দলীপ ট্রফির আগে মুখ খুললেন রায়না, শচীনের পরামর্শ মেনেই নাকি সোশাল মিডিয়াতে যত লোক দেখানি 1

বারো বছর হয়ে গেলো। ২৩০টা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্য়াচ খেলেছি ভারতের হয়ে। দলে যদি ফেরার হয় ফিরব। তুমি কতটা কঠোর পরিশ্রম করছ, সেটাই বড় কথা। ভগবান যা দেওয়ার, তিনি তা দেবেন। এই কথাগুলি আর কারওর নয়। ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটার সুরেশ রায়নার। একসময় উত্তরপ্রদেশের এই ক্রিকেটারটিকে ছাড়া সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলকে ভাবাই যেত না। আর তিনিই কি না এখন জাতীয় দলে ব্রাত্য়। ফিটনেস দেখিয়ে একসময় তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করা সুরেশ রায়না এখন নিজেই আনফিট। ফিটনেস টেস্টে উতরাতে ব্য়র্থ হয়ে নির্বাচকদের সুনজর থেকে সরে গিয়েছেন এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডারটি।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য় দল ঘোষণার পর দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া নিয়ে জাতীয় নির্বাচকরা ক্রিকেট অনুরাগীদের ক্ষোভের শিকার হয়েছিলেন সোশ্য়াল মিডিয়াতে। তার রেশ এখনও বর্তমান। তবে, যুবরাজ সিংকে মানুষটা যতটা হইচই করেছিলেন, রায়নাকে নিয়ে ততটা আবেগ তাড়িত নন ক্রিকেট ফ্য়ানরা। বিরাট কোহলির ভারতীয় টিমে তাঁর জায়গা না পাওয়া নিয়ে সওয়াল হলেও, তুলনায় তা অনেক কম। তবে, নির্বাচকরা যে তাঁকে একেবারে খরচার খাতায় ফেলে দেননি বা তিনি এখনও তাঁদের ভাবনা-চিন্তায় আসতে পারেন – তার প্রমাণ, দলীপ ট্রফিতে রায়নাকে ইন্ডিয়া ব্লু টিমের নেতা করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ভাল পারফর্ম করলে জাতীয় দিলে ফিরে আসতেই পারেন উত্তরপ্রদেশের এই ওয়ান-ডে এবং টি-২০ স্পেশালিস্ট ক্রিকেটারটি। দলীপ ট্রফি জন্য় প্রস্তুতির ব্য়াপারে রায়না বলেন, আমার খেলা পুরনো ম্য়াচের টেপস দেখছি। চারদিনের ম্য়াচ, সেই অনুযায়ী আমায় খেলতে হবে। শচীনের কাছে পরামর্শ নিয়েছি। সেই অনুযায়ী এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ইদানিং সোশ্য়াল মিডিয়াতে বেশি মাত্রায় সক্রীয় রায়না। আর তা নাকি ক্রিকেট গড শচীন তেন্ডুলকরের পরামর্শ মেনেই। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্য়মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রায়না জানিয়েছেন, আমি মানুষকে জানাতে চাই, আমি খাটছি। আমি চুপচাপ বসে নেই। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, ষাট শতাংশ কঠোর পরিশ্রম করতে হয় আর বাকি চল্লিশ শতাংশের জন্য় ভাগ্য়ের প্রয়োজন। যুবরাজকেই দেখুন। কঠোর পরিশ্রম করে দলে ফিরেছিল। শচীন আমাকে একটা ভালো কথা বলেছেন, সব ঠিক আছে। কারওর কাছে তোমার কিছু প্রমাণ করার নেই। তুমি অনেক করেছ। এখন নিজের ক্রিকেট খেলাটা উপভোগ কর। আমি ওটা মেনেই চলছি। আমি জানি, সুযোগ আবার আমার কাছে আসবে। আমি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করছিলাম, তখন ফেসবুক, ট্য়ুইটার এসব ছিল না। পারফর্ম করে নিজেদের জানান দিতে হত। এখনও সেটা করেই আবার দলে ফিরব।

রায়না সম্পর্কে এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল যে তিনি নাকি লোকজনকে বেশি করে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, তা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাতে রাজি নন ভারতীয় দলে খেলা এই ক্রিকেটার। তাঁর বক্তব্য়, কাকে ইম্প্রেস করব? কখনও কখনও আমরা যেটা চাই, সেটা করা উচিত। আমি খাটতে ভালোবাসি। সেই সত্য়িটাই লোকে দেখছে। ভবিষ্য়তে যা লেখা আছে, তা হবে। ব্য়স্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সাহায্য় করতে সময় দেওয়া শচীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রায়না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *