় ছিলেন তিনি। আঙুলে চিড় ধরার কারণে ফাইনাল ম্য়াচ খেলা না হলেও সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বিগম্য়াচ বোলার এক অনবদ্য় স্পেল করছিলেন, যা ম্য়াচের মোড় ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *